ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

স্বাক্ষরের আগে কমিশন, রেলের ফাইল আটকে অদৃশ্য দেয়ালে!

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর করেন না, এমন অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে রেলওয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দপ্তর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, ডিভিশনের প্রায় সব কাজেই ডিআরএমকে ২ শতাংশ কমিশন দিতে হয়।

সূত্র জানায়, ঠিকাদারি বিল হোক কিংবা ডিভিশন পর্যায়ের যেকোন প্রশাসনিক আদেশ, সংশ্লিষ্ট ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত থেমে যায় অদৃশ্য এক দেয়ালে। সেই দেয়াল ভাঙতে প্রয়োজন অগ্রিম কমিশন। কমিশনের টাকা না দিলে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও ফাইলে স্বাক্ষর করাতে পারেন না ঠিকাদাররা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে ফাইলের গতি নির্ধারিত হয় কাগজপত্রের মানে নয়, খামের ওজনে। বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়েও আবেদনকারীদের বলা হয়, ‘প্রক্রিয়া চলছে।’ কিন্তু ২ শতাংশ কমিশনের হিসাব না মিললে সেই প্রক্রিয়া আর এগোয় না। কেউ কেউ এটিকে অলিখিত নিয়ম হিসেবে মেনে নিলেও যারা প্রতিবাদ করেন, তাদের ফাইল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে থাকে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, এই কমিশন বাণিজ্য এখন শুধু আর্থিক লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। দপ্তরের নিচের স্তর থেকে ওপর পর্যন্ত নাকি ভাগ নির্ধারিত। ফলে দায় ঘুরে বেড়ালেও কারও কাঁধে স্থায়ীভাবে পড়ে না। অগ্রিম ঘুষ ছাড়া স্বাক্ষর মেলে না, আর স্বাক্ষর না মিললে কাজও হয় না।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে জনস্বার্থে। রেলসেবার উন্নয়ন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন—সবই কমিশনের এই চক্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীরা নাম প্রকাশে ভয় পাওয়ায় অভিযোগগুলো থেকে যাচ্ছে কথার মধ্যেই, প্রমাণ আসছে না প্রকাশ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা এর আগেও পাহাড়তলী কারখানার তত্ত্বাবধায়ক থাকাকালে বিতর্কে জড়ান। সে সময় তার অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজের পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ কাজ পেতেন না। যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হতো। এমনকি যন্ত্রাংশ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ২ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক সময় নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহে বাধ্য হতেন ঠিকাদাররা। এসব কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (কারখানা) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ডিআরএম হিসেবে যোগ দেওয়ার পরও তিনি সেই পুরোনো সিস্টেমই বহাল রেখেছেন। সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছেন বলে দাবি একাধিক ঠিকাদারের।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞার কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

স্বাক্ষরের আগে কমিশন, রেলের ফাইল আটকে অদৃশ্য দেয়ালে!

আপডেট সময় : ০৯:৩২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

ঘুষ ছাড়া ফাইলে স্বাক্ষর করেন না, এমন অভিযোগ উঠেছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্নের মুখে রেলওয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দপ্তর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, ডিভিশনের প্রায় সব কাজেই ডিআরএমকে ২ শতাংশ কমিশন দিতে হয়।

সূত্র জানায়, ঠিকাদারি বিল হোক কিংবা ডিভিশন পর্যায়ের যেকোন প্রশাসনিক আদেশ, সংশ্লিষ্ট ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতে ঘুরতে শেষ পর্যন্ত থেমে যায় অদৃশ্য এক দেয়ালে। সেই দেয়াল ভাঙতে প্রয়োজন অগ্রিম কমিশন। কমিশনের টাকা না দিলে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও ফাইলে স্বাক্ষর করাতে পারেন না ঠিকাদাররা।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে ফাইলের গতি নির্ধারিত হয় কাগজপত্রের মানে নয়, খামের ওজনে। বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়েও আবেদনকারীদের বলা হয়, ‘প্রক্রিয়া চলছে।’ কিন্তু ২ শতাংশ কমিশনের হিসাব না মিললে সেই প্রক্রিয়া আর এগোয় না। কেউ কেউ এটিকে অলিখিত নিয়ম হিসেবে মেনে নিলেও যারা প্রতিবাদ করেন, তাদের ফাইল অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে থাকে।

অভিযোগকারীরা বলছেন, এই কমিশন বাণিজ্য এখন শুধু আর্থিক লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। দপ্তরের নিচের স্তর থেকে ওপর পর্যন্ত নাকি ভাগ নির্ধারিত। ফলে দায় ঘুরে বেড়ালেও কারও কাঁধে স্থায়ীভাবে পড়ে না। অগ্রিম ঘুষ ছাড়া স্বাক্ষর মেলে না, আর স্বাক্ষর না মিললে কাজও হয় না।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে জনস্বার্থে। রেলসেবার উন্নয়ন, অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন—সবই কমিশনের এই চক্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ। ভুক্তভোগীরা নাম প্রকাশে ভয় পাওয়ায় অভিযোগগুলো থেকে যাচ্ছে কথার মধ্যেই, প্রমাণ আসছে না প্রকাশ্যে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা এর আগেও পাহাড়তলী কারখানার তত্ত্বাবধায়ক থাকাকালে বিতর্কে জড়ান। সে সময় তার অফিস দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। নিজের পছন্দের ঠিকাদার ছাড়া অন্য কেউ কাজ পেতেন না। যন্ত্রাংশ ক্রয়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হতো। এমনকি যন্ত্রাংশ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ২ শতাংশ কমিশন আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এতে অনেক সময় নিম্নমানের যন্ত্রাংশ সরবরাহে বাধ্য হতেন ঠিকাদাররা। এসব কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তৎকালীন বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (কারখানা) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ডিআরএম হিসেবে যোগ দেওয়ার পরও তিনি সেই পুরোনো সিস্টেমই বহাল রেখেছেন। সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করছেন বলে দাবি একাধিক ঠিকাদারের।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞার কার্যালয়ে একাধিকবার গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।