নাগেশ্বরীতে জরিমানা হলেও থামছে না অবৈধ ইটভাটা
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় পরিবেশ ও আইন অগ্রাহ্য করে বছরের পর বছর ধরে দাপটের সঙ্গে চলছে অবৈধ ইটভাটার ব্যবসা। উপজেলার মোট ১৮টি ইটভাটার মধ্যে ১৩টি পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব অবৈধ ইটভাটার অন্তত আটটি ফসলি জমির মাঝখানে, দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সন্নিকটে এবং তিনটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। অধিকাংশ ভাটাই এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোনো আধুনিক বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ছাড়া চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ভাটায় ইট তৈরির জন্য মাটি নির্বিচারে কাটা হচ্ছে এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে কয়লা ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের কাঠ। ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বায়ুদূষণ বাড়ছে এবং স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য ঝুঁকিতে পড়ছে।
হাইকোর্টের নির্দেশনা, জেলা প্রশাসনের তলব এবং একাধিক দফা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান থাকা সত্ত্বেও অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নীরবতা ও দুর্বল তদারকির সুযোগেই ইটভাটাগুলো প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেছেন, বায়ুদূষণ রোধ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ইটভাটার লাইসেন্স বা অনুমোদন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৯ (সংশোধনী) প্রযোজ্য।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন জাহান লুনা জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিয়মিত অভিযান চালানোর জন্য।
এদিকে, জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করীম জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ৭টি অবৈধ ইটভাটাকে ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, জরিমানা হলেও কেন থামছে না অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম।

















