ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লক্ষ্য ছিল সালমান খান! অস্ত্র নিয়ে মুম্বাইয়ে রাধা ও ববিতা টার্মিনাল সরানোর পরিকল্পনা: একযাত্রায় দুই লং জার্নির অভিজ্ঞতা দেওয়া কেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা কালো শাড়িতে পার্টি লুক, রুপালি ব্রালেটে নজর কাড়লেন দেবচন্দ্রিমা সড়ক নিরাপদ রাখতে মুমিনের ৬ করণীয় আর্জেন্টিনার সঙ্গে নতুন চুক্তি করছেন স্কালোনি, থাকবেন কত দিন ‘মাদকের টাকার জন্য’ হামলা থামাতে গিয়ে প্রতিবেশীর ছুরিকাঘাতে যুবকের কবজি বিচ্ছিন্ন স্কুল-কলেজে এগিয়ে মেয়েরা, বিশ্ববিদ্যালয়-চাকরিতে পিছিয়ে কেন যমুনার চরের জীবন নাটোরে শিয়ালের কামড়ে আহত ১১ জন, বন্য প্রাণী বিভাগের সহযোগিতা চেয়েছে প্রশাসন

স্কুল-কলেজে এগিয়ে মেয়েরা, বিশ্ববিদ্যালয়-চাকরিতে পিছিয়ে কেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীদের হার ৪০ শতাংশের নিচে। সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশের কম।

.

প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে ছেলেদের চেয়ে মেয়ের সংখ্যা বেশি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্রটি বদলে যাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজের বাইরে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর হার ৪০ শতাংশের নিচে। 

শুধু তা-ই নয়, পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরিতেও নারীর অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত পর্যায়ে নয়, এখনো তা ৩০ শতাংশের কম। অর্থাৎ শিক্ষার নিচের স্তরে ছাত্রীদের এগিয়ে যাওয়ার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে তা বদলে যাচ্ছে।

.শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, কোচিং-প্রাইভেট বাড়ছে, সঙ্গে ব্যয়ও.

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, আগের তুলনায় শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এর পেছনে পরিবার ও অভিভাবকদের সচেতনতা, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগের ভূমিকা রয়েছে; কিন্তু মাধ্যমিক বা কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া এবং পরে কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে মেয়েদের নানা বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য বাড়ির বাইরে থাকা, পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব, নিরাপদ যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ও বিয়ে—এসব বিষয় অনেক মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ কম হওয়ার পেছনে কোন কারণ কতটা দায়ী, তা বিশদ গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

চাকরির ক্ষেত্রেও বিশেষ করে বদলিযোগ্য কর্মস্থল, দূরবর্তী এলাকায় পদায়ন, নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলানোর মতো বিষয় নারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব বাধা সব নারীর ক্ষেত্রে সমান নয়। আবার সরকারি চাকরিতে নারীর কম প্রতিনিধিত্বের কারণ শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্ত বা বদলির নীতিতে সীমাবদ্ধ—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাবে না।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্কুল-কলেজে মেয়েদের অগ্রগতিকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

.

চাকরির ক্ষেত্রেও বিশেষ করে বদলিযোগ্য কর্মস্থল, দূরবর্তী এলাকায় পদায়ন, নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলানোর মতো বিষয় নারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব বাধা সব নারীর ক্ষেত্রে সমান নয়। আবার সরকারি চাকরিতে নারীর কম প্রতিনিধিত্বের কারণ শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্ত বা বদলির নীতিতে সীমাবদ্ধ—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাবে না।

.

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের হার ৫১ দশমিক ২ শতাংশ। মাধ্যমিকে এ হার ৫৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ছাত্রীদের হার প্রায় ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ছাত্রী ৫৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক কলেজে ৫৩ শতাংশ।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) আওতায় ২০১৫ সালের অনেক আগেই বাংলাদেশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাগত সমতা অর্জন করেছিল। পরবর্তী সময়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ আরও বেড়েছে; কিন্তু উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপগুলোতে সেই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রতিবছর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে শিক্ষা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ব্যানবেইস। সংস্থাটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থী ১১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী ৩৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

.প্রাথমিক শিক্ষায় গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান, গবেষণায় বরাদ্দ সর্বোচ্চ ২ লাখ.

