ঈদে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে বিনোদন প্রেমীদের ভীড়
- আপডেট সময় : ১০:১৮:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি মানেই আনন্দ,বিনোদন,ভ্রমণ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো। আর সেই আনন্দকে ঘিরেই এবারের ঈদে যেন উৎসবের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক।রাজধানী থেকে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ঈদের কয়েকদিন ধরে হয়ে ওঠে বিনোদনপ্রেমীদের প্রিয় গন্তব্য।
ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল থেকেই শুরু হয় মানুষের ঢল।পরবর্তী তিন দিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে ছিল উপচে পড়া ভীড়।যারা ঈদের দিন ব্যস্ততার কারণে বের হতে পারেননি,তারা ঈদের পরের দিনগুলোতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন এখানে।উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলে পরিচিত হাটিকুমরুল রোড গোলচত্বর দৃষ্টিনন্দন ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণাধীন ব্রীজগুলোর উপরে বিনোদন প্রেমী ও উৎসুক জনতার ভীড় ছিল লক্ষণীয়।চিরচেনা হাটিকুমরুল নবরত্ন মন্দির এলাকায় দর্শনার্থীদের ভীড় ছিল লাগাতার।বিশেষ করে চলনবিল এলাকার ৯ ও ১০ নম্বর ব্রীজে মানুষের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।যদিও এ বছর চলনবিলে পানি না থাকায় নৌকা ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অনেকে।তবুও খোলা আকাশ,নির্মল বাতাস আর প্রাকৃতিক পরিবেশে আনন্দ খুঁজে নিতে ভীড় করেছেন হাজারো মানুষ।
শুধু ব্রীজ নয়, মহাসড়কের আশপাশের বিভিন্ন জায়গাও যেন হয়ে উঠেছিল ছোট ছোট বিনোদন কেন্দ্র।নাইমুড়ি স্বপ্ন বিলাস কফি হাউজ অ্যান্ড পার্ক, হরিণচড়া-দবিরগঞ্জ কলাবাগান,গোজা ব্রীজ ও রামারচর এলাকায় ছিল দর্শনার্থীদের কোলাহল।কেউ পরিবার নিয়ে,কেউ বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে এসেছেন এ সব স্পটে।বিনোদন প্রেমীদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে মহাসড়ক।বিনোদন প্রেমীদের এসব স্পটে ছিল উপচেপড়া ভীড়।
দর্শনার্থীরা বলেন, “ঈদের ছুটিতে একটু ঘুরে বেড়াতে এসেছি, খোলা জায়গায় সময় কাটিয়ে খুব ভালো লাগছে।” আবার কেউ পরিবার নিয়ে এসে বাদাম-ঝালমুড়ি খেতে খেতে উপভোগ করেছেন ঠান্ডা বাতাস আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
তবে শুধু আনন্দই নয়, ছিল বাড়তি খরচের আমেজও।রাস্তার পাশে ছোট-খাটো খাবারের দোকান,চা-কফি, ঝালমুড়ি সব মিলিয়ে ঈদের আনন্দে টাকার খরচ যেন হয়ে উঠেছিল সুখেরই অংশ।মহাসড়কে ঘুরতে আসা কয়েকজন বিনোদনপ্রেমী সোনিয়া, মিতু,প্রিয়া-রকি দম্পতি বলেন,ঈদের ছুটিতে নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে ঘুরতে বের হয়েছি। মহাসড়কটির ৯ ও ১০ নম্বর ব্রীজের মুক্ত এলাকায় ঘুরে অনেক মজা করলাম।
অপরদিকে সপরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা একজন জানান, সবাইকে নিয়ে বসার মত তেমন পরিবেশ না থাকলেও হরিণচড়া-দবিরগঞ্জ কলা বাগান-পুকুর পাড়ে প্রবাহিত ঠান্ডা বাতাস আর দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাদাম,ঝাল-মুড়ি খেতে আমাদের দারুন মজা লাগছে।সলঙ্গা বাজারের গ্রাম ডা: জাহিদুল ইসলাম,পোস্ট অফিস স্টাফ জেল হক, নজরুল ইসলাম মাস্টার সাংবাদিকদের জানান,কর্মজীবনে বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত থাকায় দল বেঁধে ঘুরতে আসা তেমন হয় না।তাই ঈদের পরদিন বিকেলে ঘুরতে এসে আমাদের খুবই ভালো লাগলো।ঈদ পরবর্তী ভ্রমণ পিপাসু,দর্শনার্থী ও উৎসুক জনতার
এত বড় সমাগমে নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের টহল ছিল জোরদার।তাড়াশ থানার ওসি জানান, প্রতি বছরই ঈদের সময় এই এলাকায় মানুষের ভীড় বাড়ে,তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থাও নেয়া হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের ঈদে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক শুধু একটি সড়কই নয়,বরং হয়ে উঠেছিল আনন্দ,খরচ আর স্মৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।

















