ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজীপুরে শ্রমিক–পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৩০; পুলিশের গাড়িসহ ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর ‘ওই যে আর ডি বর্মনের বাপ যাচ্ছে!’ প্রথম দিনে মিঠুন–নুরুলের সেঞ্চুরি বার্লিনের সৌদি দূতাবাসের সামনে প্রবাসীদের প্রতিবাদ সৌদি আরবে আগুনে নিহত নওগাঁর পাঁচজনের লাশ বাড়িতে ফিরল তিন মাস পর ব্র্যাকে ডিপ্লোমা পাসে চাকরির সুযোগ, আছে পিতৃত্বকালীন ছুটি এবার আপনিও হতে পারেন ফ্যাশন হাউসের মডেল, পাবেন মাসিক বেতন জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু ২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি: স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫

যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যশোর শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৫৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই সঙ্গে ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর ৫ হাজার ৯৯৫ জন জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন।

ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে খারাপ করায় এমন ফল হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তবে বিষয়টিকে ফল বিপর্যয় বলতে নারাজ বোর্ডের কর্মকর্তারা। যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আবদুল মতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ফলাফল বিপর্যয় নয়; এটি সঠিক মূল্যায়নের প্রতিফলন। আমরা শিক্ষার গুণগত মান বা কোয়ালিটি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছি।’

.

যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার ৫৭০টি কলেজের ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন, পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ৫ শতাংশ কমেছে।

ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আকিজ কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে না আসার একধরনের অসুস্থ প্রবণতা আছে। এটা ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী পরীক্ষার ও বোর্ডের পরীক্ষার মধ্যে প্রায় তিন মাস সময় থাকে। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তেমন সম্পর্ক থাকে না। যে কারণে তাঁদের লেখাপড়ায় ঢিলেমি চলে আসে। নির্বাচনী পরীক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কমাতে পারলে ভবিষ্যতে বিপর্যয় এড়ানো যেতে পারে।

.

যশোর সদর উপজেলা আল হেরা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার ৪১৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের অর্ধেকের বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। কেউ জিপিএ–৫ পাননি। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে নম্বর কম পাওয়ায় বেশির ভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তিনি বলেন, কলেজটি মফস্‌সলে হওয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো শিক্ষার্থী ভর্তি হন না বললেই চলে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার বাড়ায় তাঁরা এটিকে ফল বিপর্যয় বলতে চান না।

.

এদিকে যশোর বোর্ডে এবার শতভাগ পাস করা ও শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। চলতি বছর তিনটি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছেন। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠান ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে কেউ পাস করতে পারেননি, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬টি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০টি।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষা গ্রহণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ফল পুনর্নিরীক্ষার জন্য প্রার্থীরা আগামীকাল রোববার থেকে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫

আপডেট সময় : ০৬:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

যশোর শিক্ষা বোর্ডে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৫৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। একই সঙ্গে ফলাফলের সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ–৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর ৫ হাজার ৯৯৫ জন জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন।

ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে খারাপ করায় এমন ফল হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। তবে বিষয়টিকে ফল বিপর্যয় বলতে নারাজ বোর্ডের কর্মকর্তারা। যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আবদুল মতিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি ফলাফল বিপর্যয় নয়; এটি সঠিক মূল্যায়নের প্রতিফলন। আমরা শিক্ষার গুণগত মান বা কোয়ালিটি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছি।’

.

যশোর শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার ৫৭০টি কলেজের ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন, পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ৫ শতাংশ কমেছে।

ফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার আকিজ কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. কামরুজ্জামান বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে না আসার একধরনের অসুস্থ প্রবণতা আছে। এটা ফলাফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী পরীক্ষার ও বোর্ডের পরীক্ষার মধ্যে প্রায় তিন মাস সময় থাকে। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তেমন সম্পর্ক থাকে না। যে কারণে তাঁদের লেখাপড়ায় ঢিলেমি চলে আসে। নির্বাচনী পরীক্ষা ও বোর্ড পরীক্ষার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কমাতে পারলে ভবিষ্যতে বিপর্যয় এড়ানো যেতে পারে।

.

যশোর সদর উপজেলা আল হেরা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবার ৪১৮ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের অর্ধেকের বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। কেউ জিপিএ–৫ পাননি। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে নম্বর কম পাওয়ায় বেশির ভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। তিনি বলেন, কলেজটি মফস্‌সলে হওয়ায় জিপিএ-৫ পাওয়ার মতো শিক্ষার্থী ভর্তি হন না বললেই চলে। গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার বাড়ায় তাঁরা এটিকে ফল বিপর্যয় বলতে চান না।

.

এদিকে যশোর বোর্ডে এবার শতভাগ পাস করা ও শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। চলতি বছর তিনটি প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছেন। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠান ছিল পাঁচটি। অন্যদিকে কেউ পাস করতে পারেননি, এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬টি। গত বছর এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০টি।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষা গ্রহণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ফল পুনর্নিরীক্ষার জন্য প্রার্থীরা আগামীকাল রোববার থেকে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।