ঢাকা ০৫:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী তাঁর জামিন নামঞ্জুর করার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন।

.‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ.

গ্রেপ্তার মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত বুধবার ওই শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

.টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ.

এদিকে অভিযোগের তদন্তে গতকাল শনিবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তবে তদন্ত এখনো চলমান।

১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা খুলে বলে। এরপর ২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।

.শিশুটির বাবা বললেন, ‘বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব করতে নয়’.

অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

পরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; কোনো ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

শিক্ষককে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

টঙ্গীতে শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী তাঁর জামিন নামঞ্জুর করার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন।

.‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ.

গ্রেপ্তার মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত বুধবার ওই শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

.টঙ্গীতে মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নিপীড়নের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে পুলিশ.

এদিকে অভিযোগের তদন্তে গতকাল শনিবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তবে তদন্ত এখনো চলমান।

১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা খুলে বলে। এরপর ২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।

.শিশুটির বাবা বললেন, ‘বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, মব করতে নয়’.

অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

পরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; কোনো ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

শিক্ষককে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।