ঢাকা ০১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

সাংবাদিকতাকে বাঁচাতে আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিহত করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী সম্পাদকীয় কাঠামো গড়ে তোলা এবং আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে গণমাধ্যমকে মুক্ত রাখা জরুরি বলে মত দিয়েছেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এমআরডিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। অধিবেশনের বিষয় ছিল— বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের পথ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সত্য অনুসন্ধান ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ, কিন্তু আধুনিক নিউজরুমে দ্রুততার চাপের কারণে অনেক সময় গভীর অনুসন্ধান গুরুত্ব হারায়। তিনি বলেন, তথ্য ও অপতথ্যের ভিড়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ চাপা পড়ে যাওয়াও এক ধরনের আধুনিক সেন্সরশিপ।

পাকিস্তানের দৈনিক ডন-এর সম্পাদক জাফর আব্বাস বলেন, একটি গণমাধ্যমের টিকে থাকা নির্ভর করে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও সততার ওপর। মালিক, ব্যবস্থাপনা ও সম্পাদকীয় টিমের মধ্যে সুস্পষ্ট ভূমিকা বিভাজন না থাকলে সাংবাদিকতা টেকসই হয় না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বে গত এক দশকে অন্তত ৫০০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশেও সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও নিরাপদ গণমাধ্যম পরিবেশ ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না।

ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকাল অতিক্রম করছে। এ সময়ে মিডিয়া সংস্কার ও একটি বহুমাত্রিক সংবাদমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, সম্পাদককে কখনোই মালিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা উচিত নয়।

যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ বলেন, বিজ্ঞাপননির্ভরতার কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা গণমাধ্যমের একটি বড় সীমাবদ্ধতা।

এমআরডিআই নির্বাহী পরিচালক হাসিব রহমান জানান, সম্মেলনে অংশ নিতে ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, যা সাংবাদিকদের মধ্যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শেখার আগ্রহের প্রমাণ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক এমিলিয়া ডাস এবং অন্যান্য অতিথিরা। বক্তারা সবাই মত দেন, তথ্যভিত্তিক, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতাই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সাংবাদিকতাকে বাঁচাতে আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিহত করার আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:০৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে টিকিয়ে রাখতে শক্তিশালী সম্পাদকীয় কাঠামো গড়ে তোলা এবং আর্থিক ও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে গণমাধ্যমকে মুক্ত রাখা জরুরি বলে মত দিয়েছেন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এমআরডিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তারা এসব কথা বলেন। অধিবেশনের বিষয় ছিল— বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: বর্তমান অবস্থা, চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের পথ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সত্য অনুসন্ধান ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ, কিন্তু আধুনিক নিউজরুমে দ্রুততার চাপের কারণে অনেক সময় গভীর অনুসন্ধান গুরুত্ব হারায়। তিনি বলেন, তথ্য ও অপতথ্যের ভিড়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ চাপা পড়ে যাওয়াও এক ধরনের আধুনিক সেন্সরশিপ।

পাকিস্তানের দৈনিক ডন-এর সম্পাদক জাফর আব্বাস বলেন, একটি গণমাধ্যমের টিকে থাকা নির্ভর করে সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও সততার ওপর। মালিক, ব্যবস্থাপনা ও সম্পাদকীয় টিমের মধ্যে সুস্পষ্ট ভূমিকা বিভাজন না থাকলে সাংবাদিকতা টেকসই হয় না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বে গত এক দশকে অন্তত ৫০০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশেও সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা ও হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন ও নিরাপদ গণমাধ্যম পরিবেশ ছাড়া গণতন্ত্র শক্তিশালী হতে পারে না।

ইউনেস্কোর প্রতিনিধি সুসান ভাইজ বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকাল অতিক্রম করছে। এ সময়ে মিডিয়া সংস্কার ও একটি বহুমাত্রিক সংবাদমাধ্যম ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার পূর্বশর্ত হলো শক্তিশালী সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, সম্পাদককে কখনোই মালিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা উচিত নয়।

যমুনা টিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ বলেন, বিজ্ঞাপননির্ভরতার কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা গণমাধ্যমের একটি বড় সীমাবদ্ধতা।

এমআরডিআই নির্বাহী পরিচালক হাসিব রহমান জানান, সম্মেলনে অংশ নিতে ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি আবেদন জমা পড়েছিল, যা সাংবাদিকদের মধ্যে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শেখার আগ্রহের প্রমাণ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক এমিলিয়া ডাস এবং অন্যান্য অতিথিরা। বক্তারা সবাই মত দেন, তথ্যভিত্তিক, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক সাংবাদিকতাই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি।