ঢাকা ০১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

গোপনীয় টেন্ডার আহ্বান

নোয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দিনভর অবরুদ্ধ

নোয়াখালী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে টেন্ডার আহ্বান করে কয়েক কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগে নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখেন সাধারণ ঠিকাদাররা।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ে ঠিকাদারদের অবরোধের মুখে পড়েন তিনি। এ সময় ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, ডানিডার একটি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জনস্বাস্থ্য বিভাগের গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব সামগ্রী বিক্রির জন্য অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বানের নামে স্বল্পপ্রচলিত একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যাতে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারেন। এই সুযোগে সংশ্লিষ্ট এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহনাজের কাছে পানির দরে সামগ্রীগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

সূত্র জানায়, দরপত্রের পরপরই রাতারাতি ওই নির্মাণসামগ্রী গুদাম থেকে সরিয়ে চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় মজুত করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে জেলার সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরই ঠিকাদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দুর্নীতি, লোভ ও অদক্ষতার কারণে জনস্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে, ফলে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে জেলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। এছাড়া মোটা অঙ্কের কমিশন না পেলে অনেক দরপত্রের কার্যাদেশ সময়মতো না দেওয়ায় একাধিক প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, গুদামের মালামাল তিনি নিলাম দেননি। নিলাম প্রক্রিয়াটি ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গোপনীয় টেন্ডার আহ্বান

নোয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দিনভর অবরুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৫:০৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে গোপনীয়ভাবে টেন্ডার আহ্বান করে কয়েক কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী নামমাত্র মূল্যে বিক্রির অভিযোগে নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামকে দিনভর অবরুদ্ধ করে রাখেন সাধারণ ঠিকাদাররা।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ে ঠিকাদারদের অবরোধের মুখে পড়েন তিনি। এ সময় ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং তিনি অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, ডানিডার একটি প্রকল্পের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জনস্বাস্থ্য বিভাগের গুদামে সংরক্ষিত ছিল। এসব সামগ্রী বিক্রির জন্য অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কথিত দরপত্র আহ্বানের নামে স্বল্পপ্রচলিত একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যাতে অধিকাংশ ঠিকাদার বিষয়টি জানতে না পারেন। এই সুযোগে সংশ্লিষ্ট এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহনাজের কাছে পানির দরে সামগ্রীগুলো বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

সূত্র জানায়, দরপত্রের পরপরই রাতারাতি ওই নির্মাণসামগ্রী গুদাম থেকে সরিয়ে চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় মজুত করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে জেলার সাধারণ ঠিকাদারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তারা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরই ঠিকাদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে তাকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের দুর্নীতি, লোভ ও অদক্ষতার কারণে জনস্বাস্থ্য বিভাগের একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৯০ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে, ফলে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে জেলার সুবিধাবঞ্চিত মানুষ। এছাড়া মোটা অঙ্কের কমিশন না পেলে অনেক দরপত্রের কার্যাদেশ সময়মতো না দেওয়ায় একাধিক প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, গুদামের মালামাল তিনি নিলাম দেননি। নিলাম প্রক্রিয়াটি ঢাকায় সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।