জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস, আতঙ্কে ২০০ শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ০৯:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল দক্ষিণ পাইটকা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে বেরিয়ে এসেছে রড। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার হয়নি। ফলে বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন অংশ নাজুক হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দেয়াল ও ছাদের ফাটল এবং পলেস্তারা খসে পড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা জানান, জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করতে গিয়ে সব সময়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয়। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিদ্যালয়টি প্রায় এক একর জমির ওপর অবস্থিত হলেও সেখানে নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকটও রয়েছে। ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন পাঁচজন শিক্ষক। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনাতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির ভবনের অবস্থা নাজুক হলেও কার্যকর সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁরা বলেন, দুর্ঘটনা ঘটার আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিকল্প নিরাপদ স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
জলঢাকা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ভবনটির বর্তমান অবস্থা এবং নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা জানা প্রয়োজন।
অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিকল্প কোনো নিরাপদ স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

























