ঢাকা ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নীল জলের ছেলেটিই মেসির উত্তরসূরি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লেক কোমোর জল নীলাভ। ইউরোপের অন্যতম গভীর হ্রদ। কোমো এই হ্রদের কোলে বেড়ে ওঠা ঐতিহাসিক শহর, আর সেখানকারই ক্লাব ‘কোমা ১৯০৭’। হ্রদের নীলাভ জলের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের জার্সির রংও নীল। শুধু তা–ই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে ক্লাবটির অন্য এক নামেও ফুটেছে লেক কোমোর প্রতিচ্ছবি, ‘ই লারিয়ানি (লেক কোমোর বাসিন্দারা)’।

রূপক অর্থে, কোমোর খেলোয়াড়েরা তাহলে সেই টলটলে জলরাশির বাসিন্দা। কিন্তু খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা জল নয়, মাঠ। কল্পনাশক্তি তাই আরেকটু বাড়ানো যাক। কোমোর ঘর জিউসেপ্পে সিনিগাগলিয়া স্টেডিয়ামকে সেই ‘হ্রদ’ ধরা হলে গতকাল রাতে সেই হ্রদের এক বাসিন্দাকে নিয়ে ফেসবুকে সিরি ‘আ’র পোস্ট, ‘আ স্টেটমেন্ট টু ইউরোপ।’

বার্তাটা কী, সেটা বলা হয়নি, দরকারও নেই। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪–১ গোলে হারানোর এ ম্যাচে ২২ বছর বয়সী কারও দুই গোলের সঙ্গে আরও এক গোল করানোই আসল বার্তা—ইউরোপ দেখো, নিকো পাজ কতটা উঠে এসেছেন!

.

তাতে একটা মধুর সমস্যাও যোগ হয়েছে। পাজের উত্থান তো দৃশ্যমান, কিন্তু মাঝমাঠে তাঁর খেলার গভীরতা কোন তলায় গিয়ে ঠেকেছে, তা আপাতত কেউ জানে না। যেমনটা ওই বয়সে কেউ জানত না লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেও। দুজনেই আবার আর্জেন্টাইন। অন্য ভাষায়, আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি। চলতি মাসে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচটা খেলার আগে থেকেই মোটামুটি ঠিক করা আছে, পাজই ধ্রুপদি সেই জার্সির উত্তরসূরি।

.

সেটা শুধু মেসির মতো পাজ বাঁ পায়ের ফুটবলার ও প্লেমেকার বলে নয়। ওই যে গভীরতার কথা বলা হলো, আসল মিলটা ওখানে। সোনালি চুল বাদ দিলে ইউনাইটেডের বিপক্ষে নীল জার্সির পাজকে দেখে কখনো কখনো ভুল করে মনে হয়েছে, বুঝি মেসি খেলছেন!

মজাটা হলো, আর্জেন্টিনার জার্সিতেও আছে নীলের ছোঁয়া। মেসির উত্তরসূরি হিসেবে পাজ ১০ নম্বর জার্সিটি পেলে কেউ কেউ মজা করে বলতে পারেন, লেক কোমোর ১০ নম্বর বাসিন্দা এখন লেক আর্জেন্তিনোরও ১০ নম্বর বাসিন্দা! কেন এমন কথা, সেটার ব্যাখ্যায় ফেরা যাক বেনিনের বিপক্ষে মেসির সেই বিদায়ী ম্যাচে।

.আর্জেন্টিনার জার্সিতে এমন শুরু নেই আর কারও.

মেসির পাস থেকে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি ছিল পাজের। বক্সের বাইরে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোলটি ছিল মেসির বিগতযৌবনা ক্যারিয়ারের প্রতিচ্ছবি। দুই সপ্তাহ পর ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে করা পাজের গোলটিও যেন ‘কার্বন কপি’—মেসির মতোই বক্সের সামনে বা একটু ভেতর থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে।

সেই স্মৃতি উঁকি দিতে দিতে পরিসংখ্যানও জানাল এক আশ্চর্য মিল। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ দক্ষিণ আমেরিকান খেলোয়াড় এখন ২২ বছর ৪৪ দিন বয়সী পাজ। প্রথমজনের নাম বলতে হবে? ১৭ বছর আগে ২০০৯ ফাইনালে গোল করা ২১ বছর ৩৩৭ দিন বয়সী মেসি।

.

