প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার
- আপডেট সময় : ০৫:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

সবার জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উচ্চগতির সংযোগ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার স্মার্ট কানেক্টিভিটি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে এবং সার্ভার ও ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে শহর থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড বিক্রি করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন করে বিনিয়োগ এবং পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে এটিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করা হবে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ফ্রিল্যান্সিং খাতে বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এআই ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে সরকার। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন পথও তৈরি হবে।
এদিকে স্মার্টফোনকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য স্পেকট্রামের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো নয়; বরং একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।
তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশলে ডেটা সেন্টার, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দেশের উন্নয়নে বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন সঠিক নীতি, আধুনিক অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, টেলিকম খাত থেকে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। এই খাত থেকে জিডিপির প্রায় ১৫ শতাংশ অবদান আসা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সরকার টেলিকম খাতে বিশ্বের শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে অবস্থান নিশ্চিত করতে চায় এবং সে লক্ষ্য সামনে রেখে একটি পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। বাজেটের পর এই রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে, যাতে খাতটি পূর্বানুমেয় নীতির আওতায় পরিচালিত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, গত ছয় সপ্তাহে টেলিকম খাত সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। এসব বৈঠকে তাদের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শোনা হয়েছে। বর্তমানে টেলিকম খাতে করহার তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও দেশের সামগ্রিক ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত এখনো কম।
তিনি বলেন, টেলিকম খাত এখন সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম কর রাজস্ব উৎস। কর কমানো হলে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। তবে সব সমস্যার সমাধান এক বাজেটেই সম্ভব না হলেও সরকার বাস্তবভিত্তিক সমাধানের চেষ্টা করবে।
তিনি আরও বলেন, গার্মেন্টস খাতে যেমন বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তি ও উৎপাদন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ইলেকট্রনিকস খাতেও একই ধরনের নীতিগত সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


























