নৈতিকতা বজায় রেখে সরকারের সমালোচনা করাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব: প্রিন্স
- আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, কথার মানদণ্ড ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রেখে সরকারের সমালোচনা করাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। সরকারের ভুল, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ব্যর্থতা তুলে ধরা কোনো অপরাধ নয়; বরং সেটিই গণতন্ত্রের শক্তি। যেখানে সাংবাদিকদের কলম থেমে যায়, সেখানেই স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হয়।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভয়ভীতি ও তোষামোদ দিয়ে কখনোই বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। যে সাংবাদিক সত্য লিখবেন এবং জনগণের পক্ষে দাঁড়াবেন, তার পাশে রাষ্ট্রকেই দাঁড়াতে হবে। বিএনপি সেই রাষ্ট্র গড়তে চায়।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে গণতন্ত্রকে অর্থবহ করা হবে। সত্য লেখার কারণে কোনো সাংবাদিক যেন মামলা, হয়রানি বা নিপীড়নের শিকার না হন, সে জন্য আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দেওয়া হবে। বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রাষ্ট্রীয়ভাবে রক্ষা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দলবাজি বা প্রশাসনের তোষামোদ করার প্রয়োজন নেই। সাংবাদিকরা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করবেন। সাংবাদিকরা কারও রাখাল নন; তারা সত্যের পাহারাদার।
প্রিন্স বলেন, এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বেকারত্ব, দারিদ্র্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংকটসহ স্থানীয় সমস্যাগুলো সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদপত্রে তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, মাদক, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি ও সব ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ভূমিকা হতে হবে আপসহীন। প্রশাসন বা ক্ষমতাবানদের ভয় পেয়ে নয়; জনগণের শক্তি নিয়েই সাংবাদিকতা চলবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি মুক্তবুদ্ধির চর্চা, স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়াও তার শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেই গণতান্ত্রিক ধারাই ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবেন।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশ ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে এবং গণতন্ত্র প্রায় ধ্বংসপ্রায়। এই অবস্থা থেকে দেশকে স্থিতিশীলতায় ফিরিয়ে আনতে, সামাজিক সৌহার্দ্য ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং একটি নতুন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজন একটি দক্ষ, যোগ্য ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ সরকার।
ধোবাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আবুল হাসেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মফিজ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মতিলাল সরকার, যুগ্ম সম্পাদক ফজলুল হক, ইত্তেফাক প্রতিনিধি শাহিনুজ্জামান প্রিন্স, দৈনিক সংবাদ প্রতিনিধি সামসুল হক মৃধা, কোষাধ্যক্ষ কামরুল ইসলাম আমির, সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল হক ফকির, দপ্তর সম্পাদক উমর আলী, বার্তা সম্পাদক আনিসুর রহমান ও প্রচার সম্পাদক আব্দুল মতিনসহ অন্যান্যরা।

















