ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাংলাদেশকে তাচ্ছিল্য দোকানির, জবাবে কী করলেন আইয়ুব বাচ্চু এসআইইউসিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সাফল্য, ৪ স্বর্ণপদক জয় কক্ষের দেয়ালে লেখা, ‘আজ থেকে এই গল্প শেষ, আমি অভাগী মা’ সরাইলে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ২ তরুণ গ্রেপ্তার রিসোর্টগুলোয় কেন বারবার অগ্নিকাণ্ড হচ্ছে, দায় আসলে কার? সেকেন্ডেই মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরি, সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার ৬ মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রামে আহ্বায়কের বাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব গ্রেপ্তার ডুলির হাতে তিন স্ট্রাইকার, এবার কি সাফে ‘নম্বর নাইন’ সংকটের অবসান ১০ সচিবের দপ্তর বদল, কে কোথায় গেলেন

তরুণ ও পেশাজীবীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া আহ্বান করছে বিদ্যুৎ বিভাগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় দাবি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং শক্তির অপচয় রোধে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উদ্ভাবনী উদ্যোগ জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নতুন চিন্তাধারাকে কাজে লাগাতে স্ফুরণ নামের বিশেষ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ। স্ফুরণ-টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের সন্ধানে শীর্ষক এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে তরুণ উদ্ভাবক ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত এবং বাস্তবায়নযোগ্য ধারণা আহ্বান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি ওই সময়ের মধ্যে সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহার ১৫ শতাংশ সাশ্রয়ের একটি সাহসী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কৌশলগত ও পরিবেশগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু নীতি প্রণয়ন বা সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, তরুণদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা অত্যন্ত জরুরি। স্ফুরণ প্রতিযোগিতাটি মূলত দুটি প্রধান ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রথমটি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যেখানে সোলার সমাধান, স্মার্ট সোলার সেচ, অফ-গ্রিড সিস্টেম, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং এনার্জি স্টোরেজ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া উইন্ড এনার্জি, দেশীয় সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল এবং অ্যাগ্রি-পিভি বা ভাসমান সোলারের মতো জমিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগীরা প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।

দ্বিতীয় বিভাগটি নির্ধারণ করা হয়েছে জ্বালানি দক্ষতার ওপর। এই ক্যাটাগরিতে ক্যাম্পাস বা কমিউনিটি পর্যায়ে বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তি, ক্লিন কুকিং সিস্টেম এবং জ্বালানি দক্ষতা পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ডিজিটাল টুল নিয়ে কাজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যান ও এর চার্জিং পরিকাঠামো, ভবনে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো, ডিমান্ড সাইড এনার্জি ম্যানেজমেন্ট, বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী কুলিং পদ্ধতি, রেট্রোফিট সমাধান এবং আচরণগত বা নীতিসংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

প্রতিযোগিতাটি মূলত দুটি গ্রুপে ভাগ করে পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রুপ এ শিক্ষার্থী বিভাগে যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগের দুজন সদস্যের দল হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রুপ বি রাখা হয়েছে পেশাজীবীদের জন্য, যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যেকোনো কর্মকর্তা বা গবেষক এককভাবে তাদের ধারণা জমা দিতে পারবেন। আগ্রহী প্রতিযোগী বা দলকে তাদের প্রস্তাবিত ধারণার ওপর সর্বোচ্চ ১ হাজার শব্দের একটি কনসেপ্ট নোট জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে ধারণার পেছনের মূল উদ্দেশ্য, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরে একটি ৩ মিনিটের পিচ ভিডিও জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ তৈরিতে দেশের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তরুণ ও গবেষকদের অভিজ্ঞতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে জাতীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান করার অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে এ আয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

তরুণ ও পেশাজীবীদের উদ্ভাবনী আইডিয়া আহ্বান করছে বিদ্যুৎ বিভাগ

আপডেট সময় : ১১:১০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় দাবি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং শক্তির অপচয় রোধে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উদ্ভাবনী উদ্যোগ জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নতুন চিন্তাধারাকে কাজে লাগাতে স্ফুরণ নামের বিশেষ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের টেকসই জ্বালানির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ। স্ফুরণ-টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের সন্ধানে শীর্ষক এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে তরুণ উদ্ভাবক ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত এবং বাস্তবায়নযোগ্য ধারণা আহ্বান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি ওই সময়ের মধ্যে সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবহার ১৫ শতাংশ সাশ্রয়ের একটি সাহসী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কৌশলগত ও পরিবেশগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুধু নীতি প্রণয়ন বা সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, তরুণদের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা অত্যন্ত জরুরি। স্ফুরণ প্রতিযোগিতাটি মূলত দুটি প্রধান ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ করে দিচ্ছে। প্রথমটি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি, যেখানে সোলার সমাধান, স্মার্ট সোলার সেচ, অফ-গ্রিড সিস্টেম, গ্রিড আধুনিকায়ন এবং এনার্জি স্টোরেজ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া উইন্ড এনার্জি, দেশীয় সোলার প্যানেল ও ইনভার্টার উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল এবং অ্যাগ্রি-পিভি বা ভাসমান সোলারের মতো জমিসাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগীরা প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন।

দ্বিতীয় বিভাগটি নির্ধারণ করা হয়েছে জ্বালানি দক্ষতার ওপর। এই ক্যাটাগরিতে ক্যাম্পাস বা কমিউনিটি পর্যায়ে বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তি, ক্লিন কুকিং সিস্টেম এবং জ্বালানি দক্ষতা পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ডিজিটাল টুল নিয়ে কাজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যান ও এর চার্জিং পরিকাঠামো, ভবনে জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানো, ডিমান্ড সাইড এনার্জি ম্যানেজমেন্ট, বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী কুলিং পদ্ধতি, রেট্রোফিট সমাধান এবং আচরণগত বা নীতিসংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

প্রতিযোগিতাটি মূলত দুটি গ্রুপে ভাগ করে পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রুপ এ শিক্ষার্থী বিভাগে যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগের দুজন সদস্যের দল হিসেবে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রুপ বি রাখা হয়েছে পেশাজীবীদের জন্য, যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের যেকোনো কর্মকর্তা বা গবেষক এককভাবে তাদের ধারণা জমা দিতে পারবেন। আগ্রহী প্রতিযোগী বা দলকে তাদের প্রস্তাবিত ধারণার ওপর সর্বোচ্চ ১ হাজার শব্দের একটি কনসেপ্ট নোট জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে ধারণার পেছনের মূল উদ্দেশ্য, বাস্তবায়নযোগ্যতা এবং সম্ভাব্য প্রভাব সংক্ষেপে তুলে ধরে একটি ৩ মিনিটের পিচ ভিডিও জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ তৈরিতে দেশের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তরুণ ও গবেষকদের অভিজ্ঞতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাকে জাতীয় পর্যায়ে দৃশ্যমান করার অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে এ আয়োজন।