বরিশাল-২ আসনে সর্বাধিক নয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
- আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে

বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বরিশাল-২ (উজিরপুর ও বানারীপাড়া) আসনে সর্বাধিক নয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া বরিশাল-১ (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) আসনে পাঁচজন, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ ও মুলাদী) আসনে আটজন, বরিশাল-৪ (হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে পাঁচজন, বরিশাল-৫ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে আটজন এবং বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে ছয়জন প্রার্থীসহ মোট ছয়টি সংসদীয় আসনে ৪১ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন কাগজপত্রে অসংগতির কারণে চারজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি ৪ জানুয়ারি রাতে নিশ্চিত করেছেন বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন।
সূত্রমতে, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাসেল সরদার মেহেদী এবং জাতীয় পার্টির ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী।
বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বৈধ প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত আব্দুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ নেছার উদ্দীন, জাতীয় পার্টির (জেপি) আব্দুল হক, জাতীয় পার্টির এম এ জলিল, খেলাফত মজলিসের মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মো. তারিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ এবং এনপিপির সাহেব আলী।
বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ), জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু, মো. ইকবাল হোসেন, ফখরুল আহসান, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, বাসদের মো. আজমুল হাসান জিহাদ এবং গণঅধিকার পরিষদের ইয়ামিন এইচ এম ফারদিনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। দলীয় সিদ্ধান্ত ও আমীরে জামায়াতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত মো. রাজিব আহসান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ জাসদের আব্দুস সালাম খোকন, ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের এবং মুক্তি জোটের আব্দুল জলিলের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বরিশাল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম, বাসদের মনীষা চক্রবর্তী, জাতীয় পার্টির আখতার রহমান, এনপিপির আব্দুল হান্নান সিকদার, এবি পার্টির মো. তারিকুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর মো. সাইদুর রহমানের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।
বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত মো. আবুল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. মাহমুদুন্নবী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের আব্দুল কুদ্দুস, গণঅধিকার পরিষদের মো. সালাউদ্দীন মিঞা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এর আগে প্রাথমিক বাছাইয়ে স্থগিত থাকা বরিশাল-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল-৩ আসনে জাতীয় পার্টির গোলাম কিবরিয়া টিপু ও প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপস এবং বরিশাল-৫ আসনে বাসদ মনোনীত ডা. মনীষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র রবিবার বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন বৈধ হওয়ার পর বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু অভিযোগ করে বলেন, তার মনোনয়ন বাতিলের জন্য নানা চেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা ফিরে পেলেও ভোটের মাঠে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তিনি শঙ্কার কথা জানান।
রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক চূড়ান্তভাবে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন বরিশাল-২ আসনে জাসদের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, বরিশাল-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সাত্তার খান, বরিশাল-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তহিদুল ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের একে এম মাহবুব আলম।
উল্লেখ্য, ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

















