ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে একাত্তরের গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আবহটা ঠিক পিনপতন নীরব না হলেও ছিল বেশ চুপচাপ। প্রত্যেকটা উৎসুক চিত্ত তখনো কবির অপেক্ষায়। যেমনটা নির্মলেন্দু গুণ তাঁর ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ কবিতায় লিখেছিলেন, ঠিক তেমনই যেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার কক্ষে বন্ধুরা গুনছিলেন প্রতীক্ষার প্রহর।

১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্ধুসভা আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আয়োজন ‘মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে একাত্তরের গল্প’। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ দেলোয়ার হোসেন। আর সে আয়োজনে উপস্থিত বন্ধুরাই ছিলেন প্রতীক্ষায়, কবি হয়ে মঞ্চ অলংকৃত করা প্রধান অতিথির অপেক্ষায়।

প্রশ্নোত্তরের সাহায্যে স্মৃতিচারণার আদলে সাজানো এ আয়োজনে সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম। তবে প্রশ্নোত্তরের ছলে হলেও আয়োজনে ছিল না গৎবাঁধা কোনো প্রশ্ন। কখনো সঞ্চালকের তোলা সুরে তো আবার কখনো দর্শকসারি থেকে সৃষ্ট সুরেই গান বেঁধেছিলেন অতিথি। যে গানে ছিল একাত্তরের ভয়াল দিনগুলোর কথা, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার রোমহর্ষ বর্ণনা, যুদ্ধবিধ্বস্ত দিনগুলোতে বাংকারে গোলাবারুদের গন্ধ নাকে পুষেই উৎসব-পার্বণ পালনের স্মৃতি।

আড্ডাচ্ছলে আজ থেকে পাঁচ দশকের অধিক সময় পেছনে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ দেলোয়ার হোসেন শোনান নিজের যুদ্ধকালীন বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা। জানান, একাত্তরের পবিত্র রমজান মাস এবং পরবর্তী পবিত্র ঈদুল ফিতর তিনি কাটিয়েছিলেন তাঁর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মাটির নিচে তৈরি করা গোপন ঘরে। পশ্চিমা হানাদার বাহিনী যে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষদের মানুষ বলেই গণ্য করত না, এত দিন তা পড়েছি আমরা কেবল বইয়ের পাতায়। এ আয়োজনে অতিথির কাছ থেকে শোনা বর্ণনার বদৌলতে তা হয়ে ওঠে সবার সামনে রীতিমতো জ্যান্ত এক নিদর্শন।

এদিন সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় ছিল অতিথির ব্যক্তিগত একটি বিষয়। ৯ ভাই এবং ২ বোনের বিশাল পরিবারে তিনিসহ তাঁরা মোট চারভাই একই সঙ্গে ছিলেন একাত্তরে রণাঙ্গণে। এমন একই পরিবারের সদস্যদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করার নজির রীতিমতো অপ্রতুলই বটে।

সমস্বরে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান। পরে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক দল পরিবেশন করে দেশাত্মবোধক গান, ‘একবার যেতে দে না আমায় ছোট্ট সোনার গাঁয়’।

আয়োজনের সমন্বয়কারী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম, সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান ও পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি ইব্রাহিম তানভীর, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী, অর্থসম্পাদক ফয়সাল হাওলাদার, দপ্তর সম্পাদক সাকিব জিশান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিথি তালুকদার, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক তৃষা বড়ুয়া, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য তাজরিয়া রশিদ, মারুফ উল হক, বন্ধু তাফসিরুল ইসলাম, সাকিব ইনাম খান, রাফিয়া নাওয়াল, সাজিয়া আফরিন, গেহরিন নাসরিন, খাদিজা আকতার, রোকসানা জেয়াছমিন, ফারহানা আকতার, নাইমা সুলতানা, আবিদ রহমানসহ অন্য বন্ধুরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে একাত্তরের গল্প

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

আবহটা ঠিক পিনপতন নীরব না হলেও ছিল বেশ চুপচাপ। প্রত্যেকটা উৎসুক চিত্ত তখনো কবির অপেক্ষায়। যেমনটা নির্মলেন্দু গুণ তাঁর ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’ কবিতায় লিখেছিলেন, ঠিক তেমনই যেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার কক্ষে বন্ধুরা গুনছিলেন প্রতীক্ষার প্রহর।

১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্ধুসভা আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আয়োজন ‘মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে একাত্তরের গল্প’। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ২ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ দেলোয়ার হোসেন। আর সে আয়োজনে উপস্থিত বন্ধুরাই ছিলেন প্রতীক্ষায়, কবি হয়ে মঞ্চ অলংকৃত করা প্রধান অতিথির অপেক্ষায়।

প্রশ্নোত্তরের সাহায্যে স্মৃতিচারণার আদলে সাজানো এ আয়োজনে সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম। তবে প্রশ্নোত্তরের ছলে হলেও আয়োজনে ছিল না গৎবাঁধা কোনো প্রশ্ন। কখনো সঞ্চালকের তোলা সুরে তো আবার কখনো দর্শকসারি থেকে সৃষ্ট সুরেই গান বেঁধেছিলেন অতিথি। যে গানে ছিল একাত্তরের ভয়াল দিনগুলোর কথা, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসার রোমহর্ষ বর্ণনা, যুদ্ধবিধ্বস্ত দিনগুলোতে বাংকারে গোলাবারুদের গন্ধ নাকে পুষেই উৎসব-পার্বণ পালনের স্মৃতি।

আড্ডাচ্ছলে আজ থেকে পাঁচ দশকের অধিক সময় পেছনে গিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ দেলোয়ার হোসেন শোনান নিজের যুদ্ধকালীন বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা। জানান, একাত্তরের পবিত্র রমজান মাস এবং পরবর্তী পবিত্র ঈদুল ফিতর তিনি কাটিয়েছিলেন তাঁর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মাটির নিচে তৈরি করা গোপন ঘরে। পশ্চিমা হানাদার বাহিনী যে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষদের মানুষ বলেই গণ্য করত না, এত দিন তা পড়েছি আমরা কেবল বইয়ের পাতায়। এ আয়োজনে অতিথির কাছ থেকে শোনা বর্ণনার বদৌলতে তা হয়ে ওঠে সবার সামনে রীতিমতো জ্যান্ত এক নিদর্শন।

এদিন সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় ছিল অতিথির ব্যক্তিগত একটি বিষয়। ৯ ভাই এবং ২ বোনের বিশাল পরিবারে তিনিসহ তাঁরা মোট চারভাই একই সঙ্গে ছিলেন একাত্তরে রণাঙ্গণে। এমন একই পরিবারের সদস্যদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করার নজির রীতিমতো অপ্রতুলই বটে।

সমস্বরে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। এরপর অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান। পরে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক দল পরিবেশন করে দেশাত্মবোধক গান, ‘একবার যেতে দে না আমায় ছোট্ট সোনার গাঁয়’।

আয়োজনের সমন্বয়কারী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম, সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান ও পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক কামরান চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি ইব্রাহিম তানভীর, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী, অর্থসম্পাদক ফয়সাল হাওলাদার, দপ্তর সম্পাদক সাকিব জিশান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক তিথি তালুকদার, জেন্ডার ও সমতাবিষয়ক সম্পাদক তৃষা বড়ুয়া, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য তাজরিয়া রশিদ, মারুফ উল হক, বন্ধু তাফসিরুল ইসলাম, সাকিব ইনাম খান, রাফিয়া নাওয়াল, সাজিয়া আফরিন, গেহরিন নাসরিন, খাদিজা আকতার, রোকসানা জেয়াছমিন, ফারহানা আকতার, নাইমা সুলতানা, আবিদ রহমানসহ অন্য বন্ধুরা।