ঢাকা ০৬:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মহানবমীর পূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেবী দুর্গার কাছে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় মহানবমীর পূজা ও অঞ্জলি দিয়েছেন ভক্তরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ পূজারিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, ঢাক ও কাঁসর ঘণ্টার শব্দে চলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে কেনাকাটা করেন।

দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহানবমী। এদিন দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির বিজয় কামনা করেন ভক্তরা। দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল।

ব্যক্তিগত কল্যাণের পাশাপাশি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাও মহানবমীর প্রার্থনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। আগামীকাল বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।

আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের সঙ্গে ভক্তরা উলুধ্বনি দেন। কেউ দুই হাত জোড় করে প্রণাম করেন। কেউ হাত তুলে দেবী দুর্গার জয়ধ্বনি দেন।

বেলা ১১টার দিকে ভক্তদের হাতে অঞ্জলির ফুল ও বেলপাতা দেওয়া হয়। সোয়া ১১টার দিকে অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে পূজার এই পর্ব শেষ হয়।

স্ত্রী খুমপুই ত্রিপুরা, দুই ছেলে অভিরাজ ও অভিরুপকে নিয়ে পূজা দিতে এসেছিলেন সরকারি কর্মকর্তা অজিত দেব। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন গৃহসহায়ক উরিনা ত্রিপুরা। তাঁরা থাকেন ধানমন্ডিতে।

অজিত দেব বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে পেরে ভালো লাগছে। সন্তানদের নিয়ে পূজায় আসা শুধু ধর্মীয় আচার পালনের বিষয় নয়, তাদের কাছে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরারও একটি সুযোগ। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সবার জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও মঙ্গল আসুক। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই যেন মিলেমিশে ভালো থাকতে পারি।’

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে পূজার পাশাপাশি বসেছে মেলা। বিভিন্ন স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে গৃহস্থালির বাসনকোসন, চুড়ি, গয়না, কাপড়চোপড় ও শিশুদের খেলনা। পূজা দিতে আসা অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলা ঘুরে দেখছেন, পছন্দের জিনিস কিনছেন।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উপদেষ্টা অরূপরতন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মহালয়া থেকে ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমী—দুর্গোৎসবের প্রতিটি পর্ব এবার ভালোভাবে উদ্‌যাপন করা গেছে। মহানবমীর পূজাও সুন্দরভাবে উদ্‌যাপন করতে পারায় তাঁরা আনন্দিত। এ জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশার কথাও বলেন অরূপরতন চৌধুরী। তিনি বলেন, মা দুর্গা দুর্গতি নাশ ও অসুর বিনাশের প্রতীক। মানুষের মধ্যে যে অশুভ প্রবৃত্তি ও অশান্তি রয়েছে, দেবীর কাছে তার বিনাশ কামনা করেন তাঁরা। দেশে যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে এবং সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করতে পারে, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।

মহানবমীর তাৎপর্য তুলে ধরেন অরূপরতন চৌধুরী। তিনি বলেন, নবমীতে দেবীর আশীর্বাদের মধ্য দিয়ে ভক্তরা তাঁর বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনা করেন। বিজয়া দশমীর আগে দেবীর কাছে তাঁদের প্রার্থনা, সবাই যেন শান্তিতে থাকেন। অন্যায়-অবিচার থেকে দূরে থাকেন। অন্যের প্রতি খারাপ আচরণ না করেন। সবাই যেন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেটিই তাঁদের আশা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

মহানবমীর পূজায় শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা

আপডেট সময় : ০৪:১৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দেবী দুর্গার কাছে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় মহানবমীর পূজা ও অঞ্জলি দিয়েছেন ভক্তরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ পূজারিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে। মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, ঢাক ও কাঁসর ঘণ্টার শব্দে চলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে কেনাকাটা করেন।

দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি মহানবমী। এদিন দেবী দুর্গার আরাধনার মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির বিজয় কামনা করেন ভক্তরা। দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল।

ব্যক্তিগত কল্যাণের পাশাপাশি সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাও মহানবমীর প্রার্থনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। আগামীকাল বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।

আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের সঙ্গে ভক্তরা উলুধ্বনি দেন। কেউ দুই হাত জোড় করে প্রণাম করেন। কেউ হাত তুলে দেবী দুর্গার জয়ধ্বনি দেন।

বেলা ১১টার দিকে ভক্তদের হাতে অঞ্জলির ফুল ও বেলপাতা দেওয়া হয়। সোয়া ১১টার দিকে অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে পূজার এই পর্ব শেষ হয়।

স্ত্রী খুমপুই ত্রিপুরা, দুই ছেলে অভিরাজ ও অভিরুপকে নিয়ে পূজা দিতে এসেছিলেন সরকারি কর্মকর্তা অজিত দেব। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন গৃহসহায়ক উরিনা ত্রিপুরা। তাঁরা থাকেন ধানমন্ডিতে।

অজিত দেব বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করতে পেরে ভালো লাগছে। সন্তানদের নিয়ে পূজায় আসা শুধু ধর্মীয় আচার পালনের বিষয় নয়, তাদের কাছে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরারও একটি সুযোগ। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, সবার জীবনে শান্তি, সুস্থতা ও মঙ্গল আসুক। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই যেন মিলেমিশে ভালো থাকতে পারি।’

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে পূজার পাশাপাশি বসেছে মেলা। বিভিন্ন স্টলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে গৃহস্থালির বাসনকোসন, চুড়ি, গয়না, কাপড়চোপড় ও শিশুদের খেলনা। পূজা দিতে আসা অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলা ঘুরে দেখছেন, পছন্দের জিনিস কিনছেন।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উপদেষ্টা অরূপরতন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মহালয়া থেকে ষষ্ঠী, সপ্তমী ও অষ্টমী—দুর্গোৎসবের প্রতিটি পর্ব এবার ভালোভাবে উদ্‌যাপন করা গেছে। মহানবমীর পূজাও সুন্দরভাবে উদ্‌যাপন করতে পারায় তাঁরা আনন্দিত। এ জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশার কথাও বলেন অরূপরতন চৌধুরী। তিনি বলেন, মা দুর্গা দুর্গতি নাশ ও অসুর বিনাশের প্রতীক। মানুষের মধ্যে যে অশুভ প্রবৃত্তি ও অশান্তি রয়েছে, দেবীর কাছে তার বিনাশ কামনা করেন তাঁরা। দেশে যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে এবং সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করতে পারে, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।

মহানবমীর তাৎপর্য তুলে ধরেন অরূপরতন চৌধুরী। তিনি বলেন, নবমীতে দেবীর আশীর্বাদের মধ্য দিয়ে ভক্তরা তাঁর বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনা করেন। বিজয়া দশমীর আগে দেবীর কাছে তাঁদের প্রার্থনা, সবাই যেন শান্তিতে থাকেন। অন্যায়-অবিচার থেকে দূরে থাকেন। অন্যের প্রতি খারাপ আচরণ না করেন। সবাই যেন সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেটিই তাঁদের আশা করেন।