ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি পাঁচ চিকিৎসককে, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিশিগানে আগের দিন ওবামা, পরদিন ট্রাম্প সুন্দরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গাজায় নিজের সেনাসন্তান নিহত হওয়াতেই কি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আইজেনকট বাংলাদেশের শিক্ষক থেকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী, আমার অভিজ্ঞতা পাখি তো আকাশেই সুন্দর রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, তিনজন নিহত মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু অফিস থেকে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন যুবক, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত গুলশান-বনানীর পাঠকদের হাতের নাগালে বইয়ের সম্ভার

গোপনীয় টেন্ডার আহ্বান

নোয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দিনভর অবরুদ্ধ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে টেন্ডার আহ্বান করে কয়েক কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগে নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখেন সাধারণ ঠিকাদাররা।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ে ঠিকাদারদের অবরোধের মুখে পড়েন তিনি। এ সময় ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, ডানিডার একটি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জনস্বাস্থ্য বিভাগের গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব সামগ্রী বিক্রির জন্য অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বানের নামে স্বল্পপ্রচলিত একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যাতে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারেন। এই সুযোগে সংশ্লিষ্ট এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহনাজের কাছে পানির দরে সামগ্রীগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

সূত্র জানায়, দরপত্রের পরপরই রাতারাতি ওই নির্মাণসামগ্রী গুদাম থেকে সরিয়ে চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় মজুত করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে জেলার সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরই ঠিকাদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দুর্নীতি, লোভ ও অদক্ষতার কারণে জনস্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে, ফলে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে জেলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। এছাড়া মোটা অঙ্কের কমিশন না পেলে অনেক দরপত্রের কার্যাদেশ সময়মতো না দেওয়ায় একাধিক প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, গুদামের মালামাল তিনি নিলাম দেননি। নিলাম প্রক্রিয়াটি ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গোপনীয় টেন্ডার আহ্বান

নোয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দিনভর অবরুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে টেন্ডার আহ্বান করে কয়েক কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগে নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখেন সাধারণ ঠিকাদাররা।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ে ঠিকাদারদের অবরোধের মুখে পড়েন তিনি। এ সময় ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, ডানিডার একটি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জনস্বাস্থ্য বিভাগের গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব সামগ্রী বিক্রির জন্য অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বানের নামে স্বল্পপ্রচলিত একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যাতে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারেন। এই সুযোগে সংশ্লিষ্ট এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহনাজের কাছে পানির দরে সামগ্রীগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

সূত্র জানায়, দরপত্রের পরপরই রাতারাতি ওই নির্মাণসামগ্রী গুদাম থেকে সরিয়ে চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় মজুত করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে জেলার সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরই ঠিকাদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দুর্নীতি, লোভ ও অদক্ষতার কারণে জনস্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে, ফলে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে জেলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। এছাড়া মোটা অঙ্কের কমিশন না পেলে অনেক দরপত্রের কার্যাদেশ সময়মতো না দেওয়ায় একাধিক প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, গুদামের মালামাল তিনি নিলাম দেননি। নিলাম প্রক্রিয়াটি ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।