ঢাকা ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সংখ্যালঘুদের ভোটে নজর বিএনপি ও জামায়াতের শেরেবাংলা: কবি জসীমউদ্‌দীনের স্মৃতিতে সার্বিয়ার নির্বাচনে দীর্ঘদিনের শাসক আলেকসান্দার ভুচিসের ভরাডুবি, তরুণদের জয় জনবল নিয়োগ দিয়ে শোধনাগার চালু করুন বৃদ্ধ ভ্যানচালকের পাশে পঞ্চগড় বন্ধুসভা, মেরামত করে দিল ভ্যান প্রতিবন্ধী চার ভাই-বোনের কষ্টের জীবন কোটি টাকার ফেলোশিপ-বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন আশফাকুর রহমান কর্মক্ষেত্রে বেশি মানসিক চাপে থাকেন ইউরোপের যে ১০ দেশের কর্মীরা খেজুরের মিষ্টতা, কুমড়ার বীজের পুষ্টি: নাশতায় দারুণ এক জুটি দেশের জন্য জীবন বাজি রাখতে ‘জানফাদা’, যুক্ত তিন কোটি ইরানি, আছেন তরুণীরাও

জনবল নিয়োগ দিয়ে শোধনাগার চালু করুন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেহেরপুর পৌরসভায় যেখানে পানির উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সেখানে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার চার বছরেও চালু না হওয়াটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে একদিকে যেমন নাগরিকেরা সুপেয় পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁদেরই করের টাকায় করা প্রকল্প কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে।

প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, মেহেরপুর পৌরসভার সুপেয় পানির সংকট নিরসনে শহরের পশুর হাটসংলগ্ন এলাকায় নতুন ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের কাজ ২০১৫ সালে শুরু করেছিল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২২ সালের এপ্রিলে নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শোধনাগারটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

.

মেহেরপুর পৌরসভায় পানিসংকট যে কতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে, সেটা পৌর শহরের বাসিন্দাদের ভাষ্যেই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা পানিতে ময়লা, পোকা ও শেওলা আসে। গোসল ও কাপড় ধোয়ার মতো কাজেই শুধু সেই পানি ব্যবহার করা যায়, পান করা যায় না।

পৌর কর্তৃপক্ষের হিসাব থেকেও দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার। সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ লিটার। ফলে অনেককেই সাবমার্বিসল পাম্প বসিয়ে কিংবা পানি কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পানির অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নাগরিকদেরও বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শহরের পানি সরবরাহব্যবস্থার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনের ৫৫ শতাংশে আয়রন জমে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় একেবারেই পানি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে নতুন শোধনাগার চালু করলেই যে সমস্যার সমাধান হবে, তা-ও নয়। উৎপাদনের পাশাপাশি পানি নিরাপদভাবে মানুষের বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থাটিও সচল করতে হবে।

.

এ ক্ষেত্রে পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য হতাশাজনক। অধিদপ্তর বলছে, শোধনাগারটি চালু অবস্থায় পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে পৌরসভা বলছে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল ও অর্থ না থাকায় সেটি চালু করা যাচ্ছে না। প্রশ্ন হচ্ছে, যে প্রতিষ্ঠান শোধনাগার পরিচালনা করবে, তার প্রয়োজনীয় জনবল ও সক্ষমতা নিশ্চিত না করেই এত বড় প্রকল্প নেওয়া হলো কেন? আবার হস্তান্তরের পরও সেটি চালু না করার দায়ই-বা কে নেবে?

নতুন পানি শোধনাগার করার পরও এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভাকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন শোধনাগারটি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো পাইপলাইন সংস্কার বা প্রতিস্থাপন এবং নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। নাগরিকদের সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

জনবল নিয়োগ দিয়ে শোধনাগার চালু করুন

আপডেট সময় : ০৯:২৮:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মেহেরপুর পৌরসভায় যেখানে পানির উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সেখানে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার চার বছরেও চালু না হওয়াটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে একদিকে যেমন নাগরিকেরা সুপেয় পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁদেরই করের টাকায় করা প্রকল্প কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে।

প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, মেহেরপুর পৌরসভার সুপেয় পানির সংকট নিরসনে শহরের পশুর হাটসংলগ্ন এলাকায় নতুন ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের কাজ ২০১৫ সালে শুরু করেছিল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২২ সালের এপ্রিলে নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে শোধনাগারটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

.

মেহেরপুর পৌরসভায় পানিসংকট যে কতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে, সেটা পৌর শহরের বাসিন্দাদের ভাষ্যেই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা পানিতে ময়লা, পোকা ও শেওলা আসে। গোসল ও কাপড় ধোয়ার মতো কাজেই শুধু সেই পানি ব্যবহার করা যায়, পান করা যায় না।

পৌর কর্তৃপক্ষের হিসাব থেকেও দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার। সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ লিটার। ফলে অনেককেই সাবমার্বিসল পাম্প বসিয়ে কিংবা পানি কিনে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন পানির অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নাগরিকদেরও বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।

উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শহরের পানি সরবরাহব্যবস্থার প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনের ৫৫ শতাংশে আয়রন জমে পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় একেবারেই পানি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে নতুন শোধনাগার চালু করলেই যে সমস্যার সমাধান হবে, তা-ও নয়। উৎপাদনের পাশাপাশি পানি নিরাপদভাবে মানুষের বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থাটিও সচল করতে হবে।

.

এ ক্ষেত্রে পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য হতাশাজনক। অধিদপ্তর বলছে, শোধনাগারটি চালু অবস্থায় পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে পৌরসভা বলছে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল ও অর্থ না থাকায় সেটি চালু করা যাচ্ছে না। প্রশ্ন হচ্ছে, যে প্রতিষ্ঠান শোধনাগার পরিচালনা করবে, তার প্রয়োজনীয় জনবল ও সক্ষমতা নিশ্চিত না করেই এত বড় প্রকল্প নেওয়া হলো কেন? আবার হস্তান্তরের পরও সেটি চালু না করার দায়ই-বা কে নেবে?

নতুন পানি শোধনাগার করার পরও এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভাকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দ্রুত প্রয়োজনীয় কারিগরি জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন শোধনাগারটি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো পাইপলাইন সংস্কার বা প্রতিস্থাপন এবং নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। নাগরিকদের সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।