সরিষায় সম্ভাবনার হলুদ মাঠ, মেলান্দহে চাষ ছাড়াল লক্ষ্যমাত্রা
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় সরিষা চাষে ক্রমবর্ধমান আগ্রহের কারণে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ ও অনুকূল আবহাওয়ায় এবার সরিষার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ মৌসুমে মেলান্দহে সরিষা চাষের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ১২০ হেক্টর। কিন্তু আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৬ হাজার ৫০০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬ হাজার ৫৭০ হেক্টর এবং ২০২৪ সালে ৬ হাজার ৯০০ হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৬ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। এর ফলে গত তিন বছরে মোট ৩৪২ হেক্টর অতিরিক্ত জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে।
উপজেলায় বারি-১৪, বারি-১৫, বিনা-৯, বিনা-১১ ও টরি-৭ জাতের সরিষা চাষ হচ্ছে। এর মধ্যে দ্রুত ঘরে তোলা যায় এমন বারি-১৪ জাতের সরিষা সবচেয়ে বেশি আবাদ হচ্ছে। বীজ বপনের ৭৫–৮০ দিনের মধ্যে এই জাতের সরিষা সংগ্রহ করা যায়। অন্যদিকে বিনা জাতের সরিষা তুলতে লাগে ১০৫–১১০ দিন।
ক্ষেতের দৃশ্যলাভ করতে প্রতিদিনই হাজারো দর্শনার্থী ঝাউগড়া ইউনিয়নের শেখসাদী রৌসারি বিল এবং চরবানিপাকুরিয়া ইউনিয়নের বাকাই ও শিহুরীর বিস্তীর্ণ মাঠে ছড়িয়ে থাকা হলুদ সরিষার ফুল দেখতে আসছেন। কেউ খেতের আইলে বসে ছবি ও ভিডিও তুলছেন, আবার কেউ সরিষার মধু সংগ্রহের জন্য মাঠের পাশে মৌ-বাক্স স্থাপন করেছেন।
শেখসাদী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাস জানান, সরিষা চাষে সময় ও খরচ কম লাগে, ফলন ও বাজারদর ভালো পাওয়া যায়। সরিষার তেল খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়, খৈল গো-খাদ্য ও জৈবসারের উৎস হিসেবে কাজে লাগে, এমনকি শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য। এ সব কারণে প্রতিবছরই তারা সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, এবার মেলান্দহে মোট ৭ হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। ৫ হাজার ৩০০ জন সরিষা চাষির মধ্যে বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারের সরিষা উৎপাদন চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্য হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

















