ঢাকা ১০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি লিখে না দিলে কবর দিতে দেবেন না—এমন হুমকির অভিযোগ অস্বীকার কৃষক দল নেতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জমি লিখে না দিলে কবর দিতে দেবেন না—এমন হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক সুলায়মান হোসাইন। তাঁর দাবি, ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার বেলা একটার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে ‘প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলনে’ এ কথাগুলো বলেন কৃষক দল নেতা সুলায়মান হোসাইন। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামের বাসিন্দা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সুলায়মানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন একই গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন (৮২)। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বসতঘর থেকে সুলায়মানের বসতঘরের দূরত্ব ১০ ফুটের মতো। বাড়িতে এসেই রাতের বেলা আমার ঘরে ঢুকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে এবং বলে, “কাগজে সই করে দাও, নইলে মরলে কবরে মাটি দিতে দেব না”।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষক দল নেতা সুলায়মান হোসাইন বলেন, জমির জন্য কোনো সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, সালিসে সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত লেখার পর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে সুলায়মান হোসাইন আরও দাবি করেন, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি কৌশলে দখলে নেন প্রতিবেশী আলতাফ হোসেন। সম্পর্কে তিনি সুলায়মান হোসেনের দাদা ইসমাইল হোসেনের আপন ভাই। পরে তাঁদের ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ ওই জমি ১৯৯২ সালের ১১ জানুয়ারি তাঁর দাদা ইসমাইল হোসেন বাবা ইয়াকুব আলীকে সাফ কবলামূলে দলিল করে দিয়েছিলেন। এরপর পৈতৃক সেই জমি বুঝে নিতে গেলে দাদা আলতাফ হোসেনদের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়।

তবে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন আলতাফ হোসেনের দেওয়া কাগজপত্রে দাবি করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমি ১৯৯১ সালের ২৪ ডিসেম্বর সুলায়মান হোসেনের দাদা ইসমাইল হোসেন তাঁর কাছে বিক্রি করে দেন, যার দলিল নম্বর ৬৭৪৫। ২০২৩ সালের ভূমি প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া যায় বলেও দাবি করা হয়।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে কৃষক দল নেতা সুলায়মান একটি সালিসের বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০২৫ সালের ২৩ জুন আমার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ওই সময় সাংবাদিকদের সামনেই আমার এবং আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ওই বছরের ১২ জুলাই সালিস মীমাংসা ডাকা হয়। যেখানে তাঁরা স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন এবং সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে ১৫ শতক জমি দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং উভয় পক্ষই স্বাক্ষর করেন।’

সুলায়মান হোসাইন বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আলতাফ হোসেনের ছেলে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইউসুফ হোসেন নূর নানাভাবে পুলিশ প্রশাসন ও আদালত প্রাঙ্গণে প্রভাব খাটিয়ে ন্যায়বিচার পেতে ব্যাহত করছেন। এ ছাড়া ভূমি প্রতিরোধ মামলায় পিবিআইয়ের তদন্তকালে প্রভাব খাটিয়ে পক্ষে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউসুফ হোসেন নূর দাবি করেন, ওই সালিসে তাঁদের ধমক দিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই সালিসের গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও দেন তিনি।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সালিস বৈঠকের এক কোণে বসেছিলেন আলতাফ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে তাঁদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতে চাইলে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। তখন ইউসুফ হোসেন নূরকে ধমকাতে থাকেন এক ব্যক্তি। একপর্যায়ে সাদা কাগজে উভয় পক্ষ ও উপস্থিত ব্যক্তিদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

জমি লিখে না দিলে কবর দিতে দেবেন না—এমন হুমকির অভিযোগ অস্বীকার কৃষক দল নেতার

আপডেট সময় : ১০:৩৬:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

জমি লিখে না দিলে কবর দিতে দেবেন না—এমন হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক সুলায়মান হোসাইন। তাঁর দাবি, ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার বেলা একটার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে ‘প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলনে’ এ কথাগুলো বলেন কৃষক দল নেতা সুলায়মান হোসাইন। তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামের বাসিন্দা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সুলায়মানের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন একই গ্রামের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন (৮২)। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বসতঘর থেকে সুলায়মানের বসতঘরের দূরত্ব ১০ ফুটের মতো। বাড়িতে এসেই রাতের বেলা আমার ঘরে ঢুকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে এবং বলে, “কাগজে সই করে দাও, নইলে মরলে কবরে মাটি দিতে দেব না”।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষক দল নেতা সুলায়মান হোসাইন বলেন, জমির জন্য কোনো সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, সালিসে সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত লেখার পর স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

লিখিত বক্তব্যে সুলায়মান হোসাইন আরও দাবি করেন, তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তি কৌশলে দখলে নেন প্রতিবেশী আলতাফ হোসেন। সম্পর্কে তিনি সুলায়মান হোসেনের দাদা ইসমাইল হোসেনের আপন ভাই। পরে তাঁদের ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, বিরোধপূর্ণ ওই জমি ১৯৯২ সালের ১১ জানুয়ারি তাঁর দাদা ইসমাইল হোসেন বাবা ইয়াকুব আলীকে সাফ কবলামূলে দলিল করে দিয়েছিলেন। এরপর পৈতৃক সেই জমি বুঝে নিতে গেলে দাদা আলতাফ হোসেনদের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়।

তবে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন আলতাফ হোসেনের দেওয়া কাগজপত্রে দাবি করা হয়, বিরোধপূর্ণ জমি ১৯৯১ সালের ২৪ ডিসেম্বর সুলায়মান হোসেনের দাদা ইসমাইল হোসেন তাঁর কাছে বিক্রি করে দেন, যার দলিল নম্বর ৬৭৪৫। ২০২৩ সালের ভূমি প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া যায় বলেও দাবি করা হয়।

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে কৃষক দল নেতা সুলায়মান একটি সালিসের বিষয় তুলে ধরে বলেন, ‘পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ২০২৫ সালের ২৩ জুন আমার বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ওই সময় সাংবাদিকদের সামনেই আমার এবং আমার পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে ওই বছরের ১২ জুলাই সালিস মীমাংসা ডাকা হয়। যেখানে তাঁরা স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন এবং সালিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে ১৫ শতক জমি দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় এবং উভয় পক্ষই স্বাক্ষর করেন।’

সুলায়মান হোসাইন বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আলতাফ হোসেনের ছেলে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইউসুফ হোসেন নূর নানাভাবে পুলিশ প্রশাসন ও আদালত প্রাঙ্গণে প্রভাব খাটিয়ে ন্যায়বিচার পেতে ব্যাহত করছেন। এ ছাড়া ভূমি প্রতিরোধ মামলায় পিবিআইয়ের তদন্তকালে প্রভাব খাটিয়ে পক্ষে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউসুফ হোসেন নূর দাবি করেন, ওই সালিসে তাঁদের ধমক দিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ওই সালিসের গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিও দেন তিনি।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সালিস বৈঠকের এক কোণে বসেছিলেন আলতাফ হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে তাঁদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর করতে বলা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে আদালতে যেতে চাইলে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। তখন ইউসুফ হোসেন নূরকে ধমকাতে থাকেন এক ব্যক্তি। একপর্যায়ে সাদা কাগজে উভয় পক্ষ ও উপস্থিত ব্যক্তিদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়।