ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

‘বিয়ের আশ্বাসে’ স্কুল শিক্ষিকাকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী (৩৩) বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগী ছালেহীন আকন্দকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাদে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের সঙ্গে ওই শিক্ষিকার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চেয়ারম্যান তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিয়ের কথা বললে চেয়ারম্যান বিভিন্ন কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের সহযোগী ছালেহীন আকন্দ ওই শিক্ষিকার গোপন ছবি ধারণ করে তা বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেন। একইসঙ্গে ৩০০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকা।

এ ছাড়া বিয়ের খরচের কথা বলে ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে ব্যাংকঋণের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, চেয়ারম্যানের বিয়ের আশ্বাসে তিনি তার প্রথম সংসার ভেঙে দেন। ওই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি প্রথমে থানায় অভিযোগ করেন। মামলা গ্রহণ না করায় গত ১৬ আগস্ট আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। শুনানি শেষে আদালত থানাকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদ সম্মেলন করে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ধর্ষণ, প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

‘বিয়ের আশ্বাসে’ স্কুল শিক্ষিকাকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৯:১৩:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে ভুক্তভোগী (৩৩) বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম ও তার সহযোগী ছালেহীন আকন্দকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাদে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের সঙ্গে ওই শিক্ষিকার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চেয়ারম্যান তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিয়ের কথা বললে চেয়ারম্যান বিভিন্ন কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের সহযোগী ছালেহীন আকন্দ ওই শিক্ষিকার গোপন ছবি ধারণ করে তা বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেন। একইসঙ্গে ৩০০ টাকার ফাঁকা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকা।

এ ছাড়া বিয়ের খরচের কথা বলে ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে ব্যাংকঋণের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, চেয়ারম্যানের বিয়ের আশ্বাসে তিনি তার প্রথম সংসার ভেঙে দেন। ওই সংসারে তার দুটি সন্তান রয়েছে। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি প্রথমে থানায় অভিযোগ করেন। মামলা গ্রহণ না করায় গত ১৬ আগস্ট আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। শুনানি শেষে আদালত থানাকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সংবাদ সম্মেলন করে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ধর্ষণ, প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।’