ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

হাওরে স্বল্পমেয়াদি বোরো চাষে নতুন আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভূপ্রকৃতিগত কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় নিচু হওয়ায় দেশের হাওরাঞ্চল প্রতি বছর আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয় পুরো এলাকা। হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান হলেও আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি, খরা ও ঠান্ডাজনিত চাপ উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আগাম ও আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকেরা।

এ সমস্যা উত্তরণে হাওরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান চাষই হতে পারে কার্যকর সমাধান, যা বন্যা আসার আগেই কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক। ২০২০ সাল থেকে তিনি এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। সহযোগী গবেষক ছিলেন অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলী।

অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই উৎপাদন হয় প্রায় ১৮ শতাংশ। কিন্তু প্রায় প্রতিবছরই আগাম বন্যায় ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি ধানের পরিবর্তে যদি স্বল্পমেয়াদি জাত ব্যবহার করা যায়, তাহলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই ধান কাটা সম্ভব হবে। এতে আগাম বন্যার ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যাবে।

গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৩৬ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হাওরে সবচেয়ে বেশি আকস্মিক বন্যা হয় মে মাসে। এপ্রিলের শেষ ভাগেও এর প্রভাব থাকে। তাই এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের আগেই ধান কাটতে পারলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

তিনি বলেন, সাধারণত ব্রি ধান ৯২ জাতের ধান পরিপক্ক হতে সময় লাগে প্রায় ১৬০ দিন। ফলে এটি কাটা যায় বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে, যখনই বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ১০১, ব্রি ধান ১১৩, ব্রি ধান ১০৫ ও ব্রি ধান ২৫-এর মতো স্বল্পমেয়াদি জাত প্রায় ১৪৫ দিনে পরিপক্ক হয়। এতে ১৫ দিন আগেই ফসল কাটা সম্ভব।

অধ্যাপক প্রামাণিক আরও বলেন, আগাম বন্যা এড়াতে হলে ১০ জানুয়ারির মধ্যে চারা রোপণ শেষ করতে হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি ধান এপ্রিলের প্রথমার্ধেই কেটে সফলতা পাওয়া গেছে।

তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, হাওরে দ্রুত সময়ে চারা রোপণ ও ধান কাটার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার জরুরি। এতে একই সময়ে ফসল রোপণ ও সংগ্রহ দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং ক্ষতি কমবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

হাওরে স্বল্পমেয়াদি বোরো চাষে নতুন আশা

আপডেট সময় : ১১:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ভূপ্রকৃতিগত কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনায় নিচু হওয়ায় দেশের হাওরাঞ্চল প্রতি বছর আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয় পুরো এলাকা। হাওরের প্রধান ফসল বোরো ধান হলেও আগাম বন্যা, শিলাবৃষ্টি, খরা ও ঠান্ডাজনিত চাপ উৎপাদনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আগাম ও আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকেরা।

এ সমস্যা উত্তরণে হাওরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বোরো ধান চাষই হতে পারে কার্যকর সমাধান, যা বন্যা আসার আগেই কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক। ২০২০ সাল থেকে তিনি এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। সহযোগী গবেষক ছিলেন অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান শেলী।

অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই উৎপাদন হয় প্রায় ১৮ শতাংশ। কিন্তু প্রায় প্রতিবছরই আগাম বন্যায় ১০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারেন না।

তিনি আরও বলেন, প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি ধানের পরিবর্তে যদি স্বল্পমেয়াদি জাত ব্যবহার করা যায়, তাহলে প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই ধান কাটা সম্ভব হবে। এতে আগাম বন্যার ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো যাবে।

গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৩৬ বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, হাওরে সবচেয়ে বেশি আকস্মিক বন্যা হয় মে মাসে। এপ্রিলের শেষ ভাগেও এর প্রভাব থাকে। তাই এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের আগেই ধান কাটতে পারলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

তিনি বলেন, সাধারণত ব্রি ধান ৯২ জাতের ধান পরিপক্ক হতে সময় লাগে প্রায় ১৬০ দিন। ফলে এটি কাটা যায় বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে, যখনই বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। কিন্তু ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ১০১, ব্রি ধান ১১৩, ব্রি ধান ১০৫ ও ব্রি ধান ২৫-এর মতো স্বল্পমেয়াদি জাত প্রায় ১৪৫ দিনে পরিপক্ক হয়। এতে ১৫ দিন আগেই ফসল কাটা সম্ভব।

অধ্যাপক প্রামাণিক আরও বলেন, আগাম বন্যা এড়াতে হলে ১০ জানুয়ারির মধ্যে চারা রোপণ শেষ করতে হবে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি ধান এপ্রিলের প্রথমার্ধেই কেটে সফলতা পাওয়া গেছে।

তিনি কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, হাওরে দ্রুত সময়ে চারা রোপণ ও ধান কাটার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার জরুরি। এতে একই সময়ে ফসল রোপণ ও সংগ্রহ দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং ক্ষতি কমবে।