ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি রিজভীর সঙ্গে শুভ্রর সৌজন্য সাক্ষাৎ

শীতের ছোঁয়ায় চান্দার বিলে পাখির কলরব

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের আগমনে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে দূর-দূরান্ত থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে বিলপাড়ের চারপাশ। জল, আকাশ আর নীরবতার মেলবন্ধনে সৃষ্টি হচ্ছে এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

প্রকৃতিবিদদের মতে, নিজ দেশে তীব্র শীত, খাদ্য সংকট ও অনুকূল পরিবেশের অভাব দেখা দিলে পাখিরা অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও নিরাপদ অঞ্চলের খোঁজে পাড়ি জমায়। নাতিশীতোষ্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিবছরই পরিযায়ী ও অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসা এসব পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, মানুষের বিনোদন ও আনন্দেরও বড় উৎস হয়ে ওঠে।

শীত মৌসুমজুড়ে চান্দার বিলে অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ চোখে পড়লেও স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

সমাজসেবী আবির আহম্মেদ মিজু বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, পাখির প্রতি অমানবিক আচরণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। একসময় মাঠে-ঘাটে, ক্ষেতে-খামারে যেসব পাখির সরব উপস্থিতি ছিল, এখন তাদের অনেককেই আর দেখা যায় না।

গ্রামের আনাচে-কানাচে একসময় দোয়েল, টুনটুনি, শালিক, ঘুঘু, বাবুই, কোকিল, কাঠঠোকরা, মাছরাঙা, বক, ডাহুক, পানকৌড়ি, চিল কিংবা প্যাঁচার কোলাহল শোনা যেত। কিন্তু নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে পাখিদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিথি পাখিরা সাধারণত নিরিবিলি ও নিরাপদ এলাকা বেছে নেয়। কিন্তু খাদ্য সংকট, পরিবেশ দূষণ ও শিকারিদের উৎপাতের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের আগমন কমে গেছে। পাখি শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বাস্তবে আইন প্রয়োগ এখনও দুর্বল।

প্রতি বছর তীব্র শীত ও খাদ্যের সন্ধানে হিমালয়, সাইবেরিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন বরফাচ্ছন্ন অঞ্চল থেকে এসব পাখি বাংলাদেশে আসে। এ সময় চান্দার বিলে বালি হাঁস, কুস্তি হাঁস, জিরিয়া হাঁস, পাতারি হাঁস, নীলশির, ধূসর বক, জলময়ূর, ডুবুরি, পানকৌড়ি, গঙ্গা কবুতর, দলপিপি ও রাজসরালিসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখির দেখা মেলে।

অতিথি পাখিরা যেভাবেই আসুক, তারা বাংলাদেশের প্রকৃতিকে করে তোলে আরও জীবন্ত ও মনোমুগ্ধকর। তবে আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট ও বন উজাড় অব্যাহত থাকলে একদিন শীতের চান্দার বিল হারিয়ে ফেলতে পারে তার চিরচেনা পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ। তাই পরিযায়ী ও অতিথি পাখি রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রকৃতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল আচরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

শীতের ছোঁয়ায় চান্দার বিলে পাখির কলরব

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

শীতের আগমনে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চান্দার বিল যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে দূর-দূরান্ত থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসছে নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। তাদের কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে বিলপাড়ের চারপাশ। জল, আকাশ আর নীরবতার মেলবন্ধনে সৃষ্টি হচ্ছে এক অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

প্রকৃতিবিদদের মতে, নিজ দেশে তীব্র শীত, খাদ্য সংকট ও অনুকূল পরিবেশের অভাব দেখা দিলে পাখিরা অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও নিরাপদ অঞ্চলের খোঁজে পাড়ি জমায়। নাতিশীতোষ্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিবছরই পরিযায়ী ও অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়। হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসা এসব পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, মানুষের বিনোদন ও আনন্দেরও বড় উৎস হয়ে ওঠে।

শীত মৌসুমজুড়ে চান্দার বিলে অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ চোখে পড়লেও স্থানীয়দের মতে, আগের তুলনায় পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

সমাজসেবী আবির আহম্মেদ মিজু বলেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, পাখির প্রতি অমানবিক আচরণ এবং আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে অনেক প্রজাতির পাখি বিলুপ্তির পথে। একসময় মাঠে-ঘাটে, ক্ষেতে-খামারে যেসব পাখির সরব উপস্থিতি ছিল, এখন তাদের অনেককেই আর দেখা যায় না।

গ্রামের আনাচে-কানাচে একসময় দোয়েল, টুনটুনি, শালিক, ঘুঘু, বাবুই, কোকিল, কাঠঠোকরা, মাছরাঙা, বক, ডাহুক, পানকৌড়ি, চিল কিংবা প্যাঁচার কোলাহল শোনা যেত। কিন্তু নির্বিচারে গাছপালা কাটার ফলে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে পাখিদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, অতিথি পাখিরা সাধারণত নিরিবিলি ও নিরাপদ এলাকা বেছে নেয়। কিন্তু খাদ্য সংকট, পরিবেশ দূষণ ও শিকারিদের উৎপাতের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের আগমন কমে গেছে। পাখি শিকার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও বাস্তবে আইন প্রয়োগ এখনও দুর্বল।

প্রতি বছর তীব্র শীত ও খাদ্যের সন্ধানে হিমালয়, সাইবেরিয়া, রাশিয়া, ফিনল্যান্ডসহ বিভিন্ন বরফাচ্ছন্ন অঞ্চল থেকে এসব পাখি বাংলাদেশে আসে। এ সময় চান্দার বিলে বালি হাঁস, কুস্তি হাঁস, জিরিয়া হাঁস, পাতারি হাঁস, নীলশির, ধূসর বক, জলময়ূর, ডুবুরি, পানকৌড়ি, গঙ্গা কবুতর, দলপিপি ও রাজসরালিসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখির দেখা মেলে।

অতিথি পাখিরা যেভাবেই আসুক, তারা বাংলাদেশের প্রকৃতিকে করে তোলে আরও জীবন্ত ও মনোমুগ্ধকর। তবে আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট ও বন উজাড় অব্যাহত থাকলে একদিন শীতের চান্দার বিল হারিয়ে ফেলতে পারে তার চিরচেনা পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ। তাই পরিযায়ী ও অতিথি পাখি রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রকৃতির প্রতি আরও দায়িত্বশীল আচরণ।