হলুদ ফুলে ছুয়েছে মাঠ, সরিষার বাম্পার ফলনের আশায় সুন্দরগঞ্জের কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতি জুড়ে বইছে শীতের হাওয়া। আর সেই হাওয়ার মধ্যে সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে সুন্দরগঞ্জের বিস্তৃত মাঠ। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছিরা, আর প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য কৃষকদের মনে এনে দিয়েছে নতুন আশার আলো। এমন চোঁখ জুড়ানো হলুদের মেলা প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপ সাজে। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে গুন গুন করে মধু আহরণে ভিড় করছে মৌমাছিরা।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন সরিষা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে, যা চোখ জুড়িয়ে দেয়। সেইসঙ্গে কৃষকরাও এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন। কৃষকরা জানিয়েছেন, যদি প্রকৃতি সহায়তা করে, তাহলে এই বছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারী) সকালে উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে দেখা যায়।
বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর এলাকার কৃষক আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, গত বছর অল্প কিছু জমিতে সরিষা চাষ করেছিলেন, তবে এবারে প্রায় তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। সেইসঙ্গে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “এখন পর্যন্ত কোনো খারাপ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যদি এরকম থাকে তাহলে এবার বাম্পার ফলন হবে”
তবে একই গ্রামের অন্য এক কৃষক, নজরুল ইসলাম নজু জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন এবং এখন পর্যন্ত ভালো লক্ষণ দেখছেন তিনি। “যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে এবার অনেক লাভবান হতে পারবো। বলা যায়, এ বছর সরিষা চাষে ভালো লাভ হবে আশা করা যায়” বলেন তিনি।
উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের চাচীয়া মীরগঞ্জ এলাকার কৃষক রেজাউল মিয়া জানান, সরিষা চাষের আরেকটি সুবিধা হলো, কম সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় এবং খরচও কম। তিনি বলেন, “যদি মেঘ বৃষ্টি থেকে আল্লাহ আমাদের রক্ষা করেছে, তবে এবারের ফলন আগের যে কোনো বছরের চেয়ে অনেক বেশি হবে।”
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি উপসহকারি কর্মকতা আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, সরিষা চাষের আগেই তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সরিষা চাষের সঠিক পদ্ধতি ও পরিচর্যার প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। “এবার উপজেলা কৃষি অফিসে থেকে সরকারীভাবে সঠিক সময়ে বীজ প্রদান করা হয়েছে, যার ফলে কৃষকরা সরিষা চাষে উৎসাহিত হয়েছেন।”
উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির বলেন, “গত বছর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের টার্গেট ছিল, তবে এবার সেটা বেড়ে ২ হাজার ৮ হেক্টর হয়েছে। মাঠের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, এই টার্গেট ছাড়িয়ে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।”
বর্তমানে আবহাওয়ার পরিস্থিতি যেমন আছে, পরেও এরকম থাকলে সরিষার বাম্পার ফলন হবে। এবারও আমরা বিনামূল্যে কৃষকদের বীজ ও সার দিয়েছি। যার কারণে অনেক কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছে। এবার উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরিষা তেল উৎপাদনের জন্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, এবং এবার সরিষার দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। সরিষা থেকে সহজেই তেল বের করা যায়। সেজন্য সরিষা চাষে দেশের নানা অঞ্চলে আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে বারি-১৪ জাতের সরিষা চাষে ৮০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। তাই সুন্দরগঞ্জের কৃষকদের জন্য এই সরিষা চাষ এক ধরনের সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, যা এলাকার অর্থনৈতিক চেহারা বদলানোর সক্ষমতা রাখে।

















