কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তাড়াশের উপজেলায় পশুর হাটে কেনাবেচা ধুম
- আপডেট সময় : ১০:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে জমে উঠেছে গরু-ছাগল কেনাবেচা। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিনসারা হাটসহ বিভিন্ন পশুর বাজারে সকাল থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠছে হাট এলাকা। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া নিয়ে হাটে আসছেন। তবে হাটে ক্রেতার উপস্থিতি থাকলেও পশুর দাম নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়পক্ষের মধ্যেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছোট-বড় নানা জাতের গরু-ছাগল নিয়ে চলছে দরদাম। কেউ কোরবানির জন্য পছন্দের পশু কিনছেন, আবার কেউ বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিক্রেতারাও ভালো দামের আশায় পশু নিয়ে হাটে অবস্থান করছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, পশুর দাম তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, পশুখাদ্য, ওষুধ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান দামেও তারা লাভ করতে পারছেন না। তাদের ভাষ্য, উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য নেই।
এ বছর ভারতীয় গরু না আসায় হাটে দেশীয় জাতের পশুর আধিক্য দেখা গেছে। তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ, গুল্টা ও পৌর সদরসহ বিভিন্ন পশুর হাটে প্রচুর দেশীয় গরু উঠেছে। তবে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে।
তাড়াশ উপজেলায় প্রতি বৃহস্পতিবার নওগাঁ হাট, মঙ্গলবার গুল্টা হাট এবং সপ্তাহে দুদিন সোমবার ও শুক্রবার পৌর সদর হাটে ব্যাপক পরিমাণ পশু কেনাবেচা হয়। বিক্রেতারা জানান, ছোট ও মাঝারি গরু তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হলেও বড় গরুর ক্রেতা কম। ফলে প্রত্যাশার চেয়ে কম দামে বড় গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।
ভাদাশ গ্রামের খামারি আছের আলী জানান, তিনি চারটি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও তারা কম দাম বলছেন। তিনি বলেন, ‘যে দাম বলা হচ্ছে, তাতে খরচই উঠবে না। লাভ তো দূরের কথা। ঈদের আগে যদি বাজার এমনই থাকে, তা হলে লোকসান অনিবার্য।’
পশু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাড়িতে পশু পালনের জায়গা না থাকায় তারা বিক্রেতার কাছেই পশু রেখে দেন। এ কারণে তাড়াশের হাট থেকে নিয়মিত পশু কেনেন তারা। তবে বিক্রেতারা এবার তুলনামূলক বেশি দাম চাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।
নওগাঁ পশুর হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর আমদানি বেশি। এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই কোরবানি সামনে রেখে প্রচুর পশু হাটে আসছে। তবে আমদানির তুলনায় বিক্রি কম। ছোট ও মাঝারি গরু বেশি বিক্রি হলেও বড় গরুর বাজার তুলনামূলক ধীর।
তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১০ হাজার ৬৩৪টি গরু, ২ হাজার ৮১৪টি বলদ, ৩ হাজার ৪৫১টি বকনা, ১ হাজার ৭০টি মহিষ, ৪১ হাজার ৭১০টি ছাগল এবং ৩ হাজার ৯২০টি ভেড়া। অন্যদিকে উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৭০৫টি।



















