লোহাগাড়া আধুনগরে মুখোমুখি বাইক সংঘর্ষে নিহত ১, আহত১
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক যেন দিন দিন এক ভয়াল মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ, আহত হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। এবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে আবারও ঘটলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, যেখানে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন একজন মোটরসাইকেল আরোহী এবং গুরুতর আহত অবস্থায় আরেকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
৭ এপ্রিল মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারমুখী একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন এক মোটরসাইকেল চালক। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই একজন বাইকারের মৃত্যু হয় এবং অপরজন মারাত্মকভাবে আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মহাসড়ক থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আহত ব্যক্তির বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। অন্যদিকে, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেট বান্দরবান জেলার হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পার্বত্য অঞ্চলের কোনো বাসিন্দা হতে পারেন।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং মুহূর্তেই মহাসড়কে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই মহাসড়ক এখন “অভিশপ্ত সড়ক”-এ পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিনিয়ত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সড়কের সংকীর্ণতা, বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল, ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং যথাযথ নজরদারি থাকা সত্ত্বেও দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে সাধারণ মানুষ। কারণ অতিরিক্ত গাড়ি সে হিসাবে সড়কের উন্নয়ন না হওয়ায়র কারণে সরকারকে দায়ী করছেন তারা।
তারা আরও জানান, গত দেড় বছর ধরে একাধিকবার মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে করে দিন দিন বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সড়ক এখন মৃত্যুর ফাঁদ। প্রতিদিনই কেউ না কেউ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই।
আরেক স্থানীয় বলেন, আর কত প্রাণ গেলে সরকারের টনক নড়বে? আমরা নিরাপদ সড়ক চাই, এটা আমাদের অধিকার।
সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মহাসড়কে কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্পিড মনিটরিং, ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করা হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বর্তমানে এলাকাবাসীর একটাই দাবি, এই প্রাণঘাতী মহাসড়ককে দ্রুত নিরাপদ করা হোক এবং দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

















