জলঢাকায় পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৯:১৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

জলঢাকায় পুকুর থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার, বাবার অভিযোগ মাকে হত্যা
লতিফুর রহমান, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় পুকুর থেকে খাদিজা নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নালার পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খাদিজাকে নিয়ে তাঁর মা রেজিনা বেগম ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন করার জন্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মা-মেয়ে সাজগোজ করে বের হওয়ার সময় খাদিজাকে দেখতে না পেয়ে রেজিনা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বাড়ির আশপাশে ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও শিশুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এর মধ্যে বাড়ির পাশের বোমা মেশিন দিয়ে খনন করা একটি পুকুরে শিশুটি পড়ে গেছে—এমন ধারণা করেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। পরে আহের আলীর ছেলে ফেরদৌস (১৭), মিস্টার রহমানের ছেলে রিপন আলী (১৫) ও মিস্টার রহমানসহ কয়েকজন পুকুরে নেমে প্রায় ছয় ফুট পানির নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
পরে মরদেহটি বাড়ির আঙিনায় একটি ছোট খাটের ওপর রাখা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে ভিড় করেন।
তবে শিশুটির মৃত্যুকে নিছক পানিতে ডুবে যাওয়া হিসেবে মানতে নারাজ তার বাবা আজহারুল হক। তিনি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তাঁর অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটির মা খাদিজাকে হত্যা করে মরদেহ পুকুরে ফেলে দিয়েছেন।
শিশুটির চাচা জানান, প্রায় দুই মাস ধরে খাদিজার বাবা-মায়ের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এ কারণে খাদিজাকে নিয়ে তার মা বাবার বাড়িতে (শিশুটির নানার বাড়ি) বসবাস করছিলেন।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। খবর পেয়ে পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।’
জলঢাকা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুটির বাবা ঢাকায় রয়েছেন। তিনি আসার পর তাঁর বক্তব্য নেওয়া হবে। এরপর তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