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ ছাড়া ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন সাত লাখের কিছু বেশি। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী প্রায় ৪২ শতাংশ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী প্রায় চার লাখ। সেখানে ছাত্রীদের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ আরও কম।

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে অবশ্য এ চিত্রে পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী প্রায় ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর হার প্রায় ৪৯ শতাংশ। মেডিকেল ও কৃষিশিক্ষার কিছু প্রতিষ্ঠানেও নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলক ভালো। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হার প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ৫০ শতাংশের বেশি।

.

কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫৬২ জন এবং নারী ৪ লাখ ২১ হাজার ৭৮৮ জন। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে নারীর অংশ প্রায় ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষের অংশ ৭১ শতাংশের বেশি।

.

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্রীদের কম অংশগ্রহণের পাশাপাশি সরকারি চাকরিতেও নারীর প্রতিনিধিত্ব কম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মচারীদের পরিসংখ্যান–২০২৫ অনুযায়ী, দেশে সরকারি চাকরির মোট পদ ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। শূন্য পদ প্রায় সোয়া ৫ লাখ।

কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫৬২ জন এবং নারী ৪ লাখ ২১ হাজার ৭৮৮ জন। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে নারীর অংশ প্রায় ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষের অংশ ৭১ শতাংশের বেশি।

উচ্চপর্যায়ের পদে নারীর অংশগ্রহণ আরও কম। গ্রেড–১–এ কর্মরত ১ হাজার ১০৩ কর্মকর্তার মধ্যে নারী ১৬২ জন, অর্থাৎ প্রায় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা রয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৯৭৩ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৪৬ হাজার ৯২৫ জন, অর্থাৎ প্রায় ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে সরকারি চাকরির এই পরিসংখ্যান দিয়ে সব ধরনের কর্মসংস্থানে নারীর অবস্থান বিচার করা যাবে না। বেসরকারি খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক নারী কাজ করছেন। 

.

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা, নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মেয়েরা কেন পিছিয়ে পড়ছেন, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

.

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা, নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মেয়েরা কেন পিছিয়ে পড়ছেন, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মপরিবেশকে আরও নারীবান্ধব করতে হবে। পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার সুযোগ তৈরি করা গেলে নারীদের কর্মজীবনে অংশগ্রহণ ও তা অব্যাহত রাখার পথ আরও সহজ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

স্কুল-কলেজে এগিয়ে মেয়েরা, বিশ্ববিদ্যালয়-চাকরিতে পিছিয়ে কেন

আপডেট সময় : ০১:৩৬:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রীদের হার ৪০ শতাংশের নিচে। সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ ৩০ শতাংশের কম।

.

প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে ছেলেদের চেয়ে মেয়ের সংখ্যা বেশি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্রটি বদলে যাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজের বাইরে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রীর হার ৪০ শতাংশের নিচে। 

শুধু তা-ই নয়, পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরিতেও নারীর অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত পর্যায়ে নয়, এখনো তা ৩০ শতাংশের কম। অর্থাৎ শিক্ষার নিচের স্তরে ছাত্রীদের এগিয়ে যাওয়ার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে তা বদলে যাচ্ছে।

.শিক্ষায় বৈষম্য বেড়েই চলছে, কোচিং-প্রাইভেট বাড়ছে, সঙ্গে ব্যয়ও.

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, আগের তুলনায় শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। এর পেছনে পরিবার ও অভিভাবকদের সচেতনতা, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগের ভূমিকা রয়েছে; কিন্তু মাধ্যমিক বা কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়া এবং পরে কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে মেয়েদের নানা বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য বাড়ির বাইরে থাকা, পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব, নিরাপদ যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ও বিয়ে—এসব বিষয় অনেক মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ কম হওয়ার পেছনে কোন কারণ কতটা দায়ী, তা বিশদ গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

চাকরির ক্ষেত্রেও বিশেষ করে বদলিযোগ্য কর্মস্থল, দূরবর্তী এলাকায় পদায়ন, নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলানোর মতো বিষয় নারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব বাধা সব নারীর ক্ষেত্রে সমান নয়। আবার সরকারি চাকরিতে নারীর কম প্রতিনিধিত্বের কারণ শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্ত বা বদলির নীতিতে সীমাবদ্ধ—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাবে না।

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্কুল-কলেজে মেয়েদের অগ্রগতিকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের পথে বাধাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরিতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

.