২০০৯ সালের সেই আসরেই এপ্রিলে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচে তিন গোলে অবদান ছিল মেসির। তারপর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে পাজও এক ম্যাচে অবদান রাখলেন তিন গোলে। তাই শুধু মেসির মতো বলে শট নেওয়ার ভঙ্গি অনুকরণের জন্য নয়, ভাগ্যই যেন পাজকে টেনে নিচ্ছে মেসির পথে!

কিন্তু মেসি হওয়া তো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মুখে মুখে ট্রফি জয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মতো নয়। বহু দম লাগে, লাগে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা, প্রতিভা ও স্থায়িত্ব। ১৭ বছর বয়সের ব্যবধানে দাঁড়িয়ে থাকা দুজনের মধ্যে তুলনা তাই অবান্তর। তবে মিলটাও অস্বীকার করা যায় না।

পাজ মেসির মতোই বাঁ পায়ের প্লেমেকার। ডান দিকে সরে খেলতে পছন্দ করেন। ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাঁর টাচ ম্যাপেই রয়েছে প্রমাণ। প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজতে পুরো মাঠে ঘুরে বেড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর মধ্যে মেসির প্রতিচ্ছবি। ফ্রি–কিক নেওয়ার ভঙ্গি ও শটের বৈশিষ্ট্যেও তা–ই।

.

পার্থক্যও আছে। পাজের উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি। লম্বা হওয়ায় শরীর সোজা রেখে ড্রিবলিং করতে হয় এবং সেটা গতির ওপর নির্ভরশীল। অনেকটাই কাকা কিংবা কেভিন ডি ব্রুইনার মতো। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার মেসি নিচু সেন্টার অব গ্র্যাভিটির কারণে বিস্ফোরকগতিতেও শরীর ঝুঁকিয়ে ড্রিবলিং করতে পারেন। কিন্তু পরিপক্বতায় আবার মেসিকেই মনে করিয়ে দেন পাজ। অযথা বল ধরে রাখেন না। অথচ পেশাদার ফুটবলে মাত্র তিন বছর হলো তাঁর অভিষেক। কোমোর কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাস অবশ্য বছরের শুরুতেই বলে রেখেছেন, ‘মনে হয়, সে এক দশক ধরে ফুটবল খেলছে।’

মেসির ভিডিও ইউটিউবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেখার অভ্যাস আছে পাজের। কিন্তু মেসির মতো কথায় আর্জেন্টাইন টান নেই। স্পেনের তেনেরিফে জন্মানোয় ক্যানারিনিয়ান টান এখনো স্পষ্ট। আর্জেন্টাইন বাবা পাবলো পাজ জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার। সেই প্রভাবে মজেই বেছে নেন আর্জেন্টিনার জার্সি। ১২ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেওয়ার সময় বাবার মতোই ছিলেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। রিয়াল তাঁকে আক্রমণভাগে তুলে আনলেও রক্ষণের ফাঁক ধরে ফেলার ব্যাপারটি ভুলে যাননি।

.

রিয়ালে নিয়মিত হতে না পারায় দুই বছর আগে পাজ যোগ দেন কোমোয়। এর পর থেকে তাঁর হাত ধরে এগোচ্ছে ক্লাবটি। সমর্থকদেরও ভীষণ পছন্দের। কাল রাতে যেমন বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখিয়েছেন পাজকে। জাতীয় দল ও কোমো মিলিয়ে সর্বশেষ ১১ ম্যাচে ৭ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট করা কারও তো এমন সম্মানই প্রাপ্য।

পাজ নিজেও রাতটা ভুলতে পারবেন না। ম্যাচ শেষে স্কাই ইতালিয়াকে বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে অন্যতম সুন্দর ম্যাচ। কখনো ভুলব না। এটা আমার স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু।’

আর মেসির মতো বাঁকানো শটের গোলটি নিয়ে? পাজের উত্তর, ‘ফাঁকা জায়গা দেখেই আমি শট নিই। পরিবারের সামনে এমন একটি রাত কাটাতে পেরে আমি আনন্দিত।’
আনন্দিত দর্শক থেকে সাংবাদিকেরাও। ম্যাচটি শেষেই যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংবাদমাধ্যমে পাজের বন্দনা চলছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির উত্তরসূরি—সেই বন্দনার শিরোনাম।

.নতুন যুগে আর্জেন্টিনার চার গোলে মেসি হয়ে উঠলেন নিকো পাজ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

