ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

চিলমারীতে শিশু আয়েশা হত্যা: দম্পতি গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছর বয়সী শিশু আয়েশা সিদ্দিকা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে চিলমারী উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় আয়েশা। পরে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরদিন (১৮ এপ্রিল) নিহত শিশুর বাবা মো. আলমগীর হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে চিলমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মো. আশরাফুল আলমের তত্ত্বাবধানে এবং চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমারের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল তদন্তে নামে।

তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার (১ মে) ভোরে মাচাবান্ধা গ্রাম থেকে মোছা. কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী মো. রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে খেলতে যায়। এ সময় তাদের সন্তানের সঙ্গে খেলাধুলার একপর্যায়ে আয়েশার চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করতে গিয়ে কহিনুর বেগম শিশুটির মুখ চেপে ধরেন, এতে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। পরে মরদেহ একটি ড্রামে রেখে রাতে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।

চিলমারী মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার বলেন, ‘ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। আসামিরা প্রাথমিকভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আদালতে একজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।’

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে শিশু আয়েশার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

চিলমারীতে শিশু আয়েশা হত্যা: দম্পতি গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ১১:১৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই বছর বয়সী শিশু আয়েশা সিদ্দিকা হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল সকালে চিলমারী উপজেলার মাচাবান্ধা সাহাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় আয়েশা। পরে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরদিন (১৮ এপ্রিল) নিহত শিশুর বাবা মো. আলমগীর হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে চিলমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বির নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উলিপুর সার্কেল) মো. আশরাফুল আলমের তত্ত্বাবধানে এবং চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমারের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল তদন্তে নামে।

তদন্তের একপর্যায়ে শুক্রবার (১ মে) ভোরে মাচাবান্ধা গ্রাম থেকে মোছা. কহিনুর বেগম (২৬) ও তার স্বামী মো. রাশেদুল ইসলাম আপেল (৩০)-কে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঘটনার দিন আয়েশা পাশের বাড়িতে খেলতে যায়। এ সময় তাদের সন্তানের সঙ্গে খেলাধুলার একপর্যায়ে আয়েশার চোখে আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করতে গিয়ে কহিনুর বেগম শিশুটির মুখ চেপে ধরেন, এতে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। পরে মরদেহ একটি ড্রামে রেখে রাতে পাশের জমিতে ফেলে দেওয়া হয়।

চিলমারী মডেল থানার ওসি নয়ন কুমার বলেন, ‘ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করা হয়। আসামিরা প্রাথমিকভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আদালতে একজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।’

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে শিশু আয়েশার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।