মানুষের মতো দর–কষাকষি করতে এআই এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে অ্যানথ্রপিক
- আপডেট সময় : ০৪:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

মানুষের হয়ে পণ্যের দাম নিয়ে দর–কষাকষি, গ্রাহকের অভিযোগের সমাধান কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে ভালো বেতনের প্রস্তাব আদায় করতে পারবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্ট। তবে এসব কাজ করতে গিয়ে এআই এজেন্ট যেন আইনি ও নৈতিক সীমা অতিক্রম না করে, তা নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের পরামর্শ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এআই প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি এমন ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে, যেখানে এআই এজেন্ট মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর–কষাকষি করতে পারবে।
এআই প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এমন এক ভবিষ্যতের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যেখানে একটি এআই এজেন্ট অন্য এআই এজেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে নিজ নিজ ব্যবহারকারীর পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এতে প্রতিটি পদক্ষেপে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণের প্রয়োজন কমে আসবে। তবে দুই পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত এআই এজেন্ট যখন নিজেদের ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে ভালো চুক্তি নিশ্চিত করতে চাইবে, তখন দর–কষাকষি জটিল হয়ে উঠতে পারে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে অ্যানথ্রপিক জানায়, বাস্তব পরিস্থিতির আদলে তৈরি বিভিন্ন দর–কষাকষির পরীক্ষায় এআই এজেন্টের কার্যকারিতা যাচাই করেছে তারা। পরীক্ষায় কর্মীরা একটি ভার্চ্যুয়াল বাজারে এআই এজেন্ট ব্যবহার করে বই কেনাবেচা করেন। এতে দেখা যায়, কঠোরভাবে দর–কষাকষি করার নির্দেশনা পাওয়া এজেন্টগুলো তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো চুক্তি করতে পেরেছে। অন্যদিকে সহযোগিতামূলক আচরণে অভ্যস্ত এজেন্টগুলো কখনো কখনো নিজেদের কম পছন্দের বই গ্রহণ করেছে, যাতে লেনদেনে অংশ নেওয়া সবাই কিছু না কিছু পায়।
এআই এজেন্টের দর–কষাকষির সক্ষমতার পাশাপাশি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও গবেষণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক মিশেল ভাকারো এআই এজেন্টগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি দর–কষাকষি নিয়ে গবেষণা করেছেন। চাকরির প্রস্তাব ও বাড়িভাড়ার চুক্তির মতো বিভিন্ন পরিস্থিতি ছিল এসব পরীক্ষায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এআই এজেন্ট প্রম্পট ইনজেকশনের মতো কৌশল ব্যবহার করে অন্য এজেন্টকে বিভ্রান্ত করতে এবং তার কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য বের করে নিতে পারে। প্রম্পট ইনজেকশন হলো বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে এআই ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করানোর একটি কৌশল। এআই এজেন্টের এমন সক্ষমতা নতুন ধরনের বৈষম্যও তৈরি করতে পারে। উন্নত এআই এজেন্টের সহায়তায় মানুষ পেশাদার পরামর্শকের সাহায্য ছাড়াই নিজেদের জন্য ভালো চুক্তি আদায় করতে পারবেন। কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলগুলো যদি মূলত ধনী ব্যক্তি ও বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাগালে থাকে, তাহলে দর–কষাকষিতে তারাই বাড়তি সুবিধা পাবে। এতে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ ও ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় আরও অসুবিধায় পড়তে পারে।
বর্তমানে মানুষের হয়ে দর–কষাকষি ও লেনদেন পরিচালনাকারী এআই এজেন্টের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে সুস্পষ্ট আইনি ও নীতিগত কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ফলে এ ধরনের এজেন্ট কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, কোন পরিস্থিতিতে সমঝোতা করবে এবং কখন মানুষের অনুমতি বা সহায়তা চাইবে, তা নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে উঠছে।























