ঢাকা ০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি পাঁচ চিকিৎসককে, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিশিগানে আগের দিন ওবামা, পরদিন ট্রাম্প সুন্দরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গাজায় নিজের সেনাসন্তান নিহত হওয়াতেই কি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আইজেনকট বাংলাদেশের শিক্ষক থেকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী, আমার অভিজ্ঞতা পাখি তো আকাশেই সুন্দর রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, তিনজন নিহত মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু অফিস থেকে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন যুবক, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত গুলশান-বনানীর পাঠকদের হাতের নাগালে বইয়ের সম্ভার

হাসিমুখে ফুলেল শুভেচ্ছা নিলেন শিক্ষক, কিছুক্ষণ পর ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:০০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিদিনের মতোই সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে এসেছিলেন প্রধান শিক্ষক নুর আজম (৫৬)। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল ফুল। হাসিমুখে সেই ফুল গ্রহণও করেছিলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্যালয়ের পাশের দোকানে চা খেতে বসেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ সোমবার সকালে সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া নুর আজম মীরগড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। ২০১২ সালে মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

নুর আজমের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা বলছেন, শিক্ষক দিবসে এমন একটি দিন দেখতে হবে তা নিজেদের কাছেই অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে তাঁদের।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘হেডস্যার (প্রধান শিক্ষক) সকালে স্কুলে আসার পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তাঁকে ফুল দিয়েছিল। পরে আমরা শ্রেণিকক্ষে চলে যাই। ঠিক ১০টা ২০ মিনিটে খবর পেলাম পাশের দোকান চা খেতে বসে স্যার হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। এ সময় আমাদের স্কুলের অফিস সহায়ক তাঁকে ইজিবাইকে নিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে আমরাও গিয়ে দেখি তিনি মারা গেছেন। চোখের সামনে স্যারকে আসতে দেখলাম, মুহূতেই তাঁর এমন চলে যাওয়া কেন জানি বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

নুর আজম আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে বলে জানান আতাউর রহমান নামে অপর একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। আজ রাত ৯টার দিকে মীরগড় এলাকায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘ওই শিক্ষককে জরুরি বিভাগে আনার পর তাঁর ব্লাড প্রেশার পাওয়া যাচ্ছিল না। শ্বাস–প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে তাঁর বুকে চাপ দেওয়াসহ সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। পরে ইসিজি করে নিশ্চিত হই তিনি মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে (গুরুতর হৃদরোগ) আক্রান্ত হয়েছিলেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

হাসিমুখে ফুলেল শুভেচ্ছা নিলেন শিক্ষক, কিছুক্ষণ পর ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে

আপডেট সময় : ০৬:০০:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিদিনের মতোই সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে এসেছিলেন প্রধান শিক্ষক নুর আজম (৫৬)। শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁর হাতে তুলে দিয়েছিল ফুল। হাসিমুখে সেই ফুল গ্রহণও করেছিলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্যালয়ের পাশের দোকানে চা খেতে বসেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ সোমবার সকালে সাড়ে ১০টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া নুর আজম মীরগড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। ২০১২ সালে মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

নুর আজমের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা বলছেন, শিক্ষক দিবসে এমন একটি দিন দেখতে হবে তা নিজেদের কাছেই অবিশ্বাস্য বলে মনে হচ্ছে তাঁদের।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘হেডস্যার (প্রধান শিক্ষক) সকালে স্কুলে আসার পর শিক্ষার্থীরা শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তাঁকে ফুল দিয়েছিল। পরে আমরা শ্রেণিকক্ষে চলে যাই। ঠিক ১০টা ২০ মিনিটে খবর পেলাম পাশের দোকান চা খেতে বসে স্যার হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা অনুভব করছিলেন। এ সময় আমাদের স্কুলের অফিস সহায়ক তাঁকে ইজিবাইকে নিয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন। পরে আমরাও গিয়ে দেখি তিনি মারা গেছেন। চোখের সামনে স্যারকে আসতে দেখলাম, মুহূতেই তাঁর এমন চলে যাওয়া কেন জানি বিশ্বাসই করতে পারছি না।’

নুর আজম আগে থেকেই ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন বলে বলে জানান আতাউর রহমান নামে অপর একজন সহকারী শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। আজ রাত ৯টার দিকে মীরগড় এলাকায় জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘ওই শিক্ষককে জরুরি বিভাগে আনার পর তাঁর ব্লাড প্রেশার পাওয়া যাচ্ছিল না। শ্বাস–প্রশ্বাস স্বাভাবিক করতে তাঁর বুকে চাপ দেওয়াসহ সব ধরনের চেষ্টা করা হয়। পরে ইসিজি করে নিশ্চিত হই তিনি মারা গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে (গুরুতর হৃদরোগ) আক্রান্ত হয়েছিলেন।’