ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অরুণাচলের বিশিষ্ট সাংবাদিক তোঙ্গম রিনার বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দায় প্রেসক্লাব মুল্ডার–রিকেলটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৮ রানের লক্ষ্য দিল দক্ষিণ আফ্রিকা যুদ্ধের গল্প শুনতে মুক্তিযোদ্ধার উঠানে বন্ধুসভার তরুণেরা আগামীকাল জার্মানির ৩০টির বেশি শহরে জেন-জি বিক্ষোভ মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি, ডিপি ওয়ার্ল্ডের ইজারা বাতিল না হলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ সমর্থকদেরই শাস্তি দিল বার্সেলোনা, বন্ধ থাকবে গ্যালারি বিমানবন্দরে বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ সাঙ্গাকারার, পাল্টা জবাব রায়ানএয়ারের গভীর রাতে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ, সকালে মিলল লাশ লাপিদের জয় দাবি, নেতানিয়াহুর কঠিন পথ আজ রাতে হরর মুভি দেখার প্ল্যান করছেন? দেখুন ভয় পেলে আপনার শরীরে কী কী ঘটে

গভীর রাতে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ, সকালে মিলল লাশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ঘর থেকে অস্ত্রের মুখে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার জামতলী আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-১৫) ডি-৩ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. আয়াছ (২০)। তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্য বলে ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে। আর আহত ব্যক্তির নাম সৈয়দ মোহাম্মদ (২৪)। তিনিও আরএসওর সদস্য। গতকাল রাতে তাঁরা দুজন একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, এ ঘটনায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা জড়িত।

.

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আহত সৈয়দ মোহাম্মদকে আশ্রয়শিবিরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা কামাল আহমদ দাবি করেন, আরসার এক ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জামতলী ক্যাম্পের ডি ব্লকের একটি ঘরে ঢোকেন। সেখান থেকে ঘুমিয়ে থাকা আয়াছ ও সৈয়দ মোহাম্মদকে তুলে নিয়ে যান তাঁরা। পরে অপহরণকারীরা তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

.

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, অপহরণের পর আজ শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে আয়াছ ও সৈয়দকে আরসার এক কমান্ডারের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আয়াছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। আর সৈয়দ মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।

ওই রোহিঙ্গা নেতা আরও বলেন, আজ সকাল আটটার দিকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-৮) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আয়াছের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সেখান থেকে আহত সৈয়দ মোহাম্মদকে উদ্ধার করে আশ্রয়শিবিরের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।

.

রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ১০ অক্টোবর ১৫ নম্বর জামতলী আশ্রয়শিবির থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মো. ওমাইর (৪) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা শিশুটির বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর আগে গত জুনে উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-৯) পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলহামকে অপহরণ করে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার পরও হত্যা করা হয়। জানুয়ারিতে উখিয়ার ১৯ নম্বর ক্যাম্প থেকে শিশু আরাকানকে অপহরণ করে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রেখেছিল দুর্বৃত্তরা। এ সময় মুক্তিপণের জন্য শিশুটির ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে মুক্তিপণের বিনিময়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

গভীর রাতে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ, সকালে মিলল লাশ

আপডেট সময় : ০৯:০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের ঘর থেকে অস্ত্রের মুখে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার জামতলী আশ্রয়শিবিরে (ক্যাম্প-১৫) ডি-৩ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম মো. আয়াছ (২০)। তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) সদস্য বলে ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে। আর আহত ব্যক্তির নাম সৈয়দ মোহাম্মদ (২৪)। তিনিও আরএসওর সদস্য। গতকাল রাতে তাঁরা দুজন একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, এ ঘটনায় সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা জড়িত।

.

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আহত সৈয়দ মোহাম্মদকে আশ্রয়শিবিরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা কামাল আহমদ দাবি করেন, আরসার এক ক্যাম্প কমান্ডারের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জামতলী ক্যাম্পের ডি ব্লকের একটি ঘরে ঢোকেন। সেখান থেকে ঘুমিয়ে থাকা আয়াছ ও সৈয়দ মোহাম্মদকে তুলে নিয়ে যান তাঁরা। পরে অপহরণকারীরা তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

.

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, অপহরণের পর আজ শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে আয়াছ ও সৈয়দকে আরসার এক কমান্ডারের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আয়াছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। আর সৈয়দ মোহাম্মদ গুরুতর আহত হন।

ওই রোহিঙ্গা নেতা আরও বলেন, আজ সকাল আটটার দিকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-৮) সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আয়াছের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে সেখান থেকে আহত সৈয়দ মোহাম্মদকে উদ্ধার করে আশ্রয়শিবিরের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।

.

রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। আশ্রয়শিবিরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি ১০ অক্টোবর ১৫ নম্বর জামতলী আশ্রয়শিবির থেকে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর মো. ওমাইর (৪) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা শিশুটির বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনসার বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর আগে গত জুনে উখিয়ার বালুখালী আশ্রয়শিবিরের (ক্যাম্প-৯) পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলহামকে অপহরণ করে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ নেওয়ার পরও হত্যা করা হয়। জানুয়ারিতে উখিয়ার ১৯ নম্বর ক্যাম্প থেকে শিশু আরাকানকে অপহরণ করে গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রেখেছিল দুর্বৃত্তরা। এ সময় মুক্তিপণের জন্য শিশুটির ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে মুক্তিপণের বিনিময়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।