বিশ্বনাথে দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৮:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের বিশ্বনাথ দারুল উলুম ইসলামিয়া কামিল (এমএ) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ নুমান আহমদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফি আদায়ের নামে তিনি কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে ২০১৫ সালের ২ জুলাই দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর নুমান আহমদ আরবি প্রভাষক পদে নিয়োগ পান। তবে নিয়োগ পরীক্ষায় ন্যূনতম তিন সদস্যের কোরাম পূরণ না করেই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা স্পষ্টভাবে নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থী। পরবর্তীতে ২০১০ সালে প্রয়োজনীয় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়াই অবৈধ পন্থায় তিনি অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ লাভ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের আনুকূল্যে তিনি সম্পূর্ণ এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে মাদ্রাসার নামে থাকা সঞ্চয়ী ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনা করতেন। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে ‘অন্যান্য খরচ’ খাতে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭০৩ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়, যা তার স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির বড় প্রমাণ বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এছাড়া দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতাদের উপেক্ষা করে মাদ্রাসার গাড়ি ক্রয়সহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তিনি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিজের ইচ্ছামতো নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম ভূমিদাতা কলিমুল্লাহ, পরবর্তী দাতা আসদ্দর আলী এবং প্রতিষ্ঠাতা বড় মৌলভী কাসিম আলী থাকলেও তাদের কার্যত বাদ দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।
এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট সকাল থেকে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছাত্র-জনতা ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে দুপুর ২টার দিকে তিনি মাদ্রাসার সভাপতি বরাবর লিখিতভাবে অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রভাষক মাওলানা নাজিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে নাজিম উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন। বিষয়টি মাইকে ঘোষণা করেন বিশ্বনাথ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দয়াল উদ্দিন তালুকদার।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে সন্ত্রাসী কায়দায় স্বশস্ত্র দলবল নিয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ওপর হামলা চালান। এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা (নং ১০৫/২০২৪) দায়ের করা হয়। গত ১২ জানুয়ারি ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালত, সিলেট তাকে এবং তার সহযোগী ১৭ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে শুনানি গ্রহণ করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বেতন-ভাতা সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মহল ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

















