ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিল্পকলা একাডেমির সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা শিমু হত্যা মামলায় সাফাই সাক্ষ্য ১৯ নভেম্বর ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিরও অভিশংসন চায় তারা অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ে অঘটন… ইতালিজুড়ে তরুণদের বিক্ষোভ-সহিংসতার পেছনে কী, উদ্বেগে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও গুলশানে কিংফিশার রেস্তোরাঁয় অভিযান: বিলবোর্ডের আড়ালে গোপন গুদাম, বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ আ.লীগ আমলের পরিস্থিতি তুলে ধরে পিরোজপুরে মানিক পশারীর দাফনে বাধার নিন্দা জানালেন নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান ব্যালন ডি’অর: মেসি, এমবাপ্পে, কেইন, ইয়ামালে আলো ঝলমলে লন্ডন পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সেতুর অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

গুলশানে কিংফিশার রেস্তোরাঁয় অভিযান: বিলবোর্ডের আড়ালে গোপন গুদাম, বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর গুলশানে ‘কিংফিশার’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৩৫৯ লিটার মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত দল। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ অভিযান চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। এ সময় রেস্তোরাঁটির প্রদর্শনী ও গুদামের পাশাপাশি একটি বিলবোর্ডের আড়ালে থাকা গোপন কক্ষ থেকে রেজিস্ট্রারে নথিভুক্ত না থাকা এসব বিদেশি মদ ও বিয়ারের সন্ধান পাওয়া যায়।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ। এ সময় মূসক ও কর গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

.

রেজভী আহম্মেদ বলেন, অভিযানের সময় পোষা প্রাণী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়। ক্রেতার তুলনায় সেখানে শেলফে রাখা মদ ছিল কম। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় বিলবোর্ড খোলা হয়। সেখানকার গোপন কক্ষের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অসহযোগিতা করা হয়। কক্ষের দরজার চাবি দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়। তবে অভিযানে বাধা দেওয়া হয়নি। তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য, বিশেষ করে মদ ও মদজাতীয় পানীয় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল পণ্যের বৈধ উৎস যাচাই, বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি হয়েছে কি না, বিক্রয়লব্ধ অর্থ আয়কর নথিতে দেখানো হয়েছে কি না এবং লেনদেনে অর্থ পাচারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।

কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮২৬ লিটার মদ এবং দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫৩৩ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে শিভাস রিগ্যাল, ব্ল্যাক লেবেল, রেড লেবেল, জ্যাক ড্যানিয়েলস, গোল্ড লেবেল, গর্ডনস জিন ও অ্যাবসলিউট ভদকা। এ ছাড়া হান্টার, হাইনেকেনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিয়ার পাওয়া গেছে।

.

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জব্দ পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৯১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। তবে প্রযোজ্য শুল্ক ও করসহ এগুলোর মোট মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এনবিআর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি মদ আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত নয়। অভিযানের সময় তারা দেশি-বিদেশি মদ ও বিয়ার কেনাবেচার কোনো বৈধ চালান বা নথি উপস্থাপন করতে পারেনি।

অভিযানে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে সহায়তা করেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-১) সদস্যরা। প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালকের তথ্যও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

.

জানতে চাইলে এসআরবি-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম খান রাতে প্রথম আলোকে বলেন, অভিযানে অংশ নেওয়া সরকারি সংস্থার সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি-১-এর একটি দল অংশ নিয়েছিল।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান রাতে প্রথম আলোকে জানান, এ ঘটনায় গুলশান থানায় কোনো মামলা হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

গুলশানে কিংফিশার রেস্তোরাঁয় অভিযান: বিলবোর্ডের আড়ালে গোপন গুদাম, বিপুল মদ-বিয়ার জব্দ

আপডেট সময় : ০৩:০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর গুলশানে ‘কিংফিশার’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৩৫৯ লিটার মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত দল। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ অভিযান চলে প্রায় তিন ঘণ্টা। এ সময় রেস্তোরাঁটির প্রদর্শনী ও গুদামের পাশাপাশি একটি বিলবোর্ডের আড়ালে থাকা গোপন কক্ষ থেকে রেজিস্ট্রারে নথিভুক্ত না থাকা এসব বিদেশি মদ ও বিয়ারের সন্ধান পাওয়া যায়।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ। এ সময় মূসক ও কর গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

.

রেজভী আহম্মেদ বলেন, অভিযানের সময় পোষা প্রাণী দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়। ক্রেতার তুলনায় সেখানে শেলফে রাখা মদ ছিল কম। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় বিলবোর্ড খোলা হয়। সেখানকার গোপন কক্ষের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অসহযোগিতা করা হয়। কক্ষের দরজার চাবি দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়। তবে অভিযানে বাধা দেওয়া হয়নি। তাই কাউকে আটক করা হয়নি। তবে তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উচ্চ শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য, বিশেষ করে মদ ও মদজাতীয় পানীয় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সংগ্রহ ও বিক্রি করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল পণ্যের বৈধ উৎস যাচাই, বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি হয়েছে কি না, বিক্রয়লব্ধ অর্থ আয়কর নথিতে দেখানো হয়েছে কি না এবং লেনদেনে অর্থ পাচারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।

কাস্টমস গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮২৬ লিটার মদ এবং দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের ১ হাজার ৫৩৩ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়। এসব ব্র্যান্ডের মধ্যে রয়েছে শিভাস রিগ্যাল, ব্ল্যাক লেবেল, রেড লেবেল, জ্যাক ড্যানিয়েলস, গোল্ড লেবেল, গর্ডনস জিন ও অ্যাবসলিউট ভদকা। এ ছাড়া হান্টার, হাইনেকেনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিয়ার পাওয়া গেছে।

.

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জব্দ পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৯১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। তবে প্রযোজ্য শুল্ক ও করসহ এগুলোর মোট মূল্য প্রায় ৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এনবিআর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি মদ আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত নয়। অভিযানের সময় তারা দেশি-বিদেশি মদ ও বিয়ার কেনাবেচার কোনো বৈধ চালান বা নথি উপস্থাপন করতে পারেনি।

অভিযানে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। এতে সহায়তা করেন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি-১) সদস্যরা। প্রতিষ্ঠানটির চারজন পরিচালকের তথ্যও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

.

জানতে চাইলে এসআরবি-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম খান রাতে প্রথম আলোকে বলেন, অভিযানে অংশ নেওয়া সরকারি সংস্থার সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি-১-এর একটি দল অংশ নিয়েছিল।

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান রাতে প্রথম আলোকে জানান, এ ঘটনায় গুলশান থানায় কোনো মামলা হয়নি।