ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

ধান ক্ষেতে সবজি চাষে ভাগ্য বদল অনিকের 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের নবীনগর থেকে মুরাদনগরে যাওয়ার পথে মূল রাস্তা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিগুলো একসময় ছিল কেবল ধান উৎপাদনের জন্য পরিচিত। সময়ের পরিবর্তন ও লাভজনক কৃষির সম্ভাবনায় সেই জমিগুলো এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সবুজ সবজি ক্ষেতে। এই পরিবর্তনের অন্যতম পথিকৃৎ জিনদপুর ইউনিয়নের ২২ বছরের তরুণ কৃষক অনিকুর রহমান অনিক।

বছর দুই ধরে অনিকুর রহমান প্রচলিত ধান চাষের বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক ও উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং নিজের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তিনি ধীরে ধীরে ধানের জমিগুলোকে সবজি চাষের উপযোগী করে তোলেন। সরেজমিনে দেখা যায় তিনি প্রায় ৫ বিঘা জমিতে শসা, বেগুন, মরিচ ও টমেটো আবাদ করছেন। টমেটো উত্তোলন হচ্ছে গতবছরের তুলনায় এবছর টমেটোর দাম বেশ ভালো জমি থেকেই ৬০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ায় রোগ বালাই তেমন নেই। মরিচ উত্তোলন শীঘ্রই শুরু হবে, পরিচর্যা চলছে বেগুনের জমির। পাশেই তৈরি হচ্ছে রমজানকে লক্ষ্য করে শসার আবাদ।লাভজনক কৃষিতে জমি নির্বাচনের গুরুত্ব সম্পর্কে অনিকের অভিজ্ঞতা এখন অনেকের জন্য দিকনির্দেশনা। তুলনামূলক উঁচু জমি, সেচ সুবিধা ও পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা থাকায় তার সবজি ক্ষেতে ফলন হচ্ছে আশানুরূপ। এসব সবজি চাষ করে তিনি বছরে গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করছেন, যা তার পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে।

এ বিষয়ে তরুণ কৃষক অনিক বলেন, “আগে শুধু এখানে ধান চাষ হতো। খরচের তুলনায় লাভ খুব একটা থাকত না। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে ধীরে ধীরে সবজি চাষের দিকে আগ্রহী হই। শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি ছিল, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি—সঠিক জমি নির্বাচন, সময়মতো সেচ ও পরিচর্যা করলে সবজি চাষ অনেক বেশি লাভজনক। ধানের জমিতেই শসা, লাউ বেগুন, মরিচ ও টমেটো চাষ করে ভালো আয় হচ্ছে। ভবিষ্যতে আবাদ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি অন্য তরুণদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে চাই। ধীরে ধীরে আরো জমি লীজ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’

জিনদপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরনবী জানান, জিনদপুর ইউনিয়নের তরুণদের বাণিজ্যিক কৃষিতে উৎসাহিত করতে নিয়মিত অনিকুর রহমানের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক ধানের পাশাপাশি সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চলতি মৌসুমে ধানের আবাদি জমি এবং পতিত জমিতে প্রায় ২৫ বিঘা সবজি আবাদ হচ্ছে।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিনদপুর ইউনিয়নে তরুণ কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষিতে সম্পৃক্ত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট, কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষক প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক, মাঠ দিবসে প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রদর্শনী উপকরণ নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য তারুণ্যনির্ভর টেকসই বাণিজ্যিক কৃষি।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের জমি নির্বাচন, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, উচ্চমূল্যের ফসল চাষ ও বাজারমুখী কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলেই অনিকুর রহমানের মতো তরুণ কৃষকরা ধানের প্রচলিত চাষ থেকে বেরিয়ে এসে সবজি উৎপাদনে সফল হচ্ছেন, যা এলাকায় টেকসই কৃষি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যখন অনেক তরুণ জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী, তখন অনিকুর রহমান প্রমাণ করছেন—সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা থাকলে গ্রামেই গড়ে তোলা সম্ভব লাভজনক ও টেকসই কৃষি উদ্যোগ। নবীনগরের মাঠে ধানের জমি থেকে সবজির এই রূপান্তর এখন নতুন সম্ভাবনার গল্প হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

