ঢাকা ১২:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাহিত্যের তাক দখল করেছে গাইড বই

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কয়েক বছর আগেও গল্প-উপন্যাসের বই কিনতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বইয়ের দোকানে যেতেন সরকারি হাজী আসমত কলেজের শিক্ষার্থী আফিকুল ইসলাম। সব বই পাওয়া না গেলেও কিছু বই পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর পরিস্থিতি আগের মতো নেই। দোকানগুলোতে সাহিত্যের বই কমে গেছে।

আফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, একসময় বইয়ের দোকানে গল্প, উপন্যাস ও অন্যান্য সাহিত্যবিষয়ক বইয়ের আলাদা তাক থাকত। এখন সেই জায়গা দখল করেছে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্য সহায়ক ও গাইড বই। সাহিত্যের কিছু বই থাকলেও সেগুলোর ঠাঁই হচ্ছে পেছনের ঘরে কিংবা আড়ালের তাকে।

গত শুক্রবার ভৈরবের একাধিক বাণিজ্যিক লাইব্রেরি ঘুরে আফিকুল ইসলামের এমন বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, এক দশকে পাঠ্য সহায়ক বইয়ের ব্যবসা বেড়েছে। এসব বইয়ের চাহিদা নির্দিষ্ট এবং বিক্রিও তুলনামূলক সহজ। অন্যদিকে সাহিত্যের বইয়ের পরিসর বড়। সব ধরনের পাঠকের চাহিদা মেটাতে অনেক বই সংগ্রহ করতে হয়। এতে পুঁজি ও জায়গা বেশি লাগে, বাড়ে ব্যবসায়িক ঝুঁকিও।

ভৈরবের পরিচিত বাণিজ্যিক লাইব্রেরি ‘বর্ণমালা’। একসময় সাহিত্যের বইয়ের জন্য আলাদা পরিচিতি ছিল। শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের প্রায় সব জায়গায় সাজানো পাঠ্য সহায়ক বই। এক কোণে অল্প কিছু সাহিত্যের বই। পেছনের একটি ঘরে গল্প-উপন্যাসের কিছু বই স্তূপ করে রাখা।

লাইব্রেরির মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন একাধিক পাঠ্য সহায়ক বই কেনে। এসব বইয়ের চাহিদা নির্দিষ্ট। ক্রেতারা বইয়ের নাম বললেই দেওয়া যায়, দামও নির্ধারিত। ফলে অল্প সময়েই লেনদেন শেষ হয়। সাহিত্যের বইয়ের ক্রেতা ও সংগ্রহ—দুটিই কমেছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোন পাঠক কোন বই খুঁজবেন, তা আগে থেকে বোঝা কঠিন। সব ধরনের বই রাখতে গেলে খরচ ও ঝুঁকি দুটোই বাড়ে। আগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি বই বিক্রি করতে পারলেও এখন শুক্রবার ছাড়া প্রায়ই বিক্রিশূন্য দিন পার করতে হয় বলে জানান তিনি।

পৌর শহরের কলেজ রোডের ৭৬ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান গোলাপ বুক স্টলেও সাহিত্যের বইয়ের সংখ্যা এখন হাতে গোনা। বইগুলো রাখা হয়েছে পেছনের তাকে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুনিসুল ইসলাম বলেন, পাঁচ-সাত বছর আগেও দিনে গড়ে ৩০টি সাহিত্যবিষয়ক বই বিক্রি হতো। এখন বিক্রি হয় কয়েকটি।

মুনিসুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আগে স্কুল-কলেজে বা ক্লাব সংগঠনের অনুষ্ঠানে পুরস্কার হিসেবে বই থাকত। জন্মদিনে বই উপহার দেওয়ার বদলে ফুল বা কেক দেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। সন্তান সঙ্গে নিয়ে এসে এখন আগের মতো বাবা-মায়েরা বই কেনেন না। অনেকে পিডিএফ ও গুগলে বই খুঁজে পড়েন। সাহিত্যের বই সামনের সারি থেকে পেছনে যাওয়া এবং সংগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে এসব মূল কারণ বলে মনে করেন তিনি।

