
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে পিছিয়ে থাকা সিলেটের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ৩২৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে। মোট ৭৭৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিএডিসি সিলেট অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব বলেন, ৩২৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের কাজ চলছে। এর মধ্যে ২০৯ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল এবং ১২৫ কিলোমিটার সেচ খাল। এই সেচ খালগুলো চালু হলে প্রায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি নতুন করে সেচের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে কমবে।
তিনি আরও বলেন, খাল খননের পর খালের দুই পাড়ে রাস্তা তৈরি করা হবে। এতে কৃষকদের ফসল আনা-নেওয়া সহজ হবে, গবাদিপশুর চলাচলও বাড়বে। খালে পানি থাকায় নৌকাযোগে ফসল পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বাড়বে। খালপাড়ের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর পতিত জমিও আবাদের আওতায় আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে ধানের উৎপাদন বাড়বে, কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য বড় সহায়ক হবে। তবে কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালগুলো সচল হলে পানির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত হবে। এতে এক সময়ের অনাবাদি জমি আবার আবাদে ফিরবে এবং এক ফসলি জমি রূপ নেবে দুই ফসলি জমিতে। একই সঙ্গে খালের পাড়ের পতিত জমিতে মৌসুমি ফসলের চাষাবাদ বাড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ করবে।
সিলেটের কৃষকদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আশাবাদ। গোয়াইনঘাটের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, খালগুলো ঠিকভাবে খনন করা হলে বর্ষায় পানি নামবে, আবার শুকনো মৌসুমে সেচও পাওয়া যাবে। এতে জমি পতিত থাকবে না।
আরেক কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, পানি থাকলে বছরে দুইবার চাষ করা সম্ভব হবে, উৎপাদন বাড়বে, আয়ও বাড়বে।
সিলেট সদর উপজেলার কিষানি সালমা বেগম বলেন, খালের পাশে জমিতে সবজি চাষ করা যাবে, এতে সংসারে বাড়তি আয় হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ সিলেটের কৃষিতে দীর্ঘদিনের সংকট দূর করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক : মিসেস রোকসানা খানম
অফিস : বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৫বি, সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩।
ইমেইল : khoborpratidin.news@gmail.com
Copyright © 2026 খবর প্রতিদিন. All rights reserved.