‘ছেলে মাদকসহ আটক’ বলে ফোন, ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া চক্রের ২ জন গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৫:২৩:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নয়টি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট ও নগদ ১৪ হাজার ১০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এসআরবি-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন গোবিন্দগঞ্জ থানার দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আইদুল হোসেনের ছেলে সোহেল মণ্ডল (২৭) ও হাসেম আলীর ছেলে হেলাল ইসলাম (২২)।
এসআরবি জানায়, গত ২০ জুলাই নাটোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত মো. আমিনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করে জানানো হয়, তার ছেলে তামিম আল মাহী কয়েকজন বন্ধুসহ মাদক নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। এ সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ছেলের কণ্ঠসদৃশ কণ্ঠে কথা বলে প্রতারকরা আমিনুল ইসলামের বিশ্বাস অর্জন করে। ছেলেকে ছাড়াতে টাকা প্রয়োজন বলে জানালে প্রতারকদের চাহিদা অনুযায়ী দুই দফায় নগদের মাধ্যমে মোট ৪০ হাজার টাকা দেন তিনি।
পরে ছেলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন আমিনুল ইসলাম। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর নাটোর সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৫৯।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলার পর এসআরবি-১৩ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে প্রতারক চক্রটিকে শনাক্তের চেষ্টা চালায়। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এসআরবি-১৩ এর সিপিসি-৩ গাইবান্ধার একটি আভিযানিক দল গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। পরে নিজ নিজ বাড়ি থেকে সোহেল মণ্ডল ও হেলাল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, ‘সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, প্রতারণা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ নির্মূল এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

























