গাইবান্ধার সুরাইয়া পেলেন যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরী নির্মাতা পুরস্কার
- আপডেট সময় : ০৭:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৯৮ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বের ১৮৪টি সিনেমাকে পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন তরুণ নির্মাতা সুরাইয়া তাছনিন সাথী। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে অনুষ্ঠিত ১৩তম ‘কানেক্টহার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’–এ তার নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘রেশমা, এ স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’ সেরা সিনেমার পুরস্কার অর্জন করেছে।
এটি ছিল সুরাইয়ার প্রথম নির্মাণ। কানেক্টহারের ফেলোশিপভিত্তিক ফিল্ম ক্লাসে অংশ নিয়ে তিনি সিনেমা নির্মাণের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রায় এক বছরের গবেষণা ও পরিশ্রমে তৈরি এই প্রামাণ্যচিত্র প্রথম কাজেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দেয় তাকে।
কানেক্টহার একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা নারী ও কন্যাশিশুদের সামাজিক অবস্থান উন্নয়নে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি নারী নেতৃত্বাধীন প্রকল্প, শিক্ষার্থী নির্মাতাদের সিনেমা আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরা এবং তরুণদের সামাজিক পরিবর্তনে সম্পৃক্ত করার কাজ করে থাকে।
সুরাইয়ার সাফল্যের পেছনে ফেলোশিপ মেন্টর নভেরা হাসান নিক্কণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার দিকনির্দেশনায় সুরাইয়া কারিগরি ও শৈল্পিক দক্ষতা অর্জন করেন, যা সিনেমাটিকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
উৎসবটি ১ ও ২ মে অস্টিনের স্ট্রিট থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়। সমাপনী দিনে বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
‘রেশমা, এ স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’ সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সুরাইয়া ফারহানা রেশমা, যার বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের লড়াই তুলে ধরা হয়েছে এতে। সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন মিঠুন বর্মন ও মারুফ ভুঁইয়া। প্রডাকশন টিমে ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক, আপন, আরিফ, সুস্মি সরকার ও অর্ঘ্য রায়। কারিগরি সহায়তায় ছিল ধ্রুপদ কমিউনিকেশন।
গাইবান্ধার আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সুরাইয়া। তার বাড়ি ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ায়।
পুরস্কার প্রসঙ্গে সুরাইয়া বলেন, “আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কানেক্টহার ফিল্ম ক্লাসে প্রথম যখন সিনেমা নির্মাণ শিখছিলাম, তখন ভাবিনি প্রথম ছবিতেই এমন অর্জন আসবে। এক বছরের পরিশ্রম আজ সার্থক হয়েছে। আমার মেন্টর ও আমার মা কহিনুর বেগমের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।”
এই অর্জনের মাধ্যমে তিনি ২,৫০০ মার্কিন ডলার প্রাইজমানি ও একটি স্কলারশিপ লাভ করেন। সুরাইয়ার আশা, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের তরুণ নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

















