ঢাকা ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেসরকারি খাতের ৫৫% কর্মী এআই ব্যবহার করেন, মেটলাইফের জরিপ প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন, সবাই অকৃতকার্য ঘর হারিয়েও গল্প বলা থামেনি তাঁদের গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী অন্য আসামিদের সঙ্গে জিয়াউলকে আনলে সবাই আক্রান্ত হতে পারেন—এই বুদ্ধি কোথায় পেলেন: প্রসিকিউশনকে প্রশ্ন ট্রাইব্যুনালের হঠাৎ উচ্ছেদ নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়তে এক মাস সময় দেওয়ার দাবি বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ যুক্তরাষ্ট্রে বসে ওয়ারীতে মাদকের ল্যাব পরিচালনা, দেশে ফিরে গ্রেপ্তার আবার হামলা হলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের

৭৭৫ কিলোমিটার খালে ফিরছে প্রাণ, সিলেটের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

সিলেট প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৫২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে পিছিয়ে থাকা সিলেটের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ৩২৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে। মোট ৭৭৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিএডিসি সিলেট অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব বলেন, ৩২৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের কাজ চলছে। এর মধ্যে ২০৯ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল এবং ১২৫ কিলোমিটার সেচ খাল। এই সেচ খালগুলো চালু হলে প্রায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি নতুন করে সেচের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে কমবে।

তিনি আরও বলেন, খাল খননের পর খালের দুই পাড়ে রাস্তা তৈরি করা হবে। এতে কৃষকদের ফসল আনা-নেওয়া সহজ হবে, গবাদিপশুর চলাচলও বাড়বে। খালে পানি থাকায় নৌকাযোগে ফসল পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বাড়বে। খালপাড়ের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর পতিত জমিও আবাদের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে ধানের উৎপাদন বাড়বে, কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য বড় সহায়ক হবে। তবে কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালগুলো সচল হলে পানির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত হবে। এতে এক সময়ের অনাবাদি জমি আবার আবাদে ফিরবে এবং এক ফসলি জমি রূপ নেবে দুই ফসলি জমিতে। একই সঙ্গে খালের পাড়ের পতিত জমিতে মৌসুমি ফসলের চাষাবাদ বাড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ করবে।

সিলেটের কৃষকদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আশাবাদ। গোয়াইনঘাটের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, খালগুলো ঠিকভাবে খনন করা হলে বর্ষায় পানি নামবে, আবার শুকনো মৌসুমে সেচও পাওয়া যাবে। এতে জমি পতিত থাকবে না।

আরেক কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, পানি থাকলে বছরে দুইবার চাষ করা সম্ভব হবে, উৎপাদন বাড়বে, আয়ও বাড়বে।

সিলেট সদর উপজেলার কিষানি সালমা বেগম বলেন, খালের পাশে জমিতে সবজি চাষ করা যাবে, এতে সংসারে বাড়তি আয় হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ সিলেটের কৃষিতে দীর্ঘদিনের সংকট দূর করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

৭৭৫ কিলোমিটার খালে ফিরছে প্রাণ, সিলেটের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের আভাস

আপডেট সময় : ০৯:২৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে পিছিয়ে থাকা সিলেটের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ৩২৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে। মোট ৭৭৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিএডিসি সিলেট অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব বলেন, ৩২৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের কাজ চলছে। এর মধ্যে ২০৯ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল এবং ১২৫ কিলোমিটার সেচ খাল। এই সেচ খালগুলো চালু হলে প্রায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি নতুন করে সেচের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে কমবে।

তিনি আরও বলেন, খাল খননের পর খালের দুই পাড়ে রাস্তা তৈরি করা হবে। এতে কৃষকদের ফসল আনা-নেওয়া সহজ হবে, গবাদিপশুর চলাচলও বাড়বে। খালে পানি থাকায় নৌকাযোগে ফসল পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বাড়বে। খালপাড়ের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর পতিত জমিও আবাদের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে ধানের উৎপাদন বাড়বে, কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য বড় সহায়ক হবে। তবে কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালগুলো সচল হলে পানির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত হবে। এতে এক সময়ের অনাবাদি জমি আবার আবাদে ফিরবে এবং এক ফসলি জমি রূপ নেবে দুই ফসলি জমিতে। একই সঙ্গে খালের পাড়ের পতিত জমিতে মৌসুমি ফসলের চাষাবাদ বাড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ করবে।

সিলেটের কৃষকদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আশাবাদ। গোয়াইনঘাটের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, খালগুলো ঠিকভাবে খনন করা হলে বর্ষায় পানি নামবে, আবার শুকনো মৌসুমে সেচও পাওয়া যাবে। এতে জমি পতিত থাকবে না।

আরেক কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, পানি থাকলে বছরে দুইবার চাষ করা সম্ভব হবে, উৎপাদন বাড়বে, আয়ও বাড়বে।

সিলেট সদর উপজেলার কিষানি সালমা বেগম বলেন, খালের পাশে জমিতে সবজি চাষ করা যাবে, এতে সংসারে বাড়তি আয় হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ সিলেটের কৃষিতে দীর্ঘদিনের সংকট দূর করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।