সময় বাড়িয়েও শেষ হয়নি সেতুর নির্মাণ কাজ; ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীসহ সহস্রাধিক মানুষ
- আপডেট সময় : ০৩:২৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে খড়খড়ি নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি। এক দফা সময় বাড়িয়েও প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে শিক্ষার্থীসহ আশপাশের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষা শুরু হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে স্থানীয়দের।
সরেজমিনে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পিলার নির্মাণ শেষ হলেও কাজের গতি খুবই ধীর। একটি স্প্যান বসানো হয়েছে, অন্য স্প্যানের কাজ চলছে ধীরগতিতে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। আগে চলাচলের জন্য সেতুর পাশে একটি বাঁশের সাঁকো থাকলেও নির্মাণকাজের সময় সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে নারী, বয়স্ক ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের উমেষের ডাঙ্গা এলাকার খড়খড়ি নদী পার হয়ে ইউনিয়নের ৪, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বাদশা বাজার ও ভবানীগঞ্জ এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল ও উপজেলা সদরে যাওয়ার এটি অন্যতম সহজ পথ। এছাড়া শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদেক বলে, ‘এখন নদীতে পানি বেড়েছে। স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। কাপড় ভিজে যায়, পানির কারণে হাত-পা চুলকায়।’
স্থানীয় যুবক মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ তিন বছর হয়ে গেলেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি। যাতায়াতের কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। নদীতে পানি বাড়ায় কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে।’
আলমগীর নামে এক ভ্যানচালক বলেন, ‘পানি বেড়ে যাওয়ায় ভ্যান নিয়ে বাড়ি যাওয়া যায় না। ফসল পারাপার করতেও অনেক কষ্ট হয়। বর্ষাকাল চলে আসছে, আপাতত একটি বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দিলে চলাচলে কিছুটা সুবিধা হতো।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ‘IRIDP-3’ প্রকল্পের আওতায় খড়খড়ি নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ একটি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩০ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড।
সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্ধেক কাজও সম্পন্ন করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সেতুর ৭০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি।
চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর পরও প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ থাকার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপ-ঠিকাদার রাসেল ইসলাম বলেন, ‘মূলত বরিশালের একজন ঠিকাদার এই কাজটি পেয়েছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে আমাকে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার ইসলাম শাকিল বলেন, ‘উমেষের ডাঙ্গায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার চেষ্টা চলছে। অতিবৃষ্টির কারণে যে সাময়িক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, ‘এলাকাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

