ভৈরবের পুরোনো লাইব্রেরিগুলোর একটি মেঘনা লাইব্রেরি। বয়স ৫২ বছর। একসময় ভৈরবসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে সাহিত্যের বইয়ের জন্য পরিচিত ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এখন সেখানে সাহিত্যের বইয়ের প্রতি মনোযোগ কম কর্তৃপক্ষের। লাইব্রেরির পরিচালক অর্ণব জামান বলেন, শুধু বইয়ের সংখ্যা নয়, ভালো বই রাখার প্রবণতাও কমেছে। ভালো পাঠকও কমছে। এভাবে পাঠক তৈরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

ভৈরব বন্ধুসভা মাসে অন্তত দুবার মুদ্রিত বই নিয়ে পাঠচক্রের আয়োজন করে। সংগঠনটির পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মহিমা মেধা বলেন, পাঠচক্রের জন্য প্রয়োজনীয় বই স্থানীয় লাইব্রেরিতে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। এ কারণে কয়েক বছর ধরে অনলাইনে বই অর্ডার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ছে।

কাকলি খেলাঘর ভৈরব শাখার সভাপতি মফিজুল ইসলাম বলেন, গাইড বইয়ের চাপে সাহিত্যের বই আড়ালে চলে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সক্রিয় পাঠাগারের অভাব। ফলে অবসর সময়ে গল্প-উপন্যাস পড়তে চাওয়া মানুষের বই সংগ্রহের সুযোগ কমেছে।

ভৈরব বইমেলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানিক চৌধুরী বলেন, ২৭ বছর ধরে তাঁরা ভৈরবে একুশে বইমেলার আয়োজন করছেন। আগে মেলার স্টল পরিচালকেরা প্রয়োজনীয় বইয়ের বেশির ভাগ স্থানীয় লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করতেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাহিদামতো বই না পেয়ে মেলার জন্য অধিকাংশ বই ঢাকা থেকে আনতে হচ্ছে।

ভৈরব পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কলেজ রোডে অবস্থিত ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরির মালিক। ভৈরবে সমিতির সদস্যভুক্ত লাইব্রেরির সংখ্যা ২৫। তাঁর লাইব্রেরির আকার ১২ ফুট বাই ৭ ফুট। বার্ষিক ভাড়া ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। তাঁর লাইব্রেরির একটি তাকে সাহিত্যের বই সাজিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, মাসিক ভাড়ার পাশাপাশি প্রতিটি দোকানের বিপরীতে অগ্রিম আছে কয়েক লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে কম চাহিদার বইয়ের জন্য বড় জায়গা রাখা কঠিন।

সাহিত্যের বইয়ের জায়গা ফিরবে কি না—এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলামের উত্তর, ‘এক দশক আগেও প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছি। এখন সপ্তাহে কয়েকটির বেশি বিক্রি হয় না। নির্দিষ্ট পাঠকেরাও বই কিনতে আসা কমিয়ে দিয়েছে।’ তাঁর মতে, লাইব্রেরিগুলোতে সাহিত্যের তাক কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ভর করছে পাঠকের চাহিদা ও বই পড়ার পরিবেশ তৈরির ওপর।

পুরস্কার হিসেবে বই দেওয়ার ব্যাপারে সরকারি ঘোষণা থাকার কথা জানিয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, এ কথা সত্য যে বই আদান–প্রদানের সংস্কৃতি কমে গেছে। পাঠক যেন বইয়ের দোকানে গিয়ে সাহিত্যের বই না পেয়ে ফিরে না আসেন, সে বিষয়ে পুস্তক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করে করণীয় নির্ধারণ করার কথা জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

সাহিত্যের তাক দখল করেছে গাইড বই

আপডেট সময় : ১০:১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কয়েক বছর আগেও গল্প-উপন্যাসের বই কিনতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বইয়ের দোকানে যেতেন সরকারি হাজী আসমত কলেজের শিক্ষার্থী আফিকুল ইসলাম। সব বই পাওয়া না গেলেও কিছু বই পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আর পরিস্থিতি আগের মতো নেই। দোকানগুলোতে সাহিত্যের বই কমে গেছে।

আফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, একসময় বইয়ের দোকানে গল্প, উপন্যাস ও অন্যান্য সাহিত্যবিষয়ক বইয়ের আলাদা তাক থাকত। এখন সেই জায়গা দখল করেছে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্য সহায়ক ও গাইড বই। সাহিত্যের কিছু বই থাকলেও সেগুলোর ঠাঁই হচ্ছে পেছনের ঘরে কিংবা আড়ালের তাকে।

গত শুক্রবার ভৈরবের একাধিক বাণিজ্যিক লাইব্রেরি ঘুরে আফিকুল ইসলামের এমন বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, এক দশকে পাঠ্য সহায়ক বইয়ের ব্যবসা বেড়েছে। এসব বইয়ের চাহিদা নির্দিষ্ট এবং বিক্রিও তুলনামূলক সহজ। অন্যদিকে সাহিত্যের বইয়ের পরিসর বড়। সব ধরনের পাঠকের চাহিদা মেটাতে অনেক বই সংগ্রহ করতে হয়। এতে পুঁজি ও জায়গা বেশি লাগে, বাড়ে ব্যবসায়িক ঝুঁকিও।

ভৈরবের পরিচিত বাণিজ্যিক লাইব্রেরি ‘বর্ণমালা’। একসময় সাহিত্যের বইয়ের জন্য আলাদা পরিচিতি ছিল। শুক্রবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভেতরের প্রায় সব জায়গায় সাজানো পাঠ্য সহায়ক বই। এক কোণে অল্প কিছু সাহিত্যের বই। পেছনের একটি ঘরে গল্প-উপন্যাসের কিছু বই স্তূপ করে রাখা।

লাইব্রেরির মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন একাধিক পাঠ্য সহায়ক বই কেনে। এসব বইয়ের চাহিদা নির্দিষ্ট। ক্রেতারা বইয়ের নাম বললেই দেওয়া যায়, দামও নির্ধারিত। ফলে অল্প সময়েই লেনদেন শেষ হয়। সাহিত্যের বইয়ের ক্রেতা ও সংগ্রহ—দুটিই কমেছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোন পাঠক কোন বই খুঁজবেন, তা আগে থেকে বোঝা কঠিন। সব ধরনের বই রাখতে গেলে খরচ ও ঝুঁকি দুটোই বাড়ে। আগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি বই বিক্রি করতে পারলেও এখন শুক্রবার ছাড়া প্রায়ই বিক্রিশূন্য দিন পার করতে হয় বলে জানান তিনি।

পৌর শহরের কলেজ রোডের ৭৬ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠান গোলাপ বুক স্টলেও সাহিত্যের বইয়ের সংখ্যা এখন হাতে গোনা। বইগুলো রাখা হয়েছে পেছনের তাকে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মুনিসুল ইসলাম বলেন, পাঁচ-সাত বছর আগেও দিনে গড়ে ৩০টি সাহিত্যবিষয়ক বই বিক্রি হতো। এখন বিক্রি হয় কয়েকটি।

মুনিসুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আগে স্কুল-কলেজে বা ক্লাব সংগঠনের অনুষ্ঠানে পুরস্কার হিসেবে বই থাকত। জন্মদিনে বই উপহার দেওয়ার বদলে ফুল বা কেক দেওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে। সন্তান সঙ্গে নিয়ে এসে এখন আগের মতো বাবা-মায়েরা বই কেনেন না। অনেকে পিডিএফ ও গুগলে বই খুঁজে পড়েন। সাহিত্যের বই সামনের সারি থেকে পেছনে যাওয়া এবং সংগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে এসব মূল কারণ বলে মনে করেন তিনি।

ভৈরবের পুরোনো লাইব্রেরিগুলোর একটি মেঘনা লাইব্রেরি। বয়স ৫২ বছর। একসময় ভৈরবসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে সাহিত্যের বইয়ের জন্য পরিচিত ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এখন সেখানে সাহিত্যের বইয়ের প্রতি মনোযোগ কম কর্তৃপক্ষের। লাইব্রেরির পরিচালক অর্ণব জামান বলেন, শুধু বইয়ের সংখ্যা নয়, ভালো বই রাখার প্রবণতাও কমেছে। ভালো পাঠকও কমছে। এভাবে পাঠক তৈরির সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।

ভৈরব বন্ধুসভা মাসে অন্তত দুবার মুদ্রিত বই নিয়ে পাঠচক্রের আয়োজন করে। সংগঠনটির পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মহিমা মেধা বলেন, পাঠচক্রের জন্য প্রয়োজনীয় বই স্থানীয় লাইব্রেরিতে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকে। এ কারণে কয়েক বছর ধরে অনলাইনে বই অর্ডার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়ছে।

কাকলি খেলাঘর ভৈরব শাখার সভাপতি মফিজুল ইসলাম বলেন, গাইড বইয়ের চাপে সাহিত্যের বই আড়ালে চলে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সক্রিয় পাঠাগারের অভাব। ফলে অবসর সময়ে গল্প-উপন্যাস পড়তে চাওয়া মানুষের বই সংগ্রহের সুযোগ কমেছে।

ভৈরব বইমেলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মানিক চৌধুরী বলেন, ২৭ বছর ধরে তাঁরা ভৈরবে একুশে বইমেলার আয়োজন করছেন। আগে মেলার স্টল পরিচালকেরা প্রয়োজনীয় বইয়ের বেশির ভাগ স্থানীয় লাইব্রেরি থেকে সংগ্রহ করতেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চাহিদামতো বই না পেয়ে মেলার জন্য অধিকাংশ বই ঢাকা থেকে আনতে হচ্ছে।

ভৈরব পুস্তক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম কলেজ রোডে অবস্থিত ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরির মালিক। ভৈরবে সমিতির সদস্যভুক্ত লাইব্রেরির সংখ্যা ২৫। তাঁর লাইব্রেরির আকার ১২ ফুট বাই ৭ ফুট। বার্ষিক ভাড়া ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। তাঁর লাইব্রেরির একটি তাকে সাহিত্যের বই সাজিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, মাসিক ভাড়ার পাশাপাশি প্রতিটি দোকানের বিপরীতে অগ্রিম আছে কয়েক লাখ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে কম চাহিদার বইয়ের জন্য বড় জায়গা রাখা কঠিন।

সাহিত্যের বইয়ের জায়গা ফিরবে কি না—এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলামের উত্তর, ‘এক দশক আগেও প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছি। এখন সপ্তাহে কয়েকটির বেশি বিক্রি হয় না। নির্দিষ্ট পাঠকেরাও বই কিনতে আসা কমিয়ে দিয়েছে।’ তাঁর মতে, লাইব্রেরিগুলোতে সাহিত্যের তাক কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ভর করছে পাঠকের চাহিদা ও বই পড়ার পরিবেশ তৈরির ওপর।

পুরস্কার হিসেবে বই দেওয়ার ব্যাপারে সরকারি ঘোষণা থাকার কথা জানিয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, এ কথা সত্য যে বই আদান–প্রদানের সংস্কৃতি কমে গেছে। পাঠক যেন বইয়ের দোকানে গিয়ে সাহিত্যের বই না পেয়ে ফিরে না আসেন, সে বিষয়ে পুস্তক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভা করে করণীয় নির্ধারণ করার কথা জানান তিনি।