ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

গাইবান্ধায় হাসপাতালের তিন কার্টন সিরিঞ্জসহ নারী আটক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ১৬৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ইনজেকশন সিরিঞ্জ বাইরে নেওয়ার সময় রওশনা বেগম নামে এক নারীকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তার কাছে থাকা একটি বস্তা থেকে তিন কার্টন ইনজেকশন সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্দেহজনকভাবে একটি বস্তা বহন করছিলেন রওশনা বেগম। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা বস্তা তল্লাশি করে তিন কার্টন ইনজেকশন সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রওশনা বেগম জানান, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ ঝরনা বেগম তাকে এসব সিরিঞ্জ দিয়েছেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

আটক রওশনা বেগম বলেন, ‘আমি তো কাজ করে দিয়ে নিয়েছি। যে দিয়েছে তাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ ঝরনা বেগম বলেন, ‘বহিরাগতদের দিয়ে কিছু কাজ করানো হয়েছিল। কাজের বিনিময়ে আমি তাকে সিরিঞ্জ দিয়েছি। তবে এ কাজ আমার করা ঠিক হয়নি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত চিকিৎসাসামগ্রী এভাবে বাইরে চলে গেলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ উর রহমান বলেন, ‘ইনজেকশন সিরিঞ্জ বাইরে নেওয়ার ঘটনা সত্য। তবে কার মাধ্যমে এবং কীভাবে এগুলো ওই নারীর কাছে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গাইবান্ধায় হাসপাতালের তিন কার্টন সিরিঞ্জসহ নারী আটক

আপডেট সময় : ১০:৩১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ইনজেকশন সিরিঞ্জ বাইরে নেওয়ার সময় রওশনা বেগম নামে এক নারীকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় তার কাছে থাকা একটি বস্তা থেকে তিন কার্টন ইনজেকশন সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় ফায়ার সার্ভিস কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্দেহজনকভাবে একটি বস্তা বহন করছিলেন রওশনা বেগম। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা বস্তা তল্লাশি করে তিন কার্টন ইনজেকশন সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রওশনা বেগম জানান, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ ঝরনা বেগম তাকে এসব সিরিঞ্জ দিয়েছেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

আটক রওশনা বেগম বলেন, ‘আমি তো কাজ করে দিয়ে নিয়েছি। যে দিয়েছে তাকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন।’

অভিযোগের বিষয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ইনচার্জ ঝরনা বেগম বলেন, ‘বহিরাগতদের দিয়ে কিছু কাজ করানো হয়েছিল। কাজের বিনিময়ে আমি তাকে সিরিঞ্জ দিয়েছি। তবে এ কাজ আমার করা ঠিক হয়নি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালের রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত চিকিৎসাসামগ্রী এভাবে বাইরে চলে গেলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আসিফ উর রহমান বলেন, ‘ইনজেকশন সিরিঞ্জ বাইরে নেওয়ার ঘটনা সত্য। তবে কার মাধ্যমে এবং কীভাবে এগুলো ওই নারীর কাছে গেল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় হাসপাতালের যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি চিকিৎসাসামগ্রী ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’