৯ জনকে কামড়ানো সেই শিয়ালের মাথা গেল পরীক্ষাগারে
- আপডেট সময় : ১১:০৩:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে লোকালয়ে ঢুকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জনকে কামড়ে আহত করা সেই শিয়ালের শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু ছিল কি না, তা জানতে তার মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নমুনাটি কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠিয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা ও জিগাবাড়ী এলাকায় হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে শিয়ালটি। এরপর পথচারী ও বাড়ির আশপাশে থাকা মানুষের ওপর একের পর এক হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিয়ালের কামড়ে আহত হন শিশু, নারী ও পুরুষসহ ৯ জন। পরে স্থানীয়রা শিয়ালটিকে ধরে মেরে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রাখেন।
আহতরা হলেন, তালুক বেলকা গ্রামের মো. জমশের আলীর স্ত্রী মোছা. নিলি বেগম (৪০), মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. সাদেক হোসেন (৭০), মো. আব্দুল হান্নান মিয়ার স্ত্রী মোছা. আফরুজা বেগম (৩৭) ও মো. শফিউল ইসলামের ছেলে মো. শাওন মিয়া (৬)। জিগাবাড়ী গ্রামের আহতরা হলেন মো. মুকুল মিয়ার স্ত্রী মোছা. রাবেয়া বেগম (৩৮), তার ছেলে মো. রাকিবুল হাসান (১৩), মো. ইয়াকুব আলীর ছেলে মো. এনামুল হক (২৬), মো. আব্দুল আহাদ আলীর মেয়ে মোছা. আয়শা আক্তার (৩) ও মো. আব্দুর রহিমের ছেলে মো. হাসান মিয়া (৭)।
শিয়ালের হামলায় আহতরা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। পরে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিদর্শন করে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত ৯ জনকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এর মধ্যে নিলি বেগমকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা এবং বাকি আটজনকে ৪ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
শিয়ালটি মারা যাওয়ার পরও শেষ হয়নি ঘটনাটির উদ্বেগ। প্রাণীটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শিয়ালটির মাথা সংগ্রহ করে নমুনা পরীক্ষার উদ্যোগ নেন।
বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ বলেন, ‘শিয়ালটি মেরে ফেলার পর নির্জন স্থানে ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে রাতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের লোকজন এসে সেটির মাথা কেটে নিয়ে যান। বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।’
নমুনা সংগ্রহকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিয়ালটি খুঁজে বের করি। পরে সেটির মাথা কেটে নিই এবং বাকি অংশ মাটিতে পুঁতে রাখি। এ সময় বেলকা ইউনিয়নের ভ্যাকসিনেটর, এআই টেকনিশিয়ান ও স্থানীয় লোকজন সঙ্গে ছিলেন।’
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন শিয়ালটির মাথা কেটে নিয়ে আসেন। শিয়ালটির কাটা মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিয়ালটির শরীরে জলাতঙ্কের জীবাণু আছে কি না, সেটি নিশ্চিত হতেই নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। শিয়ালের কামড়ে আহত ৯ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তাদের আর কোনো সমস্যা নেই, ইনশাআল্লাহ।’


















