ঢাকা ০১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

উখিয়ায় ৪০ হাজার ইয়াবা গায়েব, অভিযুক্ত এসআই

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের উখিয়া থানায় আলোচিত ইয়াবা আত্মসাৎ কাণ্ডে সুস্পষ্ট ও লিখিত অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত এসআই সুমনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে প্রায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হলেও সেই ইয়াবার কোনো আনুষ্ঠানিক অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি দেশের অন্যতম আলোচিত ‘ইয়াবা গায়েব’ কাণ্ডে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র ও সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি সকালে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টিএনটি গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, অভিযানে আনুমানিক ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই ইয়াবা থানার মালখানায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় করিম নামের এক ব্যক্তি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযানের পর কোনো মামলা রুজু হয়নি, জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি এবং থানার মালখানা বা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উদ্ধারকৃত ইয়াবার কোনো রেকর্ড নেই। যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও পুলিশ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

আইন অনুযায়ী, কোনো মাদক উদ্ধার হলে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা রুজু, জব্দ তালিকা প্রণয়ন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ এবং মালখানায় সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। অথচ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এ ঘটনায় এসব প্রক্রিয়ার একটিরও দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও গুরুতর ও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর মোহাম্মদ জানান, এসআই সুমন ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ইয়াবা জব্দের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে একই ঘটনায় আরও বিভ্রান্তি তৈরি করে অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এসআই সুমনের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য। তিনি দাবি করেন, টিএনটি গুচ্ছগ্রাম এলাকায় তার নেতৃত্বে কোনো অভিযানই পরিচালিত হয়নি। অন্যদিকে, ওসি নূর মোহাম্মদ বলেন, অভিযানে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। পুলিশের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাকে রহস্যের আরও গভীরে ঠেলে দিয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোহাম্মদ রকিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন এবং এসআই সুমনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ইয়াবা আত্মসাৎ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযোগ ওঠার পর উল্লেখযোগ্য সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন, সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির মতো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় তদন্তের গতি ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখযোগ্য যে, অতীতে কক্সবাজারে ইয়াবা কাণ্ডে বিজিবি ও র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর পুরো টিম বদলিসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, উখিয়া থানায় একই ধরনের গুরুতর অভিযোগের পরও ওসি নূর মোহাম্মদ ও এসআই সুমন বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই বৈষম্যমূলক অবস্থান জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, উখিয়া মাদকপাচারের একটি সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট হওয়া সত্ত্বেও বারবার অভিযোগ ওঠার পর কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—যেখানে র‍্যাবের পুরো টিম বদলি হয়, সেখানে উখিয়া থানার ইয়াবা আত্মসাৎ কাণ্ড কেন বারবার আড়ালে থেকে যায়?

বিশ্লেষকদের মতে, ৪০ হাজার পিস ইয়াবার মতো বিপুল পরিমাণ মাদকের হদিস না পাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন বা তুচ্ছ ঘটনা নয়। এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দায়িত্বে অবহেলা নাকি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির ইঙ্গিত—তা নির্ধারণে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিভাগীয় তদন্তের বিকল্প নেই। এখন উখিয়ার মানুষের দৃষ্টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের দিকে—এই অভিযোগ কি সত্যিকার অর্থে আমলে নেওয়া হবে, নাকি উখিয়ার ইয়াবা কাণ্ডও সময়ের সঙ্গে আড়ালে চলে যাবে?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

উখিয়ায় ৪০ হাজার ইয়াবা গায়েব, অভিযুক্ত এসআই

আপডেট সময় : ১২:২৫:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের উখিয়া থানায় আলোচিত ইয়াবা আত্মসাৎ কাণ্ডে সুস্পষ্ট ও লিখিত অভিযোগ ওঠার পরও অভিযুক্ত এসআই সুমনের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় পুলিশের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে প্রায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করা হলেও সেই ইয়াবার কোনো আনুষ্ঠানিক অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি দেশের অন্যতম আলোচিত ‘ইয়াবা গায়েব’ কাণ্ডে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র ও সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি সকালে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের টিএনটি গুচ্ছগ্রাম এলাকায় পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, অভিযানে আনুমানিক ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই ইয়াবা থানার মালখানায় জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় করিম নামের এক ব্যক্তি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযানের পর কোনো মামলা রুজু হয়নি, জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি এবং থানার মালখানা বা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উদ্ধারকৃত ইয়াবার কোনো রেকর্ড নেই। যা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও পুলিশ বিধিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।

আইন অনুযায়ী, কোনো মাদক উদ্ধার হলে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা রুজু, জব্দ তালিকা প্রণয়ন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ এবং মালখানায় সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। অথচ অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এ ঘটনায় এসব প্রক্রিয়ার একটিরও দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও গুরুতর ও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূর মোহাম্মদ জানান, এসআই সুমন ও তার সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ইয়াবা জব্দের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে একই ঘটনায় আরও বিভ্রান্তি তৈরি করে অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া এসআই সুমনের গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য। তিনি দাবি করেন, টিএনটি গুচ্ছগ্রাম এলাকায় তার নেতৃত্বে কোনো অভিযানই পরিচালিত হয়নি। অন্যদিকে, ওসি নূর মোহাম্মদ বলেন, অভিযানে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। পুলিশের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পুরো ঘটনাকে রহস্যের আরও গভীরে ঠেলে দিয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোহাম্মদ রকিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন এবং এসআই সুমনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত ইয়াবা আত্মসাৎ সংক্রান্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে অভিযোগ ওঠার পর উল্লেখযোগ্য সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন, সাময়িক বরখাস্ত বা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির মতো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় তদন্তের গতি ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

উল্লেখযোগ্য যে, অতীতে কক্সবাজারে ইয়াবা কাণ্ডে বিজিবি ও র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর পুরো টিম বদলিসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, উখিয়া থানায় একই ধরনের গুরুতর অভিযোগের পরও ওসি নূর মোহাম্মদ ও এসআই সুমন বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই বৈষম্যমূলক অবস্থান জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, উখিয়া মাদকপাচারের একটি সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ রুট হওয়া সত্ত্বেও বারবার অভিযোগ ওঠার পর কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—যেখানে র‍্যাবের পুরো টিম বদলি হয়, সেখানে উখিয়া থানার ইয়াবা আত্মসাৎ কাণ্ড কেন বারবার আড়ালে থেকে যায়?

বিশ্লেষকদের মতে, ৪০ হাজার পিস ইয়াবার মতো বিপুল পরিমাণ মাদকের হদিস না পাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন বা তুচ্ছ ঘটনা নয়। এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দায়িত্বে অবহেলা নাকি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির ইঙ্গিত—তা নির্ধারণে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিভাগীয় তদন্তের বিকল্প নেই। এখন উখিয়ার মানুষের দৃষ্টি পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের দিকে—এই অভিযোগ কি সত্যিকার অর্থে আমলে নেওয়া হবে, নাকি উখিয়ার ইয়াবা কাণ্ডও সময়ের সঙ্গে আড়ালে চলে যাবে?