চাকরির ক্ষেত্রেও বিশেষ করে বদলিযোগ্য কর্মস্থল, দূরবর্তী এলাকায় পদায়ন, নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলানোর মতো বিষয় নারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। এসব বাধা সব নারীর ক্ষেত্রে সমান নয়। আবার সরকারি চাকরিতে নারীর কম প্রতিনিধিত্বের কারণ শুধু পারিবারিক সিদ্ধান্ত বা বদলির নীতিতে সীমাবদ্ধ—এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যাবে না।

.

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের হার ৫১ দশমিক ২ শতাংশ। মাধ্যমিকে এ হার ৫৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। কলেজ পর্যায়ে ছাত্রীদের হার প্রায় ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ছাত্রী ৫৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিক কলেজে ৫৩ শতাংশ।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) আওতায় ২০১৫ সালের অনেক আগেই বাংলাদেশ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাগত সমতা অর্জন করেছিল। পরবর্তী সময়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ আরও বেড়েছে; কিন্তু উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপগুলোতে সেই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রতিবছর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে শিক্ষা পরিসংখ্যান প্রকাশ করে ব্যানবেইস। সংস্থাটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থী ১১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী ৩৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

.প্রাথমিক শিক্ষায় গবেষণা প্রস্তাব আহ্বান, গবেষণায় বরাদ্দ সর্বোচ্চ ২ লাখ.

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ ছাড়া ৫৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন সাত লাখের কিছু বেশি। তাঁদের মধ্যে ছাত্রী প্রায় ৪২ শতাংশ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী প্রায় চার লাখ। সেখানে ছাত্রীদের হার প্রায় ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ আরও কম।

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে অবশ্য এ চিত্রে পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী প্রায় ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীর হার প্রায় ৪৯ শতাংশ। মেডিকেল ও কৃষিশিক্ষার কিছু প্রতিষ্ঠানেও নারীর অংশগ্রহণ তুলনামূলক ভালো। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হার প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ৫০ শতাংশের বেশি।

.

কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫৬২ জন এবং নারী ৪ লাখ ২১ হাজার ৭৮৮ জন। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে নারীর অংশ প্রায় ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষের অংশ ৭১ শতাংশের বেশি।

.

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ছাত্রীদের কম অংশগ্রহণের পাশাপাশি সরকারি চাকরিতেও নারীর প্রতিনিধিত্ব কম। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মচারীদের পরিসংখ্যান–২০২৫ অনুযায়ী, দেশে সরকারি চাকরির মোট পদ ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন। শূন্য পদ প্রায় সোয়া ৫ লাখ।

কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫৬২ জন এবং নারী ৪ লাখ ২১ হাজার ৭৮৮ জন। অর্থাৎ সরকারি চাকরিতে নারীর অংশ প্রায় ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষের অংশ ৭১ শতাংশের বেশি।

উচ্চপর্যায়ের পদে নারীর অংশগ্রহণ আরও কম। গ্রেড–১–এ কর্মরত ১ হাজার ১০৩ কর্মকর্তার মধ্যে নারী ১৬২ জন, অর্থাৎ প্রায় ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তা রয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ৯৭৩ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৪৬ হাজার ৯২৫ জন, অর্থাৎ প্রায় ২২ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে সরকারি চাকরির এই পরিসংখ্যান দিয়ে সব ধরনের কর্মসংস্থানে নারীর অবস্থান বিচার করা যাবে না। বেসরকারি খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক নারী কাজ করছেন। 

.

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা, নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মেয়েরা কেন পিছিয়ে পড়ছেন, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

.

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা, নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মেয়েরা কেন পিছিয়ে পড়ছেন, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মপরিবেশকে আরও নারীবান্ধব করতে হবে। পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার সুযোগ তৈরি করা গেলে নারীদের কর্মজীবনে অংশগ্রহণ ও তা অব্যাহত রাখার পথ আরও সহজ হবে।