ঢাকা ০১:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

১০ বছরের অপেক্ষার পর ৭ নবজাতক, পৃথিবীর আলো দেখেই না ফেরার দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দশ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। অনেক মানত আর প্রার্থনার পর যখন কোলজুড়ে সন্তান আসার সুখবর এল, তখন নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের সালমা-মহসিন দম্পতির ঘরে নেমে এসেছিল আনন্দের জোয়ার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পৃথিবীর আলো দেখেও বাঁচতে পারল না তাদের সাত নবজাতক।

জানা গেছে, প্রায় দশ বছর আগে কালুখালী গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে মহসিন মোল্যার সঙ্গে বিয়ে হয় সালমার। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর তিন বছর আগে দেশে ফিরে মহসিন ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সন্তানসম্ভবা হন সালমা। চিকিৎসকরা প্রথমে জানিয়েছিলেন তার গর্ভে ছয়টি সন্তান রয়েছে। তবে প্রসবের সময় একে একে জন্ম নেয় সাতটি শিশু—চার ছেলে ও তিন মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার প্রসব বেদনা শুরু হলে সালমাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে প্রথম দুই সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের কিছুক্ষণ পরই তারা মারা যায়। এরপর বুধবার রাতে জন্ম নেয় আরও পাঁচটি নবজাতক। কিন্তু অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সাতটি শিশু।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, শিশুগুলো অত্যন্ত অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নিয়েছিল। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে জন্ম নেওয়া এই নবজাতকদের গড় ওজন ছিল প্রায় ২০০ গ্রাম। হার্টবিট থাকলেও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সব চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে কালুখালী গ্রামে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নিজ হাতে সাতটি শিশুর দাফন সম্পন্ন করেন তাদের দাদা লতিফ মোল্যা। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “নিজের হাতে এতগুলো ছোট প্রাণকে কবর দেওয়া যে কত কষ্টের, তা কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। দশ বছর পর আশার আলো দেখেছিলাম, কিন্তু সবকিছু মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

১০ বছরের অপেক্ষার পর ৭ নবজাতক, পৃথিবীর আলো দেখেই না ফেরার দেশে

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

দশ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষা। অনেক মানত আর প্রার্থনার পর যখন কোলজুড়ে সন্তান আসার সুখবর এল, তখন নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামের সালমা-মহসিন দম্পতির ঘরে নেমে এসেছিল আনন্দের জোয়ার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পৃথিবীর আলো দেখেও বাঁচতে পারল না তাদের সাত নবজাতক।

জানা গেছে, প্রায় দশ বছর আগে কালুখালী গ্রামের লতিফ মোল্যার ছেলে মহসিন মোল্যার সঙ্গে বিয়ে হয় সালমার। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর তিন বছর আগে দেশে ফিরে মহসিন ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সন্তানসম্ভবা হন সালমা। চিকিৎসকরা প্রথমে জানিয়েছিলেন তার গর্ভে ছয়টি সন্তান রয়েছে। তবে প্রসবের সময় একে একে জন্ম নেয় সাতটি শিশু—চার ছেলে ও তিন মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার প্রসব বেদনা শুরু হলে সালমাকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে প্রথম দুই সন্তানের জন্ম হয়। জন্মের কিছুক্ষণ পরই তারা মারা যায়। এরপর বুধবার রাতে জন্ম নেয় আরও পাঁচটি নবজাতক। কিন্তু অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সাতটি শিশু।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, শিশুগুলো অত্যন্ত অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নিয়েছিল। মাত্র পাঁচ মাস বয়সে জন্ম নেওয়া এই নবজাতকদের গড় ওজন ছিল প্রায় ২০০ গ্রাম। হার্টবিট থাকলেও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সব চেষ্টা সত্ত্বেও তাদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার সকালে কালুখালী গ্রামে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নিজ হাতে সাতটি শিশুর দাফন সম্পন্ন করেন তাদের দাদা লতিফ মোল্যা। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “নিজের হাতে এতগুলো ছোট প্রাণকে কবর দেওয়া যে কত কষ্টের, তা কাউকে বলে বোঝাতে পারব না। দশ বছর পর আশার আলো দেখেছিলাম, কিন্তু সবকিছু মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।”