ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক স্খলনে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত শাস্তির দাবি হেফাজতে ইসলামের বিশ্ব পোলিও দিবসে ঢাকায় রোটারি ইন্টারন্যাশনালের র‍্যালি লাল শাড়িতে আইশা, গরমে নাজেহাল ফারিয়া সৌদির বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ: বাতিল-স্থগিত ১৪৪ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল ২৯ অক্টোবর, ফল প্রকাশের বিস্তারিত ২৬ অক্টোবর ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব বন্ধে প্রয়োজনীয় সব করা হবে: ধর্মমন্ত্রী সাঈদীর মামলার সাক্ষীর দাফন নিয়ে উত্তেজনা কলকাতা বিমানবন্দরে পরপর দুই দিন ভুয়া খবরে বোমাতঙ্ক সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও সংবাদমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে তুরস্কে বিক্ষোভ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করলেন বন্ধুরা

সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও সংবাদমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে তুরস্কে বিক্ষোভ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তুরস্কে সাংবাদিকদের ওপর চাপ বাড়ছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে সংবাদমাধ্যম। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে সরকারি প্রশাসক বসানো হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদে শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ছিলেন সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। ‘যথেষ্ট হয়েছে। আমরা আর শ্বাস নিতে পারছি না।’—এমন স্লোগান দেন তাঁরা।

২০১৬ সালে তুরস্কে একটি ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান হয়। এরপর থেকেই দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হতে থাকে। কমতে শুরু করে। ব্যাপকভাবে মামলা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনলাইনে তথ্য ও মতপ্রকাশের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছে।

.

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, গত দুই মাসে ১১ জন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

আজকের বিক্ষোভে পুলিশের তথ্যমতে, ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে অন্তত তিন হাজার মানুষ জড়ো হন। তাঁদের হাতে ছিল বন্দী সাংবাদিকদের ছবি। ‘আমাদের চুপ করানো যাবে না। অনেক হয়েছে, আর নয়।’ ‘আমরা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করব না।’—এমন স্লোগান দেন তাঁরা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেল হাল্ক টিভিতে অভিযান চালায় পুলিশ। চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে বসানো হয় সরকার নিযুক্ত একজন প্রশাসক। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তাঁর সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের মধ্যে এটি সর্বশেষ।

.

এর আগে শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘টি২৪’-এর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সংবাদমাধ্যম ‘এলজিবিটি (সমকামী) প্রোপাগান্ডা’ চালাচ্ছিল।

ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভের পর প্রবীণ সাংবাদিক জাফের আরাপকিরলি এএফপিকে বলেন, ‘এই সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য নয়।’ তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিরগুনের এই কলামিস্ট আরও বলেন, ‘সাংবাদিক ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে তথ্য ও খবর পাওয়ার যে অধিকার সমাজের রয়েছে, তা রক্ষা করাও এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য।’

.

সাংবাদিক আরাপকিরলি নিজেও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি মনে করেন, চাপ যত বাড়বে, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জোর ও রুখে দাঁড়ানোর সংকল্প তত বেশি হবে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এই ধরনের চাপ দিয়ে সমাজকে ভয় দেখাতে ও চুপ করিয়ে রাখতে চায়। এ জন্যই তারা সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করছে, সংবাদমাধ্যম দখল করছে, খবর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিচ্ছে।’

এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই দেখাতে হবে যে আমরা এটা হতে দেব না। আমরা এ পর্যন্ত তা করে দেখিয়েছি। আমার বিশ্বাস, আমরা এখন আরও বড় পরিসরে এই সংকল্প প্রমাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

.

পুলিশের হিসাবে, আঙ্কারা শহরে অন্তত তিন হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা ‘সেন্সরশিপকে না বলুন’ এবং ‘কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি চাই’ বলে স্লোগান দেন।

বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদমাধ্যম টি২৪-এর সমন্বয়ক গোকসার তাহিনসিওগ্লু আঙ্কারায় এএফপিকে বলেন, ‘আজকের এই বিক্ষোভ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি সাংবাদিকদের এক জায়গায় এনে তাঁদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে এটি নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকারকেও রক্ষা করেছে।’

গোকসার আরও বলেন, ‘সাংবাদিকেরা একটি বার্তা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর: আমরা সাংবাদিকতা করতে চাই, আর সেটা স্বাধীনভাবেই করতে চাই।…আমরা যত দ্রুত সম্ভব স্বাধীনভাবে খবর প্রকাশের পরিবেশ ফিরে পেতে চাই।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও সংবাদমাধ্যম বন্ধের প্রতিবাদে তুরস্কে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ১১:৩৮:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

তুরস্কে সাংবাদিকদের ওপর চাপ বাড়ছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে সংবাদমাধ্যম। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে সরকারি প্রশাসক বসানো হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদে শনিবার তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারা শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ছিলেন সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। ‘যথেষ্ট হয়েছে। আমরা আর শ্বাস নিতে পারছি না।’—এমন স্লোগান দেন তাঁরা।

২০১৬ সালে তুরস্কে একটি ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান হয়। এরপর থেকেই দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হতে থাকে। কমতে শুরু করে। ব্যাপকভাবে মামলা দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনলাইনে তথ্য ও মতপ্রকাশের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়েছে।

.

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, গত দুই মাসে ১১ জন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

আজকের বিক্ষোভে পুলিশের তথ্যমতে, ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে অন্তত তিন হাজার মানুষ জড়ো হন। তাঁদের হাতে ছিল বন্দী সাংবাদিকদের ছবি। ‘আমাদের চুপ করানো যাবে না। অনেক হয়েছে, আর নয়।’ ‘আমরা কোনো চাপের কাছে মাথা নত করব না।’—এমন স্লোগান দেন তাঁরা।

চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় নিউজ চ্যানেল হাল্ক টিভিতে অভিযান চালায় পুলিশ। চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে বসানো হয় সরকার নিযুক্ত একজন প্রশাসক। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তাঁর সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের মধ্যে এটি সর্বশেষ।

.

এর আগে শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘টি২৪’-এর ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সংবাদমাধ্যম ‘এলজিবিটি (সমকামী) প্রোপাগান্ডা’ চালাচ্ছিল।

ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভের পর প্রবীণ সাংবাদিক জাফের আরাপকিরলি এএফপিকে বলেন, ‘এই সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য নয়।’ তুরস্কের সংবাদমাধ্যম ডেইলি বিরগুনের এই কলামিস্ট আরও বলেন, ‘সাংবাদিক ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সাহায্যে তথ্য ও খবর পাওয়ার যে অধিকার সমাজের রয়েছে, তা রক্ষা করাও এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য।’

.

সাংবাদিক আরাপকিরলি নিজেও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি মনে করেন, চাপ যত বাড়বে, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জোর ও রুখে দাঁড়ানোর সংকল্প তত বেশি হবে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এই ধরনের চাপ দিয়ে সমাজকে ভয় দেখাতে ও চুপ করিয়ে রাখতে চায়। এ জন্যই তারা সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করছে, সংবাদমাধ্যম দখল করছে, খবর প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দিচ্ছে।’

এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই দেখাতে হবে যে আমরা এটা হতে দেব না। আমরা এ পর্যন্ত তা করে দেখিয়েছি। আমার বিশ্বাস, আমরা এখন আরও বড় পরিসরে এই সংকল্প প্রমাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

.

পুলিশের হিসাবে, আঙ্কারা শহরে অন্তত তিন হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা ‘সেন্সরশিপকে না বলুন’ এবং ‘কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি চাই’ বলে স্লোগান দেন।

বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদমাধ্যম টি২৪-এর সমন্বয়ক গোকসার তাহিনসিওগ্লু আঙ্কারায় এএফপিকে বলেন, ‘আজকের এই বিক্ষোভ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি সাংবাদিকদের এক জায়গায় এনে তাঁদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে এটি নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকারকেও রক্ষা করেছে।’

গোকসার আরও বলেন, ‘সাংবাদিকেরা একটি বার্তা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর: আমরা সাংবাদিকতা করতে চাই, আর সেটা স্বাধীনভাবেই করতে চাই।…আমরা যত দ্রুত সম্ভব স্বাধীনভাবে খবর প্রকাশের পরিবেশ ফিরে পেতে চাই।’