ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

বাকেরগঞ্জ থানার এসআই আবুল কালামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে তিনি অর্থ ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেন না।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে জানান, গত ৭ জুলাই রাতে তার বাড়ি থেকে চারটি গরু চুরি হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তে যান এসআই আবুল কালাম আজাদ। পরবর্তীতে গরু চুরির ঘটনাটি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা গ্রহণের সময় এসআই আবুল কালাম আজাদ ৫ হাজার টাকা দাবি করেন, যা দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর মামলার তদন্তের বিভিন্ন ধাপে ১ হাজার টাকা করে আরও ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

দিলীপ চন্দ্র দাস আরও অভিযোগ করেন, আসামিদের কললিস্ট বের করার কথা বলে তার কাছ থেকে আরও ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলে অনেক অনুরোধের পর ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর এসআই আবুল কালাম আজাদ গরু চুরির মামলার একটি ‘মিথ্যা’ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেন, যেখানে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন দিলীপ।

এছাড়াও তিনি জানান, গরু চুরির ঘটনার কয়েকদিন পর ১১ জুলাই গভীর রাতে তার খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় করা দ্বিতীয় মামলার তদন্তভারও পান এসআই আবুল কালাম আজাদ। সেই মামলাতেও তদন্তের নামে বিভিন্ন সময় ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, দুই মামলায় মোট প্রায় ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

দিলীপ চন্দ্র দাসের স্ত্রী মাধবী বলেন, ‘আমাদের দুটি মামলায় যতবার এসআই আবুল কালাম তদন্তে এসেছে, ততবারই টাকা দিতে হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও আসামিদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে। এখন আসামিরা আমাদের নানা হুমকি দিচ্ছে। আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নেই। আমাদের কোনো ক্ষতি হলে এর দায় এসআই আবুল কালাম আজাদকেই নিতে হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, আসামি গ্রেপ্তার না করা কিংবা তদন্তে প্রভাব খাটানোর জন্য এসআই আবুল কালাম আজাদ নিয়মিতভাবে ঘুষ নেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি করা হয় কিংবা অভিযোগ গুরুত্বহীন করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, তদন্তে এলেই তিনি সরাসরি টাকা দাবি করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এসব অনিয়মের কারণে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে এসআই আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দিলীপ আমার বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য দেবে, তা আমি বুঝতে পারিনি। তাদের আরেকটি মামলা এখনও আমার তদন্তাধীন রয়েছে।’ টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, ‘এসআই আবুল কালাম আজাদকে টাকা দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগের কোনো প্রমাণ আছে কি না, সেটাই প্রশ্ন। পুলিশের বিরুদ্ধে এমন মৌখিক অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

বাকেরগঞ্জ থানার এসআই আবুল কালামের বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও মামলার ক্ষেত্রে তিনি অর্থ ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেন না।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে জানান, গত ৭ জুলাই রাতে তার বাড়ি থেকে চারটি গরু চুরি হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তে যান এসআই আবুল কালাম আজাদ। পরবর্তীতে গরু চুরির ঘটনাটি মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলা গ্রহণের সময় এসআই আবুল কালাম আজাদ ৫ হাজার টাকা দাবি করেন, যা দিতে বাধ্য হন তিনি। এরপর মামলার তদন্তের বিভিন্ন ধাপে ১ হাজার টাকা করে আরও ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

দিলীপ চন্দ্র দাস আরও অভিযোগ করেন, আসামিদের কললিস্ট বের করার কথা বলে তার কাছ থেকে আরও ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলে অনেক অনুরোধের পর ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর এসআই আবুল কালাম আজাদ গরু চুরির মামলার একটি ‘মিথ্যা’ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দেন, যেখানে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন দিলীপ।

এছাড়াও তিনি জানান, গরু চুরির ঘটনার কয়েকদিন পর ১১ জুলাই গভীর রাতে তার খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় করা দ্বিতীয় মামলার তদন্তভারও পান এসআই আবুল কালাম আজাদ। সেই মামলাতেও তদন্তের নামে বিভিন্ন সময় ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, দুই মামলায় মোট প্রায় ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

দিলীপ চন্দ্র দাসের স্ত্রী মাধবী বলেন, ‘আমাদের দুটি মামলায় যতবার এসআই আবুল কালাম তদন্তে এসেছে, ততবারই টাকা দিতে হয়েছে। আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েও আসামিদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের অব্যাহতি দিয়েছে। এখন আসামিরা আমাদের নানা হুমকি দিচ্ছে। আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নেই। আমাদের কোনো ক্ষতি হলে এর দায় এসআই আবুল কালাম আজাদকেই নিতে হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, আসামি গ্রেপ্তার না করা কিংবা তদন্তে প্রভাব খাটানোর জন্য এসআই আবুল কালাম আজাদ নিয়মিতভাবে ঘুষ নেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি করা হয় কিংবা অভিযোগ গুরুত্বহীন করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, তদন্তে এলেই তিনি সরাসরি টাকা দাবি করেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এসব অনিয়মের কারণে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে এসআই আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দিলীপ আমার বিরুদ্ধে এমন বক্তব্য দেবে, তা আমি বুঝতে পারিনি। তাদের আরেকটি মামলা এখনও আমার তদন্তাধীন রয়েছে।’ টাকা লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাতে কথা বলার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার কে এম সোহেল রানা বলেন, ‘এসআই আবুল কালাম আজাদকে টাকা দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগের কোনো প্রমাণ আছে কি না, সেটাই প্রশ্ন। পুলিশের বিরুদ্ধে এমন মৌখিক অভিযোগ অনেকেই করে থাকেন।’