নীল জলের ছেলেটিই মেসির উত্তরসূরি

আপডেট সময় : ০৯:৫২:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

লেক কোমোর জল নীলাভ। ইউরোপের অন্যতম গভীর হ্রদ। কোমো এই হ্রদের কোলে বেড়ে ওঠা ঐতিহাসিক শহর, আর সেখানকারই ক্লাব ‘কোমা ১৯০৭’। হ্রদের নীলাভ জলের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের জার্সির রংও নীল। শুধু তা–ই নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে ক্লাবটির অন্য এক নামেও ফুটেছে লেক কোমোর প্রতিচ্ছবি, ‘ই লারিয়ানি (লেক কোমোর বাসিন্দারা)’।

রূপক অর্থে, কোমোর খেলোয়াড়েরা তাহলে সেই টলটলে জলরাশির বাসিন্দা। কিন্তু খেলোয়াড়দের থাকার জায়গা জল নয়, মাঠ। কল্পনাশক্তি তাই আরেকটু বাড়ানো যাক। কোমোর ঘর জিউসেপ্পে সিনিগাগলিয়া স্টেডিয়ামকে সেই ‘হ্রদ’ ধরা হলে গতকাল রাতে সেই হ্রদের এক বাসিন্দাকে নিয়ে ফেসবুকে সিরি ‘আ’র পোস্ট, ‘আ স্টেটমেন্ট টু ইউরোপ।’

বার্তাটা কী, সেটা বলা হয়নি, দরকারও নেই। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪–১ গোলে হারানোর এ ম্যাচে ২২ বছর বয়সী কারও দুই গোলের সঙ্গে আরও এক গোল করানোই আসল বার্তা—ইউরোপ দেখো, নিকো পাজ কতটা উঠে এসেছেন!

.

তাতে একটা মধুর সমস্যাও যোগ হয়েছে। পাজের উত্থান তো দৃশ্যমান, কিন্তু মাঝমাঠে তাঁর খেলার গভীরতা কোন তলায় গিয়ে ঠেকেছে, তা আপাতত কেউ জানে না। যেমনটা ওই বয়সে কেউ জানত না লিওনেল মেসির ক্ষেত্রেও। দুজনেই আবার আর্জেন্টাইন। অন্য ভাষায়, আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির পূর্বসূরি ও উত্তরসূরি। চলতি মাসে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচটা খেলার আগে থেকেই মোটামুটি ঠিক করা আছে, পাজই ধ্রুপদি সেই জার্সির উত্তরসূরি।

.

সেটা শুধু মেসির মতো পাজ বাঁ পায়ের ফুটবলার ও প্লেমেকার বলে নয়। ওই যে গভীরতার কথা বলা হলো, আসল মিলটা ওখানে। সোনালি চুল বাদ দিলে ইউনাইটেডের বিপক্ষে নীল জার্সির পাজকে দেখে কখনো কখনো ভুল করে মনে হয়েছে, বুঝি মেসি খেলছেন!

মজাটা হলো, আর্জেন্টিনার জার্সিতেও আছে নীলের ছোঁয়া। মেসির উত্তরসূরি হিসেবে পাজ ১০ নম্বর জার্সিটি পেলে কেউ কেউ মজা করে বলতে পারেন, লেক কোমোর ১০ নম্বর বাসিন্দা এখন লেক আর্জেন্তিনোরও ১০ নম্বর বাসিন্দা! কেন এমন কথা, সেটার ব্যাখ্যায় ফেরা যাক বেনিনের বিপক্ষে মেসির সেই বিদায়ী ম্যাচে।

.আর্জেন্টিনার জার্সিতে এমন শুরু নেই আর কারও.

মেসির পাস থেকে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি ছিল পাজের। বক্সের বাইরে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোলটি ছিল মেসির বিগতযৌবনা ক্যারিয়ারের প্রতিচ্ছবি। দুই সপ্তাহ পর ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে করা পাজের গোলটিও যেন ‘কার্বন কপি’—মেসির মতোই বক্সের সামনে বা একটু ভেতর থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে।

সেই স্মৃতি উঁকি দিতে দিতে পরিসংখ্যানও জানাল এক আশ্চর্য মিল। চ্যাম্পিয়নস লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে গোল করা দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ দক্ষিণ আমেরিকান খেলোয়াড় এখন ২২ বছর ৪৪ দিন বয়সী পাজ। প্রথমজনের নাম বলতে হবে? ১৭ বছর আগে ২০০৯ ফাইনালে গোল করা ২১ বছর ৩৩৭ দিন বয়সী মেসি।

.

২০০৯ সালের সেই আসরেই এপ্রিলে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচে তিন গোলে অবদান ছিল মেসির। তারপর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে পাজও এক ম্যাচে অবদান রাখলেন তিন গোলে। তাই শুধু মেসির মতো বলে শট নেওয়ার ভঙ্গি অনুকরণের জন্য নয়, ভাগ্যই যেন পাজকে টেনে নিচ্ছে মেসির পথে!

কিন্তু মেসি হওয়া তো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মুখে মুখে ট্রফি জয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার মতো নয়। বহু দম লাগে, লাগে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা, প্রতিভা ও স্থায়িত্ব। ১৭ বছর বয়সের ব্যবধানে দাঁড়িয়ে থাকা দুজনের মধ্যে তুলনা তাই অবান্তর। তবে মিলটাও অস্বীকার করা যায় না।

পাজ মেসির মতোই বাঁ পায়ের প্লেমেকার। ডান দিকে সরে খেলতে পছন্দ করেন। ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাঁর টাচ ম্যাপেই রয়েছে প্রমাণ। প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজতে পুরো মাঠে ঘুরে বেড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর মধ্যে মেসির প্রতিচ্ছবি। ফ্রি–কিক নেওয়ার ভঙ্গি ও শটের বৈশিষ্ট্যেও তা–ই।

.

পার্থক্যও আছে। পাজের উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি। লম্বা হওয়ায় শরীর সোজা রেখে ড্রিবলিং করতে হয় এবং সেটা গতির ওপর নির্ভরশীল। অনেকটাই কাকা কিংবা কেভিন ডি ব্রুইনার মতো। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার মেসি নিচু সেন্টার অব গ্র্যাভিটির কারণে বিস্ফোরকগতিতেও শরীর ঝুঁকিয়ে ড্রিবলিং করতে পারেন। কিন্তু পরিপক্বতায় আবার মেসিকেই মনে করিয়ে দেন পাজ। অযথা বল ধরে রাখেন না। অথচ পেশাদার ফুটবলে মাত্র তিন বছর হলো তাঁর অভিষেক। কোমোর কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাস অবশ্য বছরের শুরুতেই বলে রেখেছেন, ‘মনে হয়, সে এক দশক ধরে ফুটবল খেলছে।’

মেসির ভিডিও ইউটিউবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেখার অভ্যাস আছে পাজের। কিন্তু মেসির মতো কথায় আর্জেন্টাইন টান নেই। স্পেনের তেনেরিফে জন্মানোয় ক্যানারিনিয়ান টান এখনো স্পষ্ট। আর্জেন্টাইন বাবা পাবলো পাজ জাতীয় দলের সাবেক ডিফেন্ডার। সেই প্রভাবে মজেই বেছে নেন আর্জেন্টিনার জার্সি। ১২ বছর বয়সে রিয়াল মাদ্রিদের বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেওয়ার সময় বাবার মতোই ছিলেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়। রিয়াল তাঁকে আক্রমণভাগে তুলে আনলেও রক্ষণের ফাঁক ধরে ফেলার ব্যাপারটি ভুলে যাননি।

.

রিয়ালে নিয়মিত হতে না পারায় দুই বছর আগে পাজ যোগ দেন কোমোয়। এর পর থেকে তাঁর হাত ধরে এগোচ্ছে ক্লাবটি। সমর্থকদেরও ভীষণ পছন্দের। কাল রাতে যেমন বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় দর্শক উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখিয়েছেন পাজকে। জাতীয় দল ও কোমো মিলিয়ে সর্বশেষ ১১ ম্যাচে ৭ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট করা কারও তো এমন সম্মানই প্রাপ্য।

পাজ নিজেও রাতটা ভুলতে পারবেন না। ম্যাচ শেষে স্কাই ইতালিয়াকে বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে অন্যতম সুন্দর ম্যাচ। কখনো ভুলব না। এটা আমার স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু।’

আর মেসির মতো বাঁকানো শটের গোলটি নিয়ে? পাজের উত্তর, ‘ফাঁকা জায়গা দেখেই আমি শট নিই। পরিবারের সামনে এমন একটি রাত কাটাতে পেরে আমি আনন্দিত।’
আনন্দিত দর্শক থেকে সাংবাদিকেরাও। ম্যাচটি শেষেই যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংবাদমাধ্যমে পাজের বন্দনা চলছে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির উত্তরসূরি—সেই বন্দনার শিরোনাম।

.নতুন যুগে আর্জেন্টিনার চার গোলে মেসি হয়ে উঠলেন নিকো পাজ