ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

কুবিতে হল দখল করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর ছাত্রদল নেতার

কুবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আবাসিক হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে হল দখল ও বহিরাগতদের নিয়ে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের একজনের নাক ফেটে রক্তপাত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর রাতেই হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের তৃতীয় তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২০১৩-১৪ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান, একই ব্যাচের সাইফুল, ২০১৭-১৮ সেশনের তরিকুল এবং ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী সিফাত।

ভুক্তভোগীরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং একই ব্যাচের এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য। কাব্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা সবাই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আতিকুর রহমান হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন এবং সেখানে ২০২৪-২৫ সেশনের আরেক কর্মীকেও তোলেন। একইভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে সিফাতকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান এবং সিনিয়রদের অবহিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান কয়েকজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং তাদের বিভিন্ন সিটে থাকার নির্দেশ দেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মৌখিক বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এসময় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব শুভ’র উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান নিবিড়ের কলার ধরে থাপ্পড় মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে নাকে ঘুসি মারা হয়, এতে তার নাক ফেটে যায়। একপর্যায়ে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা হল এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং হল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় পরিচয়ে অছাত্রদের হলের কক্ষে তোলার প্রবণতা বেড়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর একটি পক্ষ হল দখল ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তারা। বিজয় চব্বিশ হলসহ আরও কয়েকটি হলে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

নাক ফাটানোর বিষয়ে কাব্যের বন্ধু ও ছাত্রদল কর্মী হুসাইন বিন আলি বলেন, কাব্যর নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে। দিনের বেলা তাকে নাক-কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো হবে।

ভুক্তভোগী তোফায়েল আহমেদ নিবিড় বলেন, “আমরা ছাদে ছিলাম। আতিক এসে আমার কলার ধরে চড় মারে। একজনের নাকে ঘুসি মেরে রক্ত বের করে দেয়। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে আমার হাত মচকে যায়। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে করা হয়েছে।”

বহিরাগত হয়েও ছাত্রদলের ক্ষমতায় হল দখলের চেষ্টা ও হলের শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়ে অভিযুক্ত কুবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, সাংগঠনিক ভাবে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

হলের প্রাধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। হল প্রশাসনের কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

কুবিতে হল দখল করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর ছাত্রদল নেতার

আপডেট সময় : ০৩:১০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) আবাসিক হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে হল দখল ও বহিরাগতদের নিয়ে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের একজনের নাক ফেটে রক্তপাত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর রাতেই হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের তৃতীয় তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্তরা হলেন কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ২০১৩-১৪ সেশনের সাবেক শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান, একই ব্যাচের সাইফুল, ২০১৭-১৮ সেশনের তরিকুল এবং ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী সিফাত।

ভুক্তভোগীরা হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ সেশনের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং একই ব্যাচের এআইএস বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য। কাব্য বর্তমানে চিকিৎসাধীন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা সবাই ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আতিকুর রহমান হল কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেন এবং সেখানে ২০২৪-২৫ সেশনের আরেক কর্মীকেও তোলেন। একইভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে সিফাতকে নিয়মবহির্ভূতভাবে রাখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানান এবং সিনিয়রদের অবহিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান কয়েকজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং তাদের বিভিন্ন সিটে থাকার নির্দেশ দেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মৌখিক বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এসময় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব শুভ’র উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান নিবিড়ের কলার ধরে থাপ্পড় মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে নাকে ঘুসি মারা হয়, এতে তার নাক ফেটে যায়। একপর্যায়ে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা হল এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন এবং হল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় পরিচয়ে অছাত্রদের হলের কক্ষে তোলার প্রবণতা বেড়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর একটি পক্ষ হল দখল ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তারা। বিজয় চব্বিশ হলসহ আরও কয়েকটি হলে একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

নাক ফাটানোর বিষয়ে কাব্যের বন্ধু ও ছাত্রদল কর্মী হুসাইন বিন আলি বলেন, কাব্যর নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে। দিনের বেলা তাকে নাক-কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো হবে।

ভুক্তভোগী তোফায়েল আহমেদ নিবিড় বলেন, “আমরা ছাদে ছিলাম। আতিক এসে আমার কলার ধরে চড় মারে। একজনের নাকে ঘুসি মেরে রক্ত বের করে দেয়। আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে আমার হাত মচকে যায়। বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে করা হয়েছে।”

বহিরাগত হয়েও ছাত্রদলের ক্ষমতায় হল দখলের চেষ্টা ও হলের শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়ে অভিযুক্ত কুবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, সাংগঠনিক ভাবে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

হলের প্রাধ্যক্ষ ড. ম. জনি আলম বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। হল প্রশাসনের কারও সম্পৃক্ততা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”