গাইবান্ধায় মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকার, টাঙ্গাইল থেকে প্রধান আসামি গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ১০:৪৭:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ৬৯ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে একাধিকবার বলাৎকারের অভিযোগে মো. সানজু বকশী (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সোয়া ১০টার দিকে র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতার সানজু বকশী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তালুক ফলগাছা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন বকসির ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু স্থানীয় বকশীপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। সানজু বকশী ওই শিশুর প্রতিবেশী। গত ৯ মে মাদ্রাসার হুজুরের অনুমতি নিয়ে বাড়ি পাহারা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান তিনি। ওই রাতে শিশুটিকে বলাৎকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, ঘটনার সময় শিশুটির মুখ চেপে ধরে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া ও তার বাবা-মাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরে গত ১৪ জুন সানজু বকশী সবার অগোচরে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিশুটিকে আবারও বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর গত ২৫ জুন বিকেলে মাদ্রাসার হুজুর না থাকার সুযোগে শিশুটিকে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সানজু। একপর্যায়ে শিশুটির পোশাক খুলতে বললে সে চিৎকার শুরু করে। এ সময় মাদ্রাসার এক শিক্ষক কক্ষে প্রবেশ করলে সানজু ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে র্যাবের ভাষ্য।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি সুন্দরগঞ্জ থানায় রেকর্ড করা হয়। মামলার পর থেকেই প্রধান আসামি সানজু বকশী আত্মগোপনে ছিলেন।
মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব-১৩ আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে র্যাব-১৩ গাইবান্ধা ক্যাম্প ও র্যাব-১৪ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের যৌথ দল টাঙ্গাইল সদর থানার গড়াশিন বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মামলার প্রধান আসামি সানজু বকশীকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশু ও নারীর প্রতি সহিংসতা এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

