ধান ক্ষেতে সবজি চাষে ভাগ্য বদল অনিকের 

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের নবীনগর থেকে মুরাদনগরে যাওয়ার পথে মূল রাস্তা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিগুলো একসময় ছিল কেবল ধান উৎপাদনের জন্য পরিচিত। সময়ের পরিবর্তন ও লাভজনক কৃষির সম্ভাবনায় সেই জমিগুলো এখন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে সবুজ সবজি ক্ষেতে। এই পরিবর্তনের অন্যতম পথিকৃৎ জিনদপুর ইউনিয়নের ২২ বছরের তরুণ কৃষক অনিকুর রহমান অনিক।

বছর দুই ধরে অনিকুর রহমান প্রচলিত ধান চাষের বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক ও উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। কৃষি বিভাগের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং নিজের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তিনি ধীরে ধীরে ধানের জমিগুলোকে সবজি চাষের উপযোগী করে তোলেন। সরেজমিনে দেখা যায় তিনি প্রায় ৫ বিঘা জমিতে শসা, বেগুন, মরিচ ও টমেটো আবাদ করছেন। টমেটো উত্তোলন হচ্ছে গতবছরের তুলনায় এবছর টমেটোর দাম বেশ ভালো জমি থেকেই ৬০ টাকা কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ায় রোগ বালাই তেমন নেই। মরিচ উত্তোলন শীঘ্রই শুরু হবে, পরিচর্যা চলছে বেগুনের জমির। পাশেই তৈরি হচ্ছে রমজানকে লক্ষ্য করে শসার আবাদ।লাভজনক কৃষিতে জমি নির্বাচনের গুরুত্ব সম্পর্কে অনিকের অভিজ্ঞতা এখন অনেকের জন্য দিকনির্দেশনা। তুলনামূলক উঁচু জমি, সেচ সুবিধা ও পানি নিষ্কাশনের ভালো ব্যবস্থা থাকায় তার সবজি ক্ষেতে ফলন হচ্ছে আশানুরূপ। এসব সবজি চাষ করে তিনি বছরে গড়ে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় করছেন, যা তার পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে দিয়েছে।

এ বিষয়ে তরুণ কৃষক অনিক বলেন, “আগে শুধু এখানে ধান চাষ হতো। খরচের তুলনায় লাভ খুব একটা থাকত না। কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পেয়ে ধীরে ধীরে সবজি চাষের দিকে আগ্রহী হই। শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি ছিল, কিন্তু এখন বুঝতে পারছি—সঠিক জমি নির্বাচন, সময়মতো সেচ ও পরিচর্যা করলে সবজি চাষ অনেক বেশি লাভজনক। ধানের জমিতেই শসা, লাউ বেগুন, মরিচ ও টমেটো চাষ করে ভালো আয় হচ্ছে। ভবিষ্যতে আবাদ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি অন্য তরুণদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে চাই। ধীরে ধীরে আরো জমি লীজ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’

জিনদপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরনবী জানান, জিনদপুর ইউনিয়নের তরুণদের বাণিজ্যিক কৃষিতে উৎসাহিত করতে নিয়মিত অনিকুর রহমানের উদাহরণ তুলে ধরা হয়। তার সাফল্য দেখে এলাকার অনেক কৃষক ধানের পাশাপাশি সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চলতি মৌসুমে ধানের আবাদি জমি এবং পতিত জমিতে প্রায় ২৫ বিঘা সবজি আবাদ হচ্ছে।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিনদপুর ইউনিয়নে তরুণ কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক কৃষিতে সম্পৃক্ত করতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি অফিসারদের মাধ্যমে ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি এসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট, কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষক প্রশিক্ষণ, উঠান বৈঠক, মাঠ দিবসে প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রদর্শনী উপকরণ নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য তারুণ্যনির্ভর টেকসই বাণিজ্যিক কৃষি।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের জমি নির্বাচন, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি, উচ্চমূল্যের ফসল চাষ ও বাজারমুখী কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলেই অনিকুর রহমানের মতো তরুণ কৃষকরা ধানের প্রচলিত চাষ থেকে বেরিয়ে এসে সবজি উৎপাদনে সফল হচ্ছেন, যা এলাকায় টেকসই কৃষি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

যখন অনেক তরুণ জীবিকার সন্ধানে শহরমুখী, তখন অনিকুর রহমান প্রমাণ করছেন—সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা থাকলে গ্রামেই গড়ে তোলা সম্ভব লাভজনক ও টেকসই কৃষি উদ্যোগ। নবীনগরের মাঠে ধানের জমি থেকে সবজির এই রূপান্তর এখন নতুন সম্ভাবনার গল্প হয়ে উঠেছে।