নীতিমালা তৈরি শেষ না হতেই জাতীয় নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে বেরোবিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
- আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে( বেরোবি) কর্মকর্তা নিয়োগের নীতিমালা তৈরির কাজ শেষ না হতেই তড়িঘড়ি করে সাতজন কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এই নিয়োগের কার্যক্রম আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই শেষ করার লক্ষ্য নতুন কর্মকর্তা নীতিমালা প্রস্তুত হওয়ার পূর্বেই প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদসহ মোট ২৬ টি পদে কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দিতে মরিয়া বেরোবি প্রশাসন।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা নিয়োগের কোন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ন্যূনতম যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা নির্ধারনের জন্য গত ২৫ নভেম্বর ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত ১১৮ তম সিন্ডিকেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম শহিদুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
তবে কমিটির নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শেষ না হতেই তড়িঘড়ি করে রেজিস্ট্রার পদ ও চতুর্থ গ্রেডের চারটি পদ সহ মোট সাতটি পদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এ নিয়োগ কার্যক্রমের বিরোধীতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে নীতিমালা বিহীন তড়িঘড়ি করে এই নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান। এ নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি তারা একটি সংবাদ সম্মেলনের ও আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যে বিরুদ্ধে নিয়োগে দুর্ণীতির অভিযোগ করেন এবং ইউজিসির নিকট এ বিষয়ে স্মারকলিপিও জমা দিবেন বলে জানান।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত ও আওয়ামী পন্থী কিছু কর্মকর্তাকে চতুর্থ গ্রেডে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারে নিয়োগ দিতে নির্বাচন পূর্বেই তড়িঘড়ি করে নতুন নীতামালা প্রণয়নের পূর্বেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চান উপাচার্য।
এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, আমরা দেখছি এ উপাচার্য একের পর এক আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের নিয়োগ দুর্ণীতির তদন্ত আটকে রাখতে, ছাত্রলীগ নেত্রীর পরীক্ষার জালিয়াতি সহ নানান ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছে এই প্রশাসন। এখন আবার নতুন করে নীতিমালা ছাড়াই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছে। আমরা কোন ভাবে আওয়ামীলীগের পুর্নবাসন মেনে নিবো না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান,নীতিমালা তৈরি না করেই কিছু সনদ জালিয়াতি, অবৈধ পদোন্নতি প্রাপ্ত ব্যাক্তি, দের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্বাচনের আগেই তড়িঘড়ি করে নিয়োগ সার্কুলার দেওয়া হচ্ছে।
নতুন নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর এবিএম শাহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের বিষয়ে আমাকে অবহিত করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম আওয়ামী আমলে হওয়ায় আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৫ ই আগষ্টের পরে আমরা অনেকগুলো নিয়মকানুন পরিবর্তন করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা না থাকায় ১৯৮২ সালের সরকারি নীতিমালা চলতে হয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তরা চায় তারাই প্রমোশন নিবে নতুন কাউকে নিয়োগ হতে দিবে না। এ জন্য আমরা ওপেন বিজ্ঞাপনে যাই।
এ বিষয়ে উপাচার্যের বক্তব্যের জন্য বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে কল করলেও উপাচার্য ফোন ধরেন নি। তবে তিনি সাংবাদিকদের এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
কিন্তু ২৫ শে জানুয়ারি একটা সংবাদ সম্মেলন শেষে উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী কে জিজ্ঞেস করা হলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর আগেই অনিয়মের অভিযোগ তোলা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে, রেজিস্ট্রার পদে, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার পদে, অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপ পরিচালক, উপ – প্রধান প্রকৌশলী ও সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।

















