ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

ঢাকা-১৯ আসনে ৬ এমপি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

আশুলিয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে ৬ জন প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এসব প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই একাধিক ভোটকেন্দ্রে শূন্য, এক ও দুটি করেও ভোট পেয়েছেন।

সহকারী রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৭ জন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২৭৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৯টি। পোস্টাল ভোট ৩ হাজার ৫৮৫টি। কেন্দ্র ও পোস্টাল ভোটসহ মোট ভোট হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৪টি। এর মধ্যে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৮৩টি ভোট পেয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭২ ভোট। পোস্টাল ভোটে তিনি দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের চেয়ে ৪৬৩ ভোট বেশি পেয়েছেন।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জমা দেওয়া জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই অনুযায়ী এই আসনে প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা ৪১ হাজার ৪২৩ দশমিক ৬৩।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ বাহাদুর ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪০ ভোট। তিনি ২৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৯টি কেন্দ্রে ১ ভোট, ১৭টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। বাকি কেন্দ্রে দুটির বেশি ভোট পেয়েছেন। সাভার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৩৬টি ভোট পেয়েছেন তিনি। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৩২টি।

ট্রাক প্রতীকে গণ অধিকার পরিষদের শেখ শওকত হোসেন পেয়েছেন ৬৯২ ভোট। তিনি ৮৬টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৭৮টি কেন্দ্রে ১ ও ৪৮টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। জিরাবো দেওয়ান ইদ্রিস কলেজ কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ৩৫টি ভোট পেয়েছেন। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৯টি। ছাতা প্রতীকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ৬৫২ ভোট পেয়েছেন। তিনি ৫০টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৬৪টি কেন্দ্রে ১ ভোট ও ৬৮টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ১৮টি ভোট পেয়েছেন। তবে পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১৯টি।

আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ইস্রাফিল হোসেন সাভারী পেয়েছেন ৬৪৯ ভোট। তিনি ৭১টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৮০টি কেন্দ্রে ১ ভোট ও ৫৫টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। সর্বোচ্চ বাইদগাঁও উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পেয়েছেন ১২১টি ভোট। হারিকেন প্রতীকে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল পেয়েছেন ২১৭ ভোট। তিনি ১৩৯টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ১০২টি কেন্দ্রে ১ ভোট ও ২৬টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। বেগুনবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ৫ ভোট পেয়েছেন। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৬টি। এ ছাড়া হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ ফারুক খান ১০ হাজার ৬২৬ ভোট পেয়েছেন। তবে তিনি সব কেন্দ্রে ৮টির বেশি ভোট পেয়েছেন।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে জামানত ফেরত পাওয়ার জন্য সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এতে যারা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটের নিচে পেয়েছেন, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ঢাকা-১৯ আসনে ৬ এমপি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

আপডেট সময় : ১১:৫১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে ৬ জন প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এসব প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই একাধিক ভোটকেন্দ্রে শূন্য, এক ও দুটি করেও ভোট পেয়েছেন।

সহকারী রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৭ জন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৪৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২৭৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৯টি। পোস্টাল ভোট ৩ হাজার ৫৮৫টি। কেন্দ্র ও পোস্টাল ভোটসহ মোট ভোট হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৪টি। এর মধ্যে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৮৩টি ভোট পেয়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোটের এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭২ ভোট। পোস্টাল ভোটে তিনি দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের চেয়ে ৪৬৩ ভোট বেশি পেয়েছেন।

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশ অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জমা দেওয়া জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সেই অনুযায়ী এই আসনে প্রয়োজনীয় ভোটের সীমা ৪১ হাজার ৪২৩ দশমিক ৬৩।

নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ বাহাদুর ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪০ ভোট। তিনি ২৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৯টি কেন্দ্রে ১ ভোট, ১৭টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। বাকি কেন্দ্রে দুটির বেশি ভোট পেয়েছেন। সাভার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৩৬টি ভোট পেয়েছেন তিনি। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৩২টি।

ট্রাক প্রতীকে গণ অধিকার পরিষদের শেখ শওকত হোসেন পেয়েছেন ৬৯২ ভোট। তিনি ৮৬টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৭৮টি কেন্দ্রে ১ ও ৪৮টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। জিরাবো দেওয়ান ইদ্রিস কলেজ কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ৩৫টি ভোট পেয়েছেন। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৯টি। ছাতা প্রতীকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ৬৫২ ভোট পেয়েছেন। তিনি ৫০টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৬৪টি কেন্দ্রে ১ ভোট ও ৬৮টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ১৮টি ভোট পেয়েছেন। তবে পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ১৯টি।

আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ইস্রাফিল হোসেন সাভারী পেয়েছেন ৬৪৯ ভোট। তিনি ৭১টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৮০টি কেন্দ্রে ১ ভোট ও ৫৫টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। সর্বোচ্চ বাইদগাঁও উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পেয়েছেন ১২১টি ভোট। হারিকেন প্রতীকে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল পেয়েছেন ২১৭ ভোট। তিনি ১৩৯টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ১০২টি কেন্দ্রে ১ ভোট ও ২৬টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। বেগুনবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ৫ ভোট পেয়েছেন। পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ৬টি। এ ছাড়া হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ ফারুক খান ১০ হাজার ৬২৬ ভোট পেয়েছেন। তবে তিনি সব কেন্দ্রে ৮টির বেশি ভোট পেয়েছেন।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে জামানত ফেরত পাওয়ার জন্য সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এতে যারা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোটের নিচে পেয়েছেন, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।