ঢাকা ০২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

হবিগঞ্জের বাহুবলে স্কোয়াশ চাষে সফল কৃষক সেলিম মিয়া

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে পরিচিত বিদেশি সবজি স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কৃষক সেলিম মিয়া। প্রথমবার চাষ করেই তিনি যেমন ভালো ফলন পেয়েছেন, তেমনি হয়েছেন আর্থিকভাবে লাভবান। তাঁর এই সাফল্য দেখে উপজেলার অন্যান্য কৃষকরাও স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

বাহুবল উপজেলার ৫নং লামাতাশি ইউনিয়নের তঘলি গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝিঙ্গা, লাউ, মূলা, টমেটো, বাঁধাকপি ও ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে আসছেন। চলতি শীত মৌসুমে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি স্বল্প পরিসরে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন।

সেলিম মিয়া জানান, উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম তাঁকে স্কোয়াশ চাষে উৎসাহ দেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী বীজতলায় চারা তৈরি করে পরে জমিতে রোপণ করা হয়। প্রায় দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। গাছের বৃদ্ধি ও ফলন অনেকটা মিষ্টি কুমড়ার মতোই।

তিনি আরও জানান, প্রায় ১৩ শতক জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুত ব্যতীত বীজ, সার ও কীটনাশকের জন্য আলাদা কোনো খরচ করতে হয়নি। এসব উপকরণ কৃষি অফিস থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন এবং পুরো মৌসুমে ওই জমি থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন।

দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে আমরা কৃষক সেলিম মিয়াকে সহায়তা করেছি। তিনি স্কোয়াশ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাঁর সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরাও এই সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, স্কোয়াশ একটি বিদেশি সবজি হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এ বিষয়ে ধারণা তুলনামূলক কম। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে চাষ করেছেন, তাঁরা সবাই সফল হয়েছেন। তাঁদের দেখাদেখি অনেক কৃষক পরামর্শ নিতে কৃষি অফিসে আসছেন। স্কোয়াশ চাষ লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে ব্যাপক আকারে এই সবজি চাষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি ব্রকলি, ক্যাপসিকাম ও রেড ক্যাবেজসহ অন্যান্য বিদেশি সবজি চাষেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান।

পুষ্টিগুণের দিক থেকেও স্কোয়াশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।

বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, সাধারণ কুমড়ার মতো ব্যবহার হলেও স্কোয়াশে পুষ্টিগুণ বেশি। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, বি-৬, নায়াসিন, থায়ামিন, ফলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসার রোগীদের জন্য এই সবজি উপকারী। নিয়মিত স্কোয়াশ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

হবিগঞ্জের বাহুবলে স্কোয়াশ চাষে সফল কৃষক সেলিম মিয়া

আপডেট সময় : ১১:১৮:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে পরিচিত বিদেশি সবজি স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কৃষক সেলিম মিয়া। প্রথমবার চাষ করেই তিনি যেমন ভালো ফলন পেয়েছেন, তেমনি হয়েছেন আর্থিকভাবে লাভবান। তাঁর এই সাফল্য দেখে উপজেলার অন্যান্য কৃষকরাও স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

বাহুবল উপজেলার ৫নং লামাতাশি ইউনিয়নের তঘলি গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝিঙ্গা, লাউ, মূলা, টমেটো, বাঁধাকপি ও ফুলকপিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে আসছেন। চলতি শীত মৌসুমে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে তিনি স্বল্প পরিসরে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেন।

সেলিম মিয়া জানান, উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম তাঁকে স্কোয়াশ চাষে উৎসাহ দেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী বীজতলায় চারা তৈরি করে পরে জমিতে রোপণ করা হয়। প্রায় দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। গাছের বৃদ্ধি ও ফলন অনেকটা মিষ্টি কুমড়ার মতোই।

তিনি আরও জানান, প্রায় ১৩ শতক জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুত ব্যতীত বীজ, সার ও কীটনাশকের জন্য আলাদা কোনো খরচ করতে হয়নি। এসব উপকরণ কৃষি অফিস থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু স্কোয়াশ বিক্রি করেছেন এবং পুরো মৌসুমে ওই জমি থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন।

দ্বিমুড়া কৃষি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শামীমুল হক শামীম বলেন, পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে আমরা কৃষক সেলিম মিয়াকে সহায়তা করেছি। তিনি স্কোয়াশ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। তাঁর সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরাও এই সবজি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, স্কোয়াশ একটি বিদেশি সবজি হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে এ বিষয়ে ধারণা তুলনামূলক কম। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে চাষ করেছেন, তাঁরা সবাই সফল হয়েছেন। তাঁদের দেখাদেখি অনেক কৃষক পরামর্শ নিতে কৃষি অফিসে আসছেন। স্কোয়াশ চাষ লাভজনক হওয়ায় আগামী মৌসুমে ব্যাপক আকারে এই সবজি চাষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি ব্রকলি, ক্যাপসিকাম ও রেড ক্যাবেজসহ অন্যান্য বিদেশি সবজি চাষেও কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে জানান।

পুষ্টিগুণের দিক থেকেও স্কোয়াশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ বলে জানান কৃষি কর্মকর্তা।

বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, সাধারণ কুমড়ার মতো ব্যবহার হলেও স্কোয়াশে পুষ্টিগুণ বেশি। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই, বি-৬, নায়াসিন, থায়ামিন, ফলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও ক্যানসার রোগীদের জন্য এই সবজি উপকারী। নিয়মিত স্কোয়াশ খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে শরীরকে সুরক্ষা দেয